এই সময়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এই সময়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যিশু খ্রিস্টের মতোই পালাতে বাধ্য : কিছু উপলব্ধি ও কিছু সুপারিশ


ক. পোপ ফ্রান্সিস এর বাণী'র আলোকে কিছু উপলব্ধি

পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস গৃহহারা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের যারা সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সংগঠিত করছেন তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং আগামী রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দে ‘১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস’ উদযাপনের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান রেখেছেন। এ দিবসের মূল প্রতিবাদ্য বিষয় হিসেবে নিয়েছেন- অভিবাসী ভাইবোনেরা "যিশু খ্রিস্টের মতোই পালাতে বাধ্য" (“Like Jesus Christ, Forced to flee”)। শিশু যিশু পিতামাতার সাথে মিশরে যাওয়ার সময় শরণার্থী হিসেবে করুন পরিণতির অভিজ্ঞতা করেছেন। যা ভয়, অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় (মথি ২:১৩-২৩) । বর্তমান সময়ে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী পরিবার একই দুঃখময় বাস্তবতা অতিক্রম করছে। যা আমরা অবিরত টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি। তারা ক্ষুধা, যুদ্ধ ও ভয়াবহ বিপদ থেকে পালিয়ে পরিবারের সুরক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সন্ধান করছে। রাজা হেরোদের নিকট থেকে যিশুই জীবন বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ক্ষুধার্ত, তৃর্ঞ্চাত, বস্ত্রহীন, অসুস্থ, অপরিচিত এবং বন্দীদের মধ্যে খ্রিস্টের প্রতিচ্ছবি রয়েছে এবং তারা আমাদের কাছে সাহায্য চায় (মথি ২৫:৩১-৪৬)। সেই মুখগুলিকে চিনতে পারলে তখনই মাত্র তাদের দেখতে, ভালবাসতে এবং সেবা করতে সক্ষম হতে পারি। পোপ মহোদয় বলেছেন- যদিও আমাদের দৃষ্টিতে তাদের চিনতে পারা খুব কঠিন হয়ে পড়ে- তাদের বস্ত্র ছিন্ন, পা নোংরা, চেহারা মলিন, দেহ অবসন্ন, জিহ্বা আমাদের ভাষায় কথা বলতে পারেনা। 

পোপ ফ্রান্সিস ২০১৮ সালের অভিবাসী এবং শরনার্থীদের পালকীয় সেবা কাজে চারটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন- তাদের  স্বাগত জানানো, সুরক্ষা দেয়া, সংবর্ধিত করা ও সংযুক্ত করা । ২০২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি আরও ছয়টি বিষয় যুক্ত করেছেন যা বাস্তব কাজের সাথে সমন্বিত এবং কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত- যেমন: (১) বুঝার জন্য তাদের জানতে  হবে; (২) সেবার জন্য তাদের কাছে যেতে হবে; (৩) পুনর্মিলনের জন্য তাদের কথা শোনতে হবে; (৪) বেড়ে ওঠার জন্য তাদের সাথে সহভাগিতা করতে হবে; (৫) সংবর্ধিত করার জন্য তাদের সংযুক্ত করতে হবে এবং (৬) গঠনদানে জন্য তাদের সহযোগিতা করতে হবে । এ বিষয়সমূহ অনুধ্যান করে আভিবাসী, উদ্বাস্তু, বাস্তুচ্যুত বা শরণার্থী ভাইবোনদের চিনতে, জানতে ও দয়ার কাজ করতে সক্ষম হতে পারি।

১.  বুঝার জন্য তাদের জানতে  হবে 

জ্ঞান হলো আগামী দিনে অন্যকে জানার প্রয়োজনীয় একটি ধাপ। এম্মাউস পথে যিশু নিজেই শিষ্যদের কাছে এসেছেন, একত্রে কথোপকথন করেছেন, তাদের সাথে সাথে পথ চলেছেন কিন্তু তাদের চোখ তাকে চিনতে পারেনি (লুক ২৪:১৫-১৬)। অভিবাসী এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কথা বলার সময় প্রায়ই তাদের সংখ্যা জেনে থেমে যাই কিন্তু এটা শুধু সংখ্যার বিষয় নয় বরং এটি প্রকৃতভাবেই মানুষের বিষয়। আমরা যদি বাস্তুচ্যুত গৃহহীন মানুষের মুখোমুখি হই তাহলে আমরা তাদের গল্পগুলি জানতে পারবো এবং তাদের আরোও বেশী বুঝতে সক্ষম হবো। 

২. সেবার জন্য তাদের কাছে যেতে হবে

পবিত্র বাইবেলে পাঠ করে থাকি- কিন্তু একজন সামারীয় পথিক যেতে যেতে একজন পথিককে দেখতে পেল, তাকে দেখে তার করুণা হলো এবং সে তার ক্ষতগুলি বেঁধে দিল ও ক্ষত স্থানে তেল ও দ্রাক্ষারস মাখিয়ে দিল। সে তাকে তার বাহনে চড়িয়ে একটি সেবাকেন্দ্রে নিয়ে গেল এবং তাকে সেবাযত্ন করতে লাগল (লুক ১০:২৫-৩৭)। ভয় ও কুসংস্কার অভিবাসীদের থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখে এবং প্রায় সময়ই প্রতিবেশী হয়ে তাদের সেবা করতে ও ভালবাসতে বাঁধা প্রদান করে। অন্যের কাছাকাছি আসার অর্থ হলো অন্যের জন্য ঝুঁকি নেওয়া যা সম্প্রতি মাসগুলিতে ডাক্তার নার্সরা আমাদের শিখিয়েছেন। তাদের কাছে যাওয়া এবং সেবা করার প্রস্তুতি নিছক কর্তব্যবোধের বাইরে। যীশু আমাদের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ দিয়েছেন যখন তিনি তাঁর শিষ্যদের হাত ধুয়ে দিলেন- তিনি তার জামাটা খুলে ফেললেন, হাটু গেড়ে বসলেন এবং নিজ হাতে তাদের ময়লা পা পরিস্কার করলেন (যোহন ১৩:১-১৭)। 

৩. পুনর্মিলনের জন্য তাদের কথা শোনতে হবে

মানুষের কান দিয়ে যিশু খ্রিস্ট মানব আর্তনাদের কথা শুনেছেন- ঈশ্বর পৃথিবীকে এতই ভালবাসলেন যে তিনি তার একমাত্র পুত্রকে দান করলেন যেন এই পৃথিবী তার মধ্য দিয়ে রক্ষা পায় (যোহন ৩:১৬-১৭)। একটি ভালবাসা যা মিলন ও রক্ষা করে তা শোনা’র মধ্য দিয়েই শুরু হয়। বর্তমান পৃথিবীতে অভিবাসীদের সম্পর্কে বহুবিধ আলোচনা হচ্ছে কিন্তু তাদের কথা শোনার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও আমরা নম্রভাবে এবং মনোযোগ সহকারে তাদের গল্প শুনে সত্যিকার অর্থে মিলিত হতে পারি। পুনর্মিলনের জন্য পৃথিবীতে যারা দূর্বল, যারা বাস্তুচ্যুত এবং দুর্দশাগ্রস্থ সেই সকল মানুষের কথা আমাদের শুনতে হবে। গল্প-শোনা অভ্যাস আমাদেরকে প্রতিবেশীদের, বঞ্চিতদের এবং ঈশ্বরের সাথে মিলনের সুযোগ করে দেয়। 

 ৪. বেড়ে ওঠার জন্য তাদের সহভাগিতা করতে হবে

 আদি খ্রিস্টমণ্ডলীতে সহভাগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা দৃষ্টান্ত। তখন বিশ্বাসী সমাজে সবাই ছিলেন একমন একপ্রান, তারা কেউই কোন জিনিসকে তাদের নিজেদের বলে দাবী করতেন না কিন্তু সবকিছুই তাদের নিজেদের সম্পত্তি ছিল (শিষ্যচরিত ৪:৩২)। ঈশ্বর এই পৃথিবীর সম্পদকে কখনই কিছু মানুষের সুবিধার জন্য দিয়ে দেননি। এই সবই হলো ঈশ্বরের সম্পদ। একে অপরের বেড়ে উঠার জন্য সহভাগিতা করা আমাদের শিখতে হবে এবং কেউই যেন পিছনে পড়ে না থাকে। মহামারী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে আমরা সবাই একই নৌকার মধ্যে আছি। আমাদের অনুধাবন করতে হবে যে, আমরা সবাই একই উদ্বিগ্ন, একই ভয়ের মধ্যে আছি, আমরা কেউই এককভাবে বাঁচতে পারবো না। সত্যিকারভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আমাদের একসঙ্গে বেড়ে উঠতে হবে, আমাদের যা আছে তা সহভাগিতা করতে হবে, সেই বালকের মত যে তার পাচঁটি রুটি দুটি মাছ যিশুকে দিয়েছিল এবং প্রমানিত হয়েছিল যে পাচঁ হাজার লোকের জন্য তা যথেষ্ট ছিল (যোহন ৬:১-১৫)। 

৫. সংবর্ধিত করার জন্য তাদের সংযুক্ত করতে হবে

অভিবাসীদের অগ্রগতির প্রক্রিয়ায় তাদের জড়িত করতে হবে। যিশু যেভাবে সামারীয় নারীর প্রতি করেছিলেন (যোহন ৪:১-৩০)- যিশু তার কছে গেলেন, তার কথা শুনলেন, তার হৃদয়ের কথা বললেন, সত্যের পথে পরিচালিত হতে এবং সুসংবাদ প্রচারের জন্য তাকে অগ্রদূত করলেন- "এসো তোমরা, দেখে যাও একজনকে : জীবনে আমি যা করেছি, তিনি তা সবই আমাকে ব’লে দিয়েছেন! তাহলে তিনি কি সেই খ্রিস্ট নন?" যদি আমরা তাদের সত্যিই সংবর্ধিত করতে চাই তাহলে তাদের সংযুক্ত করা উচিত, অবশ্যই তাদের সাথে আমাদের যুক্ত হতে হবে এবং তাদের মুক্তির জন্য তাদেরকেই অগ্রগামী করে তুলতে হবে। এই মহামারি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একে অপরের পাশাপাশি থাকাটা কতটা প্রয়োজন এবং সেটিই হলো প্রত্যেকের অবদান। উৎসাহ প্রদান করতে হবে যেখানে প্রত্যেকেই স্বীকৃত হবে এবং তারা বুঝবে যে আতিথেয়তা, ভ্রাতৃত্ব এবং সৌহার্দ সম্প্রীতির নতুন আঙ্গিকে তাদের আহ্বান করা হয়েছে।

৬. গঠনদানে জন্য তাদের সহযোগিতা করতে হবে

প্রেরিতশিষ্য পৌল করিন্থীয়দের কাছে বলেছেন- আমি যিশু খ্রিস্টের নামে তোমাদের কাছে একান্ত  আবেদন জানাই, ভাইয়েরা তোমরা ঐক্যমত থাক, তোমাদের মধ্যে যেন কোন মতবিরোধ না থাকে বরং তোমরা একই মনোভাব পোষণ করো এবং একই বিচার বিবেচনার বন্ধনে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাক (১ করিন্থীয় ১:১০)। ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য খ্রিস্টভক্তদের একই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে, এ কারণে আমাদের হিংসা-বিদ্বেষ, বিভাজন, প্রলোভন ভুলে অন্যকে সহযোগিতার শিক্ষা গ্রহন করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি নবায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে- "এটি আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার সময় নয়, আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছি তা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে ওঠে একে অপরের সাথে সহভাগিতা করতে হবে" (Urbi et Orbi Message, 12 April 2020)। আমাদের একই আবাস ভূমির জন্য ঈশ্বরের প্রকৃত পরিকল্পনাকে আরও বেশী করে কার্যকর করতে হবে কাউকে বঞ্চিত করে নয় বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্ব সংহতি এবং স্থানীয় প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। 

খ. অভিবাসী ও শরণার্থীদের সেবাকাজের কিছু সুপারিশ

বর্তমানে অভিবাসন অবৈধ ও অপরিকল্পিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। মানুষের মৌলিক চাহিদা সেখানে বিপন্ন এবং শিশু ও নারীরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মানবিকতার বিচারে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে তাদের যত্ন নেয়া পৃথিবীর সকল মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ এ অভিবাসীদের দুর্যোগ এবং দুর্ভোগের পিছনে রয়েছে মানুষের স্বার্থপরতা, বিবেকহীন আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ড। আমাদের প্রতিটি ধর্মপল্লীর অধীনে অনেক অভিবাসী ভাইবোন আছে যারা প্রতিদিন আমাদের জীবন বাঁচাতে ও জীবন সাজাতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে- যেমন: গৃহ পরিচারিকা, ড্রাইভার, দারোয়ান, দিন-মজুর, বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি রক্ষণাবেক্ষণকারী, সেলুন বা পার্লারে কর্মরত, রিকশাচালক আরও অনেকভাবে সহায়তা করছে। আমাদের জীবনে তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সাধ্যমতো চেষ্টা করি বিপদ-আপদে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে অঙ্গীকার করি। আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পালকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাদের দুর্গতি কিছুটা হ্রাস করতে পারি- 

১. অন্তরে অনুভব করা জন্য বাণী ধ্যান করা

পোপ ফ্রান্সিস-এর বাণী নিজেরা পাঠ ও অনুধ্যান করে তাঁর মতো হৃদয় নিয়ে অভিবাসী ভাইবোনদের প্রতি আরও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ মানবীয় আচরণ এবং ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে পারি। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থাৎ আমাদের দেশ থেকে যারা অন্যদেশে কাজ, পড়াশুনা বা জীবনযাপনের জন্য অবস্থার করছে তাদের সাথে আধ্যাত্নিকভাবে একাত্ম হই।

২. দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য জ্ঞান অর্জন করা

পোপ মহোদয়ের বাণীর আলোকে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত জনগণের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারি। অভিবাসী ভাই-বোনদের অবস্থা জানা, বোঝা ও অনুধাবনের জন্য আলোচনা, সংলাপ ও ছোটো বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক প্রতিবেশি’র বিশেষ সংখ্যা : বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস (২০-২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) সংখ্যাটি থেকে সাহায্য নিতে পারি। 

৩. সেবাযত্নের জন্য প্রার্থনা ও বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে  

বরিবারের খ্রিস্টযাগে (২৭ সেপ্টেম্বর) পুরোহিতগণ অনুধ্যান ও উপদেশে পোপ মহোদয়ের বাণী এবং মথি রচিত মঙ্গলসমাচারের (২:১৩-২৩) আলোকে সহভাগিতা করতে পারেন। খ্রিস্টযাগের সময়, কনভেন্টের প্রার্থনায়, প্রতিষ্ঠানে অফিসের কার্যক্রম শুরুর আগে অভিবাসী ভাইবোনদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করতে পারি এবং পোপ ফ্রান্সিস এর বাণী পাঠ ও ধ্যান করতে পারি। যারা অভিবাসী হয়ে অন্যত্র যাচ্ছে তাদের বিশ্বাস, সাক্রামেন্ত,  বিবাহিত, আর্থিক ও সামাজিক জীবনের কিছু মৌলিক দিক নির্দেশনা খ্রিস্টযাগের উপদেশ, সেমিনার ও বিভিন্ন সভাতে আলোকপাত করা যেতে পারে। অভিবাসী প্রেরিত ও আগত উভয় স্থানেই পালকীয় যত্ন দরকার। 

৪. সেবাকাজ বিস্তারের জন্য নতুন এলাকা যেতে হবে

আমাদের দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট শহরের আশেপাশে এবং কোনাবাড়ী, ঘোড়াশাল, পলাশ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, পাবনা, হবিগঞ্জ এলাকায় খ্রিস্টভক্তগণ কাজের তাগিদে বসবাস শুরু করছে। সেবাকাজের জন্য তাদের কাছে যেতে হবে।ন্যায় ও শান্তি কমিশন ইতিমধ্যে এসব এলাকায় কিছু কিছু কার্যক্রম আরম্ভ করেছে।নিকটতম ধর্মপল্লীসমূহ এসব এলাকায় পালকীয় কাজের জন্য সৃজনশীল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।

৫. অগ্রগতির জন্য কর্মকাণ্ডে তাদের সংযুক্ত করতে হবে 

স্থানীয় ও অভিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করে একত্রে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও একত্রে বেড়ে উঠার পরিবেশ তৈরি করতে পারি। স্থানীয় সমাজের উন্নয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অবদান অনুধাবন করা ও স্বীকৃতি দেয়া দরকার। তাদেরকে স্থানীয় সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কাঠামোতে সাধ্যমতো অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে যাতে তারা আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। ধর্মপল্লীর পালকীয় কাজে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে ও তাদের প্রয়োজনে সাড়াদান করতে পারি। ক্রেডিট ইউনিয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে পারি।

৬. তালিথা কুম নেটওয়ার্কিং (Talitha Kum Networking) 

মানবপাচারের বিরুদ্ধে ও অভিবাসীদের সেবা প্রদানের জন্য তালিথা কুম নেটওয়ার্কিং একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। পোপ ফ্রান্সিস সরাসরি তাদের সেবাকাজে অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। কাথলিক মণ্ডলীর বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের সিস্টারগণ মিলিতভাবে কাজ করে থাকে এবং বিভিন্ন সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করেন।যা ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ৭০টি দেশে সেবা প্রদান করছে। সদস্যগণ মার্ক লিখিত মঙ্গলসমাচােরের (৫:৪১) অনুপ্রেরণা অন্তরে নিয়ে সেবাকাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও মানবপাচারের বিরুদ্ধে ও অভিবাসীদের মাঝে এ সংগঠনের সেবাকাজ বিস্তার করতে পারি। ইতিমধ্যে ন্যায় ও শান্তি কমিশনের সাথে তালিথা কুম নেটওয়ার্কিং এর যোগযোগ রয়েছে। পোপ ফ্রান্সিস এ বছর শুরুতে তাদের কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে আর্থিক অনুদান সংগ্রহের ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

 ৭. অভিবাসীদের করণীয় কিছু  দিকনির্দেশনা

অভিবাসী ভাইবোনদের পক্ষ থেকে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দরকার- যেমন: (ক) নতুনভাবে যে সমাজে বসবাস করছে শুরুতেই স্থানীয় সমাজনেতা অথবা পাল-পুুরোহিতের সাথে যোগাযোগ করা, এতে করে সাক্রামেন্তিয় বিষয়সমূহ নিয়ে যেন সুন্দর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়; (খ) খ্রিস্টিয় জীবনযাপনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া, সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশগ্রহণ করা; (গ) বাড়িতে রেখে আসা আপনজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা;  (ঘ) কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয়ে সচেতন হওয়া, অর্থ অপচয় থেকে বিরত থাকা, আপৎকালীন তহবিল গঠন করা এবং প্রতারকদের নিকট থেকে দূরে থাকা; (ঙ) ক্রেডিট ইউনিয়নে হিসাব খোলা ও শুরু থেকে নিজে সঞ্চয় ও কিস্তি জমা দেওয়া, নিজের আপনজন ব্যতিত অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকা; (চ) শ্রমিক বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ ব্যবসায়ে জড়িতরা সরকারি বিধি-নিষেধ ও প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী একটি পছন্দসই পেশায় স্থায়ী হওয়া; এবং (ছ) ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসী ভাইবোনদের সাথে সুন্দর সংলাপ ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলতে পারে।স্থায়ী বা অস্থায়ী বসতির ক্ষেত্রে নিজের বিবেক-বিবেচনা ব্যবহার করে এমনসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিজের জীবনযাপন সুখময় করতে পারে। 

আমাদের বিশ্বাস, আশা  দয়ার কাজের মাধ্যমে একই পিতার সন্তান হিসেবে সকলে পরস্পর ভাই-বোন হিসেবে জীবনযাপন করতে পারব ও একত্রে মিলে সমাজে আরও সক্রিয় হতে উঠতে পারবো। এতে যিশু খ্রিস্টের মতোই যারা পালাতে বাধ্য হয়েছে তাদের দুর্গতি কিছুটা কমাতে পারবো।


তথ্যসুত্র: অর্পা কুজুর- বাংলা অনুবাদ (MESSAGE OF HIS HOLINESS POPE FRANCIS FOR THE 106TH WORLD DAY OF MIGRANTS AND REFUGEES 2020)|




মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সৃষ্টি উদযাপন কাল : ধরিত্রীর জয়ন্তী উদযাপনে প্রকৃতি ও পরিবেশে নতুন ছন্দ, নতুন আশা

১. প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার্থে লাউদাতো সি বর্ষের শুরুতে খ্রিস্টমণ্ডলী "সৃষ্টি উদযাপন কাল" পালনে অংশ নিতে আমাদের আহ্বান জানাচ্ছে। এ বছরের মূলভাব হিসেবে ‘ধরিত্রীর জয়ন্তী : নতুন ছন্দ, নতুন আশা’ গ্রহণ করা হয়েছে। "সৃষ্টি উদযাপন কাল" বিশ্বজুড়ে এ বছর ১ সেপ্টেম্বর - 'সৃষ্টির জন্য বিশ্ব প্রার্থনা দিবস' থেকে ৪ অক্টোবর - 'আসিসির সাধু ফ্রান্সিস এর পর্ব দিবস' পর্যন্ত পালন করা হচ্ছে। আমাদের আবাসস্থল, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষার্থে বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টিয় সকল চার্চের খ্রিস্টভক্তদের একত্রে প্রার্থনা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং  অ্যাডভোকেসি কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনুরোধ করে একটি বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সৃষ্টি দিবস এবং সৃষ্টি উদযাপন কাল উদযাপনের একটি বিশিষ্ট অন্তঃমাণ্ডলিক মাত্রা রয়েছে। এই দিনগুলি পালন করার সময় আমরা পিছনে ফিরে তাকাই এবং ধন্যবাদ জানাই প্যাট্রিয়ার্ক প্রথম দিমিট্রিওসকে যিনি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে  বিশ্বের সকল খ্রিস্টমণ্ডলীসমূহ একত্রে আমাদের অভিন্ন বসতবাটির যত্ন ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা ও বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণের একটি মাস উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন থেকে সৃষ্টির কাল উদযাপন ও অন্তঃমাণ্ডলিক প্রেরণা সকলের মধ্যে বিদ্যমান বয়েছে। জুবিলি বা জয়ন্তী ধারণাটি বাইবেলের মধ্যে রয়েছে এবং এটি নির্দেশ করে জয়ন্তীকালে সেখানে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত বাস্তবতার মধ্যে একটি ন্যায় এবং টেকসই ভারসাম্য অবশ্যই উপস্থিত থাকবে। পবিত্র বাইবেলের শিক্ষা অনুযায়ী- জয়ন্তীকাল আমাদের জীবন ব্যবস্থায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য সাম্যতা, ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীতা এবং আমাদের অভিন্ন বসতবাটির সুরক্ষার জন্য প্রাবক্তিক ভূমিকার গুরুত্ব নিশ্চিত করতে বলে। সদিচ্ছাসম্পন্ন  প্রতিটি ব্যক্তি সৃষ্টির কালে মনোযোগ দিয়ে এই পৃথিবীকে বাঁচাতে বিশ্বজনীন চেতনা, প্রার্থনা এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

২. ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন- “আমাদের অভিন্ন বসতবাটিকে রক্ষা করার জন্য জরুরি চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গোটা মানব-পরিবারকে একত্রিত করার চিন্তাভাবনা, যাতে টেকসই ও সম্পূরিত উন্নয়ন সাধিত হয়, কেননা আমরা জানি যে, পরিবর্তন সম্ভব” (লাউদাতো সি-১৩)।  এ সময়ে পরিবারে সদস্যরা একত্রে অথবা কর্মস্থলে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মিটিং বা আলোচনার পূর্বে কিছু সময় সৃষ্টিকর্তার নিকট সৃষ্টির অসংখ্য দানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ও যত্নবান হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে পারি। এটি আমাদের ভেঙ্গে ফেলা বন্ধন নিরাময় করার আহ্বানও।  অন্তরে গভীরভাবে উপলব্ধি করি- আবর্জনা এখানে-সেখানে ছুড়ে ফেলে অপরিচ্ছন্ন-অস্বাস্থ্যকর নর্দমা তৈরি করেছি; গাছ কেটেছি কিন্তু রোপনে অবহেলা করে পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট করেছি; স্বার্থপর ও অতিভোগের কারণে বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, পানিদূষণ করে ফেলেছি; প্রতিনিয়ত প্রচুর পানি অপচয় করছি, খাল-নদীর জল বিষাক্ত করে ফেলেছি; এভাবে প্রকৃতি ও প্রতিবেশীদের প্রতি অনেক ক্ষতি  ইতোমধ্যে করেছি। এসব স্মরণ করে অনুতপ্ত হই ও মন-পরিবর্তন করে প্রকৃতি ও  প্রতিবেশীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলি।

৩. আমাদের পরিবার হল সৃষ্টি ও প্রকৃতির একটি অংশ। পরিবার যত্ন নিয়ে থাকে সৃষ্টি ও প্রকৃতির এবং পরিবার বেঁচে থাকার অপরিহার্য উপকরণসমূহ প্রকৃতি সরবরাহ করে থাকে। তাই দায়িত্বশীল পরিবার গঠন, সুন্দর জীবনযাপন, স্বামী-স্ত্রীর অঙ্গিকার রক্ষা, বিপদাপন্ন আপনজনদের সেবাযত্ন করে পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর করে তুলতে পারি। পরিবারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপ- প্রয়োজন মাফিক কেনাকাটা, পরিমিত রান্না ও অপচয়রোধ, পরিমিত ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস, জিনিসপত্র পুনঃব্যবহার করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে পারি। বাড়িতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিভিশন, এসি, পানির কল, বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহারের পর বন্ধ রাখাতে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। রান্নাঘরের অবশিষ্টাংশ, পাতা-লতা ও আবর্জনাগুলি মিশ্রিত করে উত্তম সার তৈরি করা যায় এবং এসব গাছের বৃদ্ধিতে আরও ভাল সার হিসেবে সহায়তা করে। 

৪. শুধু পরিবারের মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করলে স্বার্থপর হয়ে উঠব; বরং বনের জীব-জন্তু, আকাশের পাখি, বাতাসে উড়ে বেড়ানো মশা-মাছি, ভূমির পোকা-মাকড় ও সরিসৃপ, নদী ও জলাভূমির মাছ, সমুদ্রের সকল জীবের কল্যাণের বিষয়ও ভাবি। সৃষ্টিকর্তা এদেরও সৃষ্টি করেছেন, প্রকৃতিতে এদের একটি করে ভূমিকা দেওয়া আছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য এদেরও দরকার আছে। এদের একটি যদি আমরা নিঃশেষ কওে ফেলি তবে প্রকৃতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে ফলে মানুষের কষ্ট বাড়বে। বাড়িতে তাই খালি জায়গায় গাছ রোপণ ও নির্ধারিত গাছ  রক্ষণাবেক্ষণ জন্য ছেলেমেয়েদের  দায়িত্ব বন্টন করে দিতে পারি। শিশুদের চিত্রাঙ্কণ, সঙ্গীত ও নৃত্য চর্চায় প্রকৃতি ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়সমূহে উৎসাহিত করা যায়। গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা শহরে বাসাবাড়িতে টবে বারান্দায় বা ছাদে অথবা জানালার পাশে শাক-সবজি-ফুল বাগান তৈরি করি ও রক্ষণাবেক্ষণ করি। এতে মনে প্রশান্তি আসবে, স্বাস্থ্যকর খাবারের যোগান হবে এবং বাজার খরচ সঞ্চয় করতে পারব।

৫. কর্মস্থলে প্রয়োজন ছাড়া কাগজে প্রিন্ট না করা, প্রয়োজনে কাগজের উভয় পৃষ্ঠায় প্রিন্ট করা এবং সুযোগ থাকলে কাগজ পুনঃব্যবহার করতে পারি; কম্পিউটার, প্রিন্টার ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জামসমূহ ব্যবহারের পরে বন্ধ রাখব; শারীরিক সমস্যা ব্যতিত দ্বিতীয়, তৃতীয় তলায় এবং সকালে লিপ্ট ব্যবহারে বিরত থাকা; এবং দলীয়ভাবে গাড়ী ব্যবহার করার মাধ্যমে কার্বন ব্যবহার হ্রাস করতে পারি। একটি মানবিক পরিবেশ রক্ষার জন্য কর্মস্থলে নারীদের প্রতি আচার-আচরণে শিষ্টাচার অনুসরণ, সহকর্মীদের প্রতি পারস্পরিক যত্নশীল থাকা, সৌজন্যসূচক শব্দ ব্যবহার, দলীয়করণ মনোভাব ও অযাচিত তোষামোদপ্রিয় স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কর্মস্থলের খালি জায়গায় অথবা টবে বারান্দা বা ছাদে অথবা জানালার পাশে শাক-সবজি-ফুল বাগান তৈরি করি ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারি। 

৬. আফ্রিকার শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানুষ পানীয় জলে চরম সংকটে আছে, ভারতের  কোন কোন প্রদেশে অনেক দামে পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, পাহাড়ী অঞ্চল রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিশুদ্ধ পানির অভাবে ঝর্ণার পানি পান কওে ছোট ছোট শিশুরা এখনও মারাত্নক রোগব্যধিতে অসুস্থ হয়ে কষ্ট করছে এবং অনেকে মৃত্যুবরণও করছে। তাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা  স্নানে পরিমিত পানি ব্যবহার করতে পারি, হাতমুখ ধোয়ার সময় কলের পানি নষ্ট না করি, যতটুকু পান করতে চাই ততটুকু পানি গ্লাসে ঢেলে পান করতে পারি। আমাদের এমন ক্ষুদ্র ক্ষ্রদ্র অভ্যাস পানি অপচয় অনেক হ্রাস করবে।

৭. মাটি একটি জীবন্ত উপাদান। এটি ধূলিময় করে পরিবেশ ও বায়ু নষ্ট করা উচিত নয়। জীবন মাটি থেকে আসে এবং তাই মাটি বাঁচিয়ে রাখা উচিত। স্বতন্ত্রভাবে মোড়ানো ক্যান্ডি প্লাস্টিক ব্যবহার করে থাকে এবং প্রচুর আবর্জনা তৈরি করে যা মাটিকে নষ্ট কওে ফেলে। আমরা এমুহূর্তে প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ বাদ দিতে পারছি না তাই সঠিকভাবে ব্যবহার করার দিকে গুরুত্ব দিতে পারি। আবর্জনা হিসেবে প্লাস্টিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পলিথিন ব্যাগ একেবারেই বাদ দিতে হবে কারণ এর ক্ষতির ধরন বহুমাত্রিক এবং বাড়ছে- মাটি নষ্ট করে জমিতে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট করছে, শহরে নর্দমা বের হওয়ার পথ বন্ধ করে ব্যাপক ক্ষতি করছে এবং আগুনে দিলে গ্যাস হয়ে বায়ুদূষণ করে মানবদেহের সংঘাতিক ক্ষতি করছে। তাই পাটের তৈরি চটের ব্যাগ অথবা ভারী ও শক্ত কাপড় পুনঃব্যহার করে ব্যাগ তৈরি করে ব্যবহার করতে হবে। 

৮. করোনাভাইরাস মহামারী শিখিয়েছে আমাদের আরও বেশি যত্নবান ও রক্ষণাবেক্ষণ মনোভাব প্রয়োজন। নিজের কল্যাণের কথা ভেবেই প্রকৃতি, পরিবেশ এবং প্রতিবেশীর সুরক্ষা সুসংবাদটি আপনজন, ও বন্ধুবান্ধবদের  জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র একটি আহ্বান। ইতোমধ্যে অনেকে নীরবে কাজ করে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছি। পোপ মহোদয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদের আবাসস্থল, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষার্থে ‘সৃষ্টি উদযাপন কালে’  ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিকভাবে এবং কর্মস্থলভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ মহান কিছু অর্জন সম্ভব হবে।




শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস- ১২ জুন ২০২০ খ্রিস্টাব্দ


১. করোনাভাইরাস মহামারী সংকটকালে আজ ১২ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২০ খ্রিস্টাব্দ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২ জুনকে বিশ্বব্যাপী শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। এ বছর দিবসটির মূল বিষয়বস্তু গ্রহণ করা হয়েছে- ‘কোভিড-১৯: শ্রম থেকে শিশুদের রক্ষা করা এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি দরকার’। এই দিনে শিশুশ্রমের কারণে সৃষ্ট সংকটসমূহের প্রভাব সমন্ধে সচেতন হওয়া ও সমাধানের জন্য বিশ্বের সকল স্তরের মানুষকে আহ্বান করা হচ্ছে।

২. দৈনিক সংবাদ পত্রের তথ্য অনুযায়ী- দেশে গত এক মাসে মোট ১৬৩ জন শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বা আক্রান্তের লক্ষণ পাওয়া গেছে। গত ৯ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত মোট ১২৭ জন শিশুর করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ১২৭ শিশুর মধ্যে ৭ জন মারা গেছে। এ ছাড়া আরো ৩১ জন করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে। বিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম এ তথ্য জানিয়েছে। শিশু অধিকার ফোরাম দেশের ২৭২টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক (দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ জুন ২০২০ খ্রিস্টাব্দ)।

৩. পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ শিশুশ্রম নির্মূলের পদক্ষেপ এখন হুমকির মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের শিশু শ্রমিকদের জড়িপ অনুযায়ী- ইতিমধ্যে বিশ্বে ১৫২ মিলিয়ন শিশু শ্রমিক রয়েছে যার মধ্যে ৭২ মিলিয়ন শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। এই শিশুরা কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে যা আরও বেশি কঠিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে।কভিড-১৯ স্বাস্থ্য মহামারী এবং ফলস্বরূপ অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারের সংকট মানুষের জীবন ও জীবিকাতে বিশাল প্রভাব ফেলছে। দুর্ভাগ্যক্রমে শিশুরাই এসবের প্রথম ভুক্তভোগী। এই সঙ্কট লক্ষ লক্ষ দুর্বল শিশুদের শিশুশ্রমের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

৪. এই মহামারী পরিস্থিতি দেশেও শ্রমজীব শিশুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস সহিদ মাহমুদ বলেছেন- অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যেখানে ৯৪ শতাংশ শিশু কাজ করে, কিছুনির্দিষ্ট কাজকে নিকৃষ্ট ধরনের কাজ ঘোষণা করে সেসব কাজে শিশুদের নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার করোনা মোকাবিলায় দেশের শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও দেশে কর্মে নিয়োজিত শিশুদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেনি (দৈনিক ইত্তেফাক)। বর্তমান অবস্থায় দেশে স্বল্প মজুরি দিয়ে শিশুদের করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ বিষয়ে সরকার ও সাধারণ জনগণের সচেতন হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুরা যেন শ্রমে নিয়োজিত না হয়, সেই ব্যাপারেও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থাসহ সাধারন মানুষের সৃজনশীল পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজন।

৫. এ উপলক্ষে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন- শিশু শ্রম এমন একটি অভিশাপ যা অনেক অনেক ছেলে-মেয়েদের সমন্বিত বিকাশ বিপন্ন করছে। শিশু শ্রম হল দাসত্ব ও বন্দিজীবনের একটি অন্যরূপ যা তাদের শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণার কারণ। শিশুশ্রমের এই অভিশাপের জন্য আমরা সবাই দায়ী। বিভিন্ন সংস্থাগুলিকে  তিনি শিশুদের সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক  প্রচেষ্টা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুরা দুর্ভাগ্যক্রমে যে বিকৃত জীবনাবস্থায় জড়িয়ে আছে সেখান থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবধানগুলি পূরণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

৬. ইতোমধ্যে অনেক ব্যক্তি, সংগঠন, স্কুল, ধর্মীয় ও সামাজিক সেবাপ্রতিষ্ঠান সুবিধাবঞ্চিতশিশুদের জন্য নীরবে কাজ করছে। প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করছেন। যার যার অভিজ্ঞতাসমূহ সহভাগিতা করে অভিনব সৃজনশীল পদক্ষেপ নিতে পারলে শিশু বিষয়ক সেবাকাজ আরো গতি পাবে। আমাদের পরিবারে শিশুদের কাজের জন্য নিয়োগ না দিয়ে বরং একটি শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতে পারি, প্রতিষ্ঠিত স্কুল কলেজে সুবিধাবঞ্চিতশিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে পারি, যারা ছোট ছোট সংগঠনের মাধ্যমে শিশু সেবাকাজ করছে তাদের আর্থিক ও নৈতিক সহযোগিতা দিতে পারি। সত্যিকার অর্থেই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গন্ডি ত্যাগ করে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ভাবে শিশু অধিকার সুরক্ষার জন্য একসাথে কাজ করা অধিকতর কল্যাণকর হবে। অন্যথায় মাশুল দিতে হবে আগে না হোক অদূর ভবিষ্যতে। পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিতশিশু, অরক্ষিতশিশু ও আমাদের শিশুর সুরক্ষায় আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ মহান কিছু অর্জন সম্ভব হবে। আসুন, ব্যক্তিগতভাবে, পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে শিশুশ্রম প্রতিরোধ করি। সুবিধাবঞ্চিতশিশু ও অরক্ষিতশিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সেবাকাজে এগিয়ে আসি।


বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

আমাদের দয়াশীলতার কিছু বিবেচ্য বিষয়

১. কভিড-১৯ দুর্গতির সময়ে বিপদাপন্নদের অর্থ বা খাদ্য অনুদান প্রদান ছাড়াও কিছু সূক্ষ্ম সমস্যা রয়েছে। এ সমস্যাসমূহ আমাদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়াটা কিছু কিছু মানুষ বা সমাজ একটা কলঙ্ক বা লজ্জাজনক ব্যধি হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে সামাজিক অস্বস্তিদায়ক পরিস্থির স্বীকার হতে হয় অথবা তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। এটি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না, কিন্তু এটি উদ্বেগের বিষয়। অসুস্থ ব্যক্তিকে ঘরের বাইরে ফেলে রাখা, হাসপাতালে বারান্দায় রেখে চলে যাওয়া, পরিত্যক্ত বস্তু হিসেবে তাদের বিবেচনা কর, মৃতব্যক্তিকে সমাধিস্থ করা থেকে বিরত থাকা; এমনসব আচরণ করা হয়  কারণ তাদের মধ্যে কভিড -১৯ আছে অথবা থাকার সন্দেহ রয়েছে এবং তাদের দ্বারা অন্যরা সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন আচরণ করাটা অমানবিক বিষয়। 

২. আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারও সামাজিক বৈষম্যে স্বীকার হতে পারে, অসুস্থরা ঘৃণার পাত্র হতে পারে এবং তাদের প্রতি সামাজিক অস্বস্তিদায়ক আচরণ করা হতে পারে এমন বিবেচনা করে এসব ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের সঠিক তথ্য প্রচারে অভিনব উপায় সন্ধান করতে হবে।

৩. আজকের দিনগুলিতে সমাধিদান কাজটি আতঙ্কের পরিবেশে সমাধান করা হচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পরে কবর দেওয়া হচ্ছে যেখানে  প্রিয়জনের নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ নেই। যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের সাথে সমবেদনা জানানো আমাদের খুবই দরকার।

৪. সম্মতি ছাড়াই কেউ কেউ করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের নাম সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছি। এখানে তারা সমাজিক অস্বস্তিদায়ক পরিস্তির স্বীকার হতে পারে এ বিষয়টিও গুরুত্বসহ বিবেচনা করাতে হবে। কভিড-১৯ রোগীদের সাথে কাজ করা স্বাস্থ্য কর্মীরাও বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন- ভাড়া বাড়িতে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা, ভাড়া বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা ইত্যাদি।

৫. হতাশাগ্রস্থ সকলের প্রতি আমাদের হৃদয়ে ভালবাসা রয়েছে এবং সর্বদা তা জাগ্রত রাখা দরকার। মহামারী সময়ে আমাদের নিজেদের ভয় বুঝতে পারি। প্রত্যেক ব্যক্তিই অসীম মূল্যবান ও মর্যাদা রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা সর্বদা আমাদের সাথে আছেন তিনি নিবিড়ভাবে আমাদের জীবনে অন্তর্ভুক্ত কারণ তাকে লকআউট করা যায় না, সৃষ্টিকর্তা লকডাউন থাকতে পারেন না।





ছবি ইন্টানেট থেকে সংগৃহীত



শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

কার্বন ব্যবহার মাত্রা পর্যবেক্ষণের একটি অনুশীলন


লাউদাতো সি বা তোমার প্রশংসা হোক সপ্তাহ (৬ষ্ঠ দিন)
কার্বন ব্যবহারের একটি সরল পর্যবেক্ষণ
কার্বন পদচিহ্ন
কার্বন পদচিহ্ন হল গ্রীহাউজ গ্যাসের পরিমাণ অর্থাৎ সাধারণত কার্বন ডাই অক্সাইড যা পণ্য উৎপদন, সেবা গ্রহণ ও মানুষের নিত্যদিনের ক্রিয়াকলাপ দ্বারা বায়ু্মণ্ডলে নির্গত হয়। মানুষের ব্যাপক কার্যকলাপ, ব্যক্তিগত, পারিবারিক,  সামাজিক উৎসব, সংস্থা ও সংগঠন এবং সমগ্র জাতির ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে কার্বন নির্গত হতে পারে। উদাহরণ- মিল কারখানা, যানবাহন, বিদেশী টিনজাত খাবার, গাড়ি, এি/সি, রিফ্রিজারেটর, বেশি মাংস খাওয়া, সাজ-সজ্জা, জেনারেটর, বিদ্যুৎ, টেলিভিশন, পানি, বিদেশী পণ্য ইত্যাদি অতি ব্যবহারে বেশি মাত্রায় এবং কম ব্যবহারে কম গ্যাস নির্গত হবে। জলবায়ু উষ্ণতাবৃদ্ধির কারণ মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে নির্গত এই গ্রিণহাউজ গ্যাস। যা আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাছে ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে ফলে মানুষের অনেক কষ্টের কারণ হয়ে উঠছে। আমাদের জীবনযাত্রা পরিবর্তন করে, অতি উৎপাদন ব্যবস্থা ও ভোগবাদী অভ্যাস ও আচরণ নিয়ন্ত্রন করে এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে গ্যাসের দূষণ কমিয়ে আনা যায়। লাউডাতো সি সপ্তাহে আজ ৬ষ্ঠ দিনে আমরা এ বিষয়ে পাঠ করি, চিন্তা-অনুধ্যান করি ও কাজ করি বা কিছুু ব্যক্তিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করি।  

একটি সরল পর্যবেক্ষণ
আপনার ব্যক্তিগত কার্বন ব্যবহার অবস্থান জানার জন্য এই সরল পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারেন। ১ থেকে ৫ নাম্বার পর্যন্ত প্রতিটি কার্যক্রমের জন্য একটি বর্ণ অর্থাৎ (ক) অথবা (খ) চিহ্নিত করুন। যা আপনার জীবনযাত্রার সর্বোত্তম নির্দেশনা প্রকাশ করে থাকে।

প্রথম ধাপ
১. আমার প্রতিদিনকার খাবার তালিকায় বেশিরভাগ থাকে-
     (ক) নিরামিষাশী খাদ্য অর্থাৎ আমি নিরামিষভোজী
     (খ) অ-নিরামিষাশী খাদ্য অর্থাৎ আমার খাদ্য মাংস ও মাছ প্রধান

২. আমি টেলিভিশন দেখি বা কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ব্যবহার করি-
    (ক) দিনে মোট  ৪ ঘন্টার চেয়ে কম সময় ধরে
    (খ) দিনে মোট ৪ ঘন্টা বা এর চেয়ে আরো বেশী সময় ধরে

৩. এক মাসে আমি কেনাকাটা করে থাকি-
    (ক) মোট ৫টির কম কাপড় বা বই বা ব্যক্তিগত প্রসাধন/যত্নের জিনিসপত্র
    (খ)  মোট ৫টি বা এর চেয়ে বেশি কাপড় বা বই বা ব্যক্তিগত প্রসাধন/যত্নের জিনিসপত্র

৪. আমার প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবস্থা সাধারণত মাধ্যম থাকে-
    (ক) পায়ে হেঁটে বা বাই-সাইকেল ব্যবহার করে বা গণপরিবহন ব্যবহার করি
    (খ) ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করে থাকি

৫. গরম আবহাওয়ার সময় আমি ব্যবহার করে থাকি-
    (ক) বৈদ্যুতিক পাখা
    (খ) শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এ/সি)

দ্বিতীয় ধাপ
বর্ণ (ক) এর জন্য ১ পয়েন্ট। বর্ণ (খ) এর জন্য ৩ পয়েন্ট দিন। এখন পাঁচটির পয়েন্ট একসাথে যোগ করুন ও যোগফল মনে রাখুন।

তৃতীয় ধাপ
এখন আপনার কার্বন ব্যবহারের অবস্থান জেনে নিন।
নিম্নতম: মোট যোগফল ৫ থেকে ১০ পয়েন্টের নিচে- সুস্বাগতম! আপনার কার্বন ব্যবহার মাত্রা খুবই কম। এমন মানসিক মনোবল ধরে রাখুন যা জলবায়ু-বান্ধব জীবনযাত্রা।

মাঝারি: মোট যোগফল ১০ থেকে ১৫ পয়েন্টের নিচে- আপনার কার্বন ব্যবহার মাত্রা মধ্যম বা মাঝারি পর্যায়। মনের জোর থাকলে ও ইচ্ছা করলেই কার্বন ব্যবহার  হ্রাস করে জলবায়ু বান্ধব জীবনযাত্রা শুরু করতে পারেন।

উচ্চ: মোট যোগফল ১৫ পয়েন্ট: আপনার কার্বন ব্যবহার মাত্রা উচ্চ পর্যায়। যদিও আপরার কার্বন ব্যবহার উচ্চ পর্যায় তবুও আপনি সচেতন হয়ে লাউদাতো সি সপ্তাহের অনুপ্রেরণা ও প্রার্থনায় ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ করে কার্বন ব্যবহার কমাতে পারেন। আপনারও জলবায়ু-বান্ধব জীবনযাত্রায় অংশগ্রহণ করা অধিকার আছে। আপনার মহৎ পদক্ষেপের জন্য অগ্রিম শুভকামনা।


সূত্র: লাউদাতো সি সপ্তাহে এফ এ বি সি কর্তৃক প্রকাশিত।



মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

পরিবেশ বিপর্যয়ে জগতের আর্তনাদ এবং করণীয়


১. পরিবেশ বিপর্যয় গভীরভাবে বিশ্লেষণে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন- ভয়ভীতি ও সম্মানবোধ ছাড়াই আমরা যদি  প্রকৃতি এবং পরিবেশকে দেখতে চেষ্টা করি তবে আমাদের মনোভাব প্রভুত্বকারী, ভোগবাদী এবং নির্মম শোষণকারীদের মতো হয়ে উঠবে, যারা  ভোগ কমাতে জানে না (লাউদাতো সি ১১)।তিনি আরও বলেছেন- আমি সংক্ষেপে বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয়ের কয়েকটি দিক পর্যালোচনা করতে চাই (১৫)। আমাদের উদ্দেশ্য তো ভুঁড়ি ভুঁড়ি তথ্য সংগ্রহ করা বা কৌতুহল নিবৃত্ত করা নয়; পক্ষান্তরে, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বেদনাদায়ক হলেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়া, পৃথিবী নামক গ্রহটির যে-অবনতি ঘটছে তা ব্যক্তিগতভাবে নিজের জন্য বেদনাদায়ক কষ্ট বলে অনুভব করা এবং আমরা  প্রত্যেকে এ বিষয়ে কী করতে পারি তা আবিষ্কার করা (১৯)। 

২.পোপ ফ্রান্সিস এর মতে- প্রথমতঃ আসিসির সাধু ফ্রান্সিস এর মতো অন্তরে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টিকর্ম এবং দরিদ্র ও সমাজচ্যুত জনগণের প্রতি বিশেষ দরদবোধ উপলব্ধি করতে হবে (১১); দ্বিতীয়তঃ পরিবেশের প্রতি যত্নবান ও রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্বটি একটি আহ্বান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে- "যারা আনন্দ করে তাদের সঙ্গে আনন্দ কর; যারা কাঁদে, তাদের সাথে কাঁদ" (রোমীয় ১২:১৫)। পোপ মহোদয় জগতের আর্তনাদের দুটি পরস্পরসংযুক্ত বিষয় প্রকাশ করেছেন। একটি সৃষ্টির আর্তনাদ এবং অপরটি দরিদ্রদের আর্তনাদ। 

৩. সৃষ্টির আর্তনাদ: অকপট দৃষ্টিতে বাস্তবতার দিকে তাকালেই বুঝা যায়- রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের অভাবে আমাদের সকলের এ অভিন্ন বাসগৃহটি কতটা দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। পরিবর্তনের দ্রুতগতির দরুণ পরিস্থিতি যে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে তার লক্ষণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট (৬১)। কেননা আমাদের আচরণ মাঝে মাঝে আত্নঘাতী বলেই মনে হয় (৫৫)। প্রলয়কাল সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীকে এখন আর ব্যঙ্গবিদ্রূপ বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমরা হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে কেবল ধ্বংসস্তূপ, সর্বনাশ ও ময়লা আবর্জনাই রেখে যাচ্ছি (১৬১)। প্রতি বছরই কত হাজার হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী  যে চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে তার হিসাব আমরা জানতেও পারবো না, কারণ তাদের অস্তিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্ম  সেগুলো কখনো দেখতেও পাবে না, কেননা তাদের  অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের তো এমনটি করার কোন অধিকার নেই (৩৩)।সৃষ্টি অবিরত কাঁদছে, আমরাও প্রতিনিয়ত কষ্টভোগ করছি।

৪. দরিদ্রদের আর্তনাদ: মানবিক পরিবেশ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ- এই দু'য়ের অবনতি একইসাথেই হয়; সুতরাং মানবিক ও সমাজিক অবনতির কারণ বিবেচনা না ক'রে আমরা যথাযথভাবে পরিবেশ অবনতির মোকাবিলা করতে পারি না (৪৮)। কিছু কিছু ধনী দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ ভোগের কারণে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে (৫১)। আমাদের বেলাও তা সত্যি, আমাদের অতিভোগের কারণে অন্য কেউ-না-কেউ বঞ্চিত হচ্ছে। সন্তানদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আর্তনাদ আমরা হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে কেবল ধ্বংসস্তূপ, সর্বনাশ ও ময়লা আবর্জনাই রেখে যাচ্ছি (১৬১)।আমার প্রতিবেশী অবিরত কাঁদছে, আমার পাশেই কাঁদছে।

৫. আমরা একটু চিন্তা করি ও অন্তরে উপলব্ধি করি- ক. সৃষ্টি ও দরিদ্রদের আর্তনাদ আমাকে কি বলছে? খ. এই মুর্হূতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মাঝে আমার বর্তমান অবস্থান কোথায়? আমি কি পরিবেশ ধ্বংস করছি অথবা রক্ষণাবেক্ষণ করছি? গ. পরবর্তী প্রজন্মের নিকট অর্থাৎ আমাদের যেসব সন্তান এখন বেড়ে উঠছে তাদের জন্য আমি কেমন বিশ্ব রেখে যেতে চাই? (১৬০)

৬. কিন্তু একান্তভাবে হতাশাগ্রস্ত না হয়ে আামাদেরকে বরং বিশ্বাস রাখতে হবে যে, এরূপ শোচনীয় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণেরও উপায় আছে। আামাদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা যে কোন সময় কিছু-না-কিছু করতে পারি।আমাদের আশা হল ঈশ্বর যিনি শূণ্য থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, তিনি পৃথিবীতেও হস্তক্ষেপ করতে পারেন এবং সব ধরনের অমঙ্গলকে পরাস্ত করতে পারেন। অন্যায্যতা অজেয় নয় (৭৪)। তিনি আমার, আপনার সহযোগিতায় তা করতে চান। আজ থেকেই আমার ও আপনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপ মহৎ কিছু অর্জন সম্ভব।



সূত্র : সৃষ্টির সঙ্গীত : অধ্যায় ২:৭৬-৯২ এবং জগতের আর্তনাদ : অধ্যায় ১ সম্পূর্ণ ।


বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে কয়েকজন বন্দি শিশুর মুক্তি


১. অবরুদ্ধ সময়ে ইউনিসেফের সহযোগিতায় ভার্চুয়াল শিশু আদালতের কার্যক্রম চালু হয়েছে। এতে বুধবার (১৩ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) সাত শিশুর জামিন মিলেছে।করোনাভাইরাসের লকডাউনের কারণে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে বিচারের অপেক্ষায় আটক থাকা শিশুদের প্রথম দলের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুকল্যাণ সংস্থা ইউনিসেফ।

২. এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ বলছে-  প্রথম দফায় ওই সাত শিশুর মুক্তির পথ অনুসরণ করে আগামী দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকশ শিশু মুক্তি পেতে পারে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি তোমো হোযুমিকে বলেছেন- “আমি সর্বান্তকরণে ভার্চুয়াল শিশু আদালত চালুর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছি এবং বন্দিজীবন থেকে শিশুদের মুক্তি পাওয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেছেন- “শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা অবশ্যই কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আমাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রে থাকবে। সব ক্ষেত্রেই জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শিশুদের জন্য এই মহামারীকে একটি স্থায়ী সংকটে রূপ নেওয়া থেকে প্রতিরোধ করতে পারি।” 

৩. অবরুদ্ধ সময়ে গত মার্চে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আটক শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এই সংখ্যা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী- ছোটখাটো অপরাধের বিচার বা সাজার অপেক্ষায় থাকা এক হাজারের বেশি শিশু বর্তমানে তিনটি কেন্দ্রে আটক রয়েছে। 

৪. করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব কালে কেন্দ্রগুলোতে সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও লজিসটিকস সহায়তা, প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পানি, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা  ও সীমিত হাইজিন সুবিধা থাকার ফলে সেখানকার শিশু ও কর্মীদের সংক্রমণ ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে  শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বা সেলফ আইসোলেশনে রাখা খুবই কঠিন, এমন কী সীমিত জায়গার কারণে তা একেবারেই সম্ভব নয়। এসব কেন্দ্র সংক্রমণ বিস্তারের হটস্পট হয়ে উঠতে পারে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম সচল করার অধ্যাদেশ জারি করেছেন। বাংলাদেশে প্রথম ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম শুরু হয় ১২ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ। আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করে সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফ কেন্দ্রসমূহে সহযোগিতা দিচ্ছে (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১৪ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) ।



বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে অনেকে গৃহসন্ত্রাসের শিকার


১. নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাড়ির মালিক এক নারী চিকিৎসককে 'দুর্ব্যবহার' করে ভাড়াবাড়িতে ঢুকতে বারণ করেছে। তিনদিন উপজেলা সদরে একটি অসরকারি ক্লিনিকে অবস্থান করে পুলিশ সহায়তায় নারী চিকিৎসক বাড়িতে উঠেছে (১৭ এপ্রিল, বিডিনিউজ২৪.কম)। ঢাকায় সবুজবাগে এক বাড়ির মালিক এক চিকিৎসককে ভাড়াবাড়ি ছাড়তে নোটিশ দিয়েছে, চিকিৎসক টাঙ্গাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত। মালিক টেলিফোনে একজন কর্মরত নার্সকে রাত ১০টার পর ভাড়াবাড়িতে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছে । কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষ বাড়ির মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে উল্টো নার্সের চরিত্র নিয়ে কথা বলতে শুরু করে। অবশ্য দুদক ইতিমধ্যে বাড়ির মালিকদের এমন সব আচরণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়ির মালিকরা দুর্ব্যবহার করছে, যখন তখন হেনস্থা করছে ।  যা আমরা ইন্টারনেট সংবাদ থেকে জানতে পারছি। 

২. পৃথিবীর অনেক দেশ ও রাষ্ট্রপ্রধানগণ ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের করোনাভাইরাস দুর্যোগ মুহূর্তের অবদান বিশেষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখছে, আমাদের মাননীয় প্রাধানমন্ত্রীও একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সহযোগিতা পাচ্ছে, জাতির বীরসেনা সম্মানে খ্যাতি পাচ্ছে। পোপ মহোদয় তাদের সেবাকাজে অভিভূত হয়ে বলেছেন- ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মিশনারি ও পুলিশসহ সকল সেবাকর্মীরা দুর্যোগ সময়ের বীরসেনা ও সাধুসম সেবাকর্মীদল।

৩. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম গত ৬ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দে "ত্রাণ নিতে গিয়ে ধর্ষিত হচ্ছে শিশুরা" শিরোণামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপের তথ্য পুরোপুরি এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে। জরিপ প্রকাশে সঞ্চালনা করেন 'মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' এর সিনিয়র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহানা হুদা। জরিপের তথ্য অনুযায়ী  এপ্রিল মাসে দেশের ২৭ জেলায় চার হাজার ২৪৯ জন নারী ও ৪৫৬ জন শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে, জরিপটি করেছে মোবাইল ফোনে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংস্থা । জরিপের তথ্য উপস্থাপন থেকে আরো জানা যাায়- এদের মধ্যে এক হাজার ৬৭২ জন নারী এবং ৪২৪ জন শিশু প্রথমবারের মতো নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ৯২ ভাগই তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে।

৪. জরিপ থেকে জানা যায়- সংস্থার দুইটি প্রকল্পের কর্মএলাকার ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭টি জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও চারটি সিটি কর্পোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী “স্বামীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন নারী, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই হাজার আটজন, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চারজন নারী, হত্যা করা হয়েছে একজনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।" জরিপে আরো জানানো হয়- "উত্তরদাতা চার হাজার ২৫৯ শিশুর মধ্যে ৪২৪ জন শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর বাইরে বাল্যবিয়ে হয়েছে ৩৩টি এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। চারজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৬ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়, অপহৃত  হয়েছে দুইজন, যৌন হয়রানির শিকার ১০ জন এবং রিলিফ নেয়ার সময় ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।"

৫. করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটের মধ্যে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে পারিবারিক এবং অন্যান্য সহিংসতা প্রতিরোধ, সহায়তা দিতেই জরিপটি চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম আরও বলেছেন- "লকডাউনের কারণে ইনডেপথ জরিপ করা সম্ভব হয়নি, সেজন্য টেলিফোনে করেছি। লকডাউনে পারিবারিক নির্যাতনের অবস্থা ও কি ধরণের নির্যাতন হচ্ছে তা জানতে চেয়েছি। তাদের কি ধরণের সাপোর্ট দেওয়া যায় সেটিও জানতে চেয়েছি।" তারা আরও বলেছেন- ‍‍"সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুরা যেন ফোন করে দ্রুত সহযোগিতা পায় সেজন্য সরকারি হেল্প লাইনগুলো আরও কার্যকর রাখার সুপারিশ করা হয়। সহিংসতার কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া নারীদের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়ার ব্যবস্থা করা ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া মহামারী পরিস্থিতিতেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চালু রাখতে ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ দ্রুত রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।"

৬. এসব গৃহসন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে, সেটা যত ছোট পরিসরেই থাকুক না কেন। অন্যথায় করোনাভাইরাস বিপর্যয় সামাজিক বিপর্যয়ে পরিণত হওয়া আশংকা থেকে যায়। তাতে বিপর্যয় আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এ দুর্গতি সময়ে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, "আমি এই মুহুর্তে আপনাদের সাথে স্মরণ করতে চাই  সেইসব নারীদের, যারা এই স্বাস্থ্য সংকটকালে অন্যদের দেখাশোনা করছেন, নারী ডাক্তার, নার্স, প্রশাসনিক কর্মী,  জেলখানার প্রহরী, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানকর্মী এবং মা-বোনেরা যারা পরিবারে সন্তান, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের সাথে নিজেরাও বন্দি হয়ে আছেন।" পোপ আশংকা  প্রকাশ করে আরো বলেছেন- এই গৃহবন্দি সময়ে নারীরা গৃহসন্ত্রাসের শিকার হতে পারে। পোপ ফ্রান্সিস আরো বলেছেন- "নারীরা যে সব সংকট মোকাবেলা ক’রে এমন অবস্থায় বসবাস করছেন, তা তাদের জন্য অত্যন্ত ভারী দায়িত্ব, ফলে তাদের উপর সন্ত্রাসের একটা ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।" আসুন, আমরা সচেতন হই, মানবিক সমাজ গড়ি।



ছবি: ইন্টানেট সংগৃহীত।

মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার কিছু উপলব্ধি ও কিছু সুপারিশ


১. পাঁচ বছর পূর্বে (মে ২৪, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ) পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস পৃথিবীর যত্ন ও পরিবেশের উপর একটি সর্বজনীন পত্র লিখেছেন। পত্রটির শিরোনাম 'লাউডাটো সি' (Laudato Si)  এবং বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে 'তোমার প্রশংসা হোক'; যা বিশ্বের সকল মানুষের প্রতি প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় জেগে ওঠার একটি আহ্বান। পোপ মহোদয়ের অনুপ্রেরণামূলক এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ লেখাটি বিশ্বের মানুষকে প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের বিষয়ে ভাবতে প্রেরণা যুগিয়েছে। সর্বজনীন পত্রটি প্রকাশের পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে পোপ মহোদয় 'লাউডাটো সি সপ্তাহ' (মে ১৬-২৪, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বানের আসল উদ্দেশ্য হলো এই অভিন্ন বসতবাটির যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার  জন্য যেন নিজেরা কিছু কিছু উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করি। এ অবরুদ্ধ সময়ে নিজের অবস্থানে থেকে প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য দায়িত্বশীল আচরণ করার মাধ্যমে অর্থপূর্ণভাবে সপ্তাহটি উদযাপন  করতে পারি।

২. এ বছরের শুরুতে ‘ন্যায় ও শান্তি কমিশন-বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী’র ‘জলবায়ু সুরক্ষা দপ্তর’ এর উদ্যোগে 'আমরা সবুজ, আমরা সুন্দর : WE ARE GREEN, WE ARE CLEAN' মূলমন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন ধর্মপল্লীর গ্রাম, পাড়া বা মহল্লায় প্রকৃতি ও পরিবেশের মাঝে প্রার্থনা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, বায়ু-জল-শব্দদূষণ নিরোধ, প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শাক-সবজি বাগান, বৃক্ষরোপণ, বসতবাটি সংলগ্ন জলাশয় নর্দমামুক্তকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত মলনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিষয়ক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক এলাকায় খ্রিস্টভক্তগণ গুরুত্বের সহিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে শুরু করেছে কিন্তু করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব বিস্তাররোধে লকডাউনের কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। নিজেদের সুস্থ পরিবেশের কথা চিন্তা করে গ্রামভিত্তিক, স্কুলভিত্তিক, পাড়াভিত্তিক বা মহল্লাভিত্তিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে পারি। এই অবরুদ্ধ সময়ে ব্যক্তিগতভাবে ও পারিবারিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি।

৩. পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন- ঈশ্বরের সৃষ্টিকর্মের যত্ন নেওয়া ও তা লালন ক’রে সৎ ও ধার্মিক জীবন যাপন করাই হচ্ছে আমাদের আহ্বানের মূল বিষয়; এটি আমাদের খ্রিস্টীয় জীবনের কোন ঐচ্ছিক বা আনুষঙ্গিক বিষয় নয় (লাউডাটো সি - ২১৭)। সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য বিষয়ভিত্তিক পড়ার অভ্যাস প্রয়োজন, তাতে বিষয় সম্পর্কে গভীর মনোযোগ দেয়া যায়। পোপ মহোদয়ের সাথে লাউডাটো সি চেতনায় একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য নিজেদের উদ্যোগ অর্থপূর্ণ করার জন্য অনুপ্রেরণামূলক পত্রটি পাঠ করতে পারি। পোপ মহোদয় কর্তৃক রচিত বাংলা অনুবাদের ১১৬ পৃষ্টার ৬টি অধ্যায়ের ২৪৬ পদ বিশিষ্ট পত্রটি শ্রদ্ধেয় বিশপ জের্ভাস রোজারিও খুব সংক্ষেপে ৪ পাতায় সারমর্ম তুলে ধরেছেন। বিশপ মহোদয়ের লেখাটি পড়তে পারি; যা অনলাইনে বরেন্দ্র দূত, বিডি খ্রিস্টান নিউজ (BDChristianNews) এবং প্রত্যাশা ব্লগে (litonhgomes.blogspot. com)  ন্যায় ও শান্তি কলামে পাওয়া যাবে। 

৪. পোপ ফ্রান্সিস স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন- মানুষ প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের প্রতি অনেক ক্ষতি করে চলেছে। পোপ মহোদয় আরও বলেছেন- ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মনপরিবর্তন’ অপরিহার্য, যাতে চতুর্দিকের জগতের সাথে মানুষের সম্পর্ক সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সুতরাং মনপরিবর্তন প্রক্রিয়ায় ৬টি ধাপ অনুসরণ করতে পারি। যেমন- প্রথম ধাপ- ধীর স্থির অন্তরে সৃষ্টির মাঝে সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি উপলব্ধি করি; দ্বিতীয় ধাপ- অপরূপ প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রশংসা করি; তৃতীয় ধাপ- ক্ষতবিক্ষত ধরিত্রীর ও বিপদাপন্ন দরিদ্র মানুষজন অবিরত কাঁদছে তা অন্তরে শুনি; চতুর্থ ধাপ- অনুতপ্ত হৃদয়ে আমরা স্বীকার করি- আমরা মানুষই প্রতিবেশ বা পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল কারণ; পঞ্চম ধাপ- তাঁর আহ্বান অন্তরে শুনি এবং সুনির্দিষ্ট কিছু কিছু পদক্ষেপ ও উদ্যোগ গ্রহণ করি; ষষ্ঠ ধাপ- একটি সুন্দর মনে সৃষ্টিকর্তার নিকট নিরন্তর প্রার্থনা করি, পত্রটির সমাপ্তির অংশে অর্থপূর্ণ দুইটি প্রার্থনা প্রস্তুত করা আছে।

৫. আমাদের অভিন্ন বসতবাটির প্রতি যত্নবান ও রক্ষণাবেক্ষণ তাগিদ অনুভব করার জন্য মৌলিক কিছু উপাদান নিয়ে গভীর মনোযোগসহ অনুধ্যান করতে পারি। যেমন- (ক) ভূমি বা মাটি, (খ) বায়ু বা বাতাস, (গ) আগুন এবং (ঘ) জল ইত্যাদি। এসব আমাদের জীবনযাপনে অপরিহার্য উপাদান, এসব ছাড়া জীবন বাঁচতে পারে না। প্রকৃতি ও পরিবেশ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন বিষয় নয় বরং একটি সমন্বিত পরিবেশ যেখানে আছে প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক বিষয়। এখানে শুধু মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করলে হবে না; বরং বনের জীব-জন্তু, আকাশের পাখি-পঙ্গপাল, বাতাসে উড়ে বেড়ানো মশা-মাছির মত প্রাণীকুল, ভূমির পোকা-মাকর ও সরিসৃপ, নদী ও জলাভূমির মাছ, সমুদ্রের সকল জীবের কল্যানের বিষয়ও ভাবতে হবে। ঈশ্বর তো এদেরও সৃষ্টি করেছেন, প্রকৃতিতে এদের একটি করে ভূমিকা দেওয়া আছে। 

৬. এই অবরুদ্ধ সময়ে প্রতিদিন পারিবারিক রোজারিমালা প্রার্থনার সময় প্রতিটি নিগূঢ়রহস্য ধ্যান করার পূর্বে একজন কিছু সময় পরিবেশ সুরক্ষায় করণীয় বিষয়সমূহ সহভাগিতা করতে পারি। যেমন- করোনভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের পদক্ষেপসমূহ। পুণ্যপিতা পোপ মহোদয়ের সাথে একাত্ম হয়ে মহামান্য কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সিএসসি কয়েকটি কর্মকাণ্ড গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সব বিষয় নিয়েও সহভাগিতা করা যায় যেমন:  (ক) পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা- নিজের দেহ থেকে শুরু করে পোশাক-আশাক, ঘরবাড়ী, রাস্তাঘাট, কর্মস্থল, সমাবেশস্থল, প্রভৃতির পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা; (খ) অপচয়রোধ- প্রয়োজন অতিরিক্ত খরচপাতি, জিনিসপত্র ও দ্রব্যসামগ্রীর অপব্যবহার, ভোজনবিলাস ও ভোগের মানসিকতা বর্জন; (গ) দূষণমুক্ত পরিবেশ- শব্দ, বায়ূ ও জল - সকল প্রকার দূষণমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা; (ঘ) স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ- প্রকৃতিজাত, বিশুদ্ধ ও সুষম খাদ্য আহার ও পানীয় পান করা। পবিত্র বাইবেলে স্বর্গদূতের মুখে সংবাদ শুনে  মারীয়া যেমন এলিজাবেথকে সেবাযত্ন করতে দ্রুত ছুটে গেলেন, পিতরের শাশুড়ি ও মার্থা-মারীয়া যেমন পরিবারে সেবারত ছিলেন এবং ক্ষুদ্র নারীদলটি যেমন সমাধিগুহায় যিশুর দেহে সুগন্ধি সামগ্রী লেপন দিয়ে নিজেদের যত্নবান ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকটি প্রকাশ করেছেন; আমরাও তাদের মত অন্তর নিয়ে পরিবার ও পরিবেশের প্রতি আরও বেশি যত্নবান ও রক্ষাণাবেক্ষণ করতে পারি। প্রার্থনা সময় সহভাগিতার আলোকে খাবারের সময় আলোচনা করে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে পারি।

৭. যিশু প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকতেন বলেই আমাদেরও সৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আহ্বান করেছেন। পরিবেশ সুরক্ষায় শিশু-কিশোরদের অবদানও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ইতোমধ্যে সতের বছর বয়সী জলবায়ুকর্মী সুইডেনের গ্রেটা থানবার্গ এর নাম শুনেছি, সে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে । এই অবরুদ্ধ সময়ে শিশুরা প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের বিভিন্ন বিষয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি অংকণ করতে পারে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধু ও আত্মী-স্বজনের সাথে শেয়ার করতে পারে। বাছাইকৃত ছবিসমূহ অবরুদ্ধ সময় অতিক্রান্ত হলে বাঁধাই করে রাখা যায়। করোনাভাইরাস মহামারী সময়ে অনেক যুবসংগঠন মানবসেবায় অংশগ্রহণ করেছে, যুবকরা পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়েও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। পোপ মহোদয়ের সাথে একাত্ম হয়ে প্রত্যেক ডাইওসিসের বিশপ মহোদয় অবশ্যই ভক্তজনগণের উদ্দেশ্যে 'লাউডাটো সি সপ্তাহ' উদযাপন করার সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কর্মকাণ্ড গ্রহণের আহ্বান করেছেন। বিশপ মেহোদয়ের আহ্বানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা একটা গুরুত্বপূর্ণ মাণ্ডলিক দায়িত্ব।

৮. দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে আগ্রহ বৃদ্ধি করা যায় কারণ গাছগুলি কার্বনডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং প্রচুর ছায়া দিয়ে থাকে। দেশীয় প্রজাতির গাছ বেড়ে উঠতে কম জল প্রয়োজন হয়, গাছগুলো আরও শক্ত হয় এবং এগুলো স্থানীয় বন্যজীবকে আকর্ষণ করে। এসব গাছ স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতিতে সহায়ক এবং এগুলো মাটির ক্ষয়রোধসহ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস করে। বাড়ির আশেপাশে খালি জায়গা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। সুতরাং দেশীয় গাছ ও ঘাস লাগানো যত বেশি পরিমান বাড়ানো যায় ততই উপকার পাওয়া যাবে। বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলের বন-জঙ্গল বাঁচাতে বন্যজীবনের চামড়া থেকে তৈরি পণ্যগুলি বর্জন করা দরকার। বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলের বন-জঙ্গল সমৃদ্ধ দেশগুলি থেকে আমদানীকৃত কাঠের পণ্যগুলি কিনতে গিয়ে পণ্যসমূহ পরিবেশ-বান্ধব সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এসেছে তা নিশ্চিত হওয়া দরকার ।

৯. নিজ বাড়িতেই সার তৈরি ও ব্যবহার করলে ফলাফল উত্তম হবে। রান্নাঘরের অবশিষ্টাংশ, পাতা-লতা ও আবর্জনাগুলি মিশ্রিত করে উত্তম সার তৈরি করা যায় এবং এসব গাছের বৃদ্ধি জন্য আরও ভাল সার হিসেবে সহায়তা করে। সার তৈরি সম্পর্কে  বই বা বিভিন্ন লেখা পড়া যেতে পারে। এ বিষয়ে নিজ এলাকায় অত্যন্ত দক্ষ কাউকে পাওয়া গেলে পরামর্শ নেয়া যায়। মনে রাখতে হবে- মাটি একটি জীবন্ত উপাদান, এটি পাউডারযুক্ত এবং মারা উচিত নয়। জীবন মাটি থেকে আসে এবং তাই মাটি বাঁচিয়ে রাখা উচিত। সুতরাং মাটি বায়ুযুক্ত রাখতে খুব আক্রমণাত্মক বিষয়সমূহ এড়িয়ে চলা দরকার। 

১০. সঠিক হতো যদি প্লাস্টিকের অস্তিত্ব না থাকত এবং আমাদের পুনর্ব্যবহার করার প্রয়োজন না হত। যেহেতু আমরা এমুহূর্তে তা বাদ দিতে পারছি না তাই সঠিকভাবে ব্যবহার করার দিকে গুরুত্ব দিতে পারি। যারা ইতোমধ্যে সঠিকভাবে পুনর্র্ব্যবহার করছে তাদের অভিজ্ঞতা শুনতে ও প্রয়োগ করতে পারি। আবর্জনা হিসেবে প্লাস্টিক বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বতন্ত্রভাবে মোড়ানো ক্যান্ডি প্লাস্টিক ব্যবহার করে থাকে এবং প্রচুর আবর্জনা তৈরি করে যা মাটিকে নষ্ট করে ফেলে। তাই কোন পণ্য কেনার আগে প্লাস্টিক মোড়কের কথা ভাবা যেতে পারে, এসব পরিবেশকে বহুমাত্রিক এবং ক্রমবর্ধমানভাবে নষ্ট করছে।   

১১. পোষা প্রাণীটিকে যখন আর প্রতিপাল করতে ইচ্ছা হবে না তখন এদের উন্মুক্তভাবে ছেড়ে দেয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয়। এতে প্রাণীটি স্থানীয় পরিবেশে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বন থেকে সংগ্রহ করা বিদেশী পোষা প্রাণী কিনতে যাওয়ার আগে ভাবতে হবে। পোষা প্রাণীর দোকানে প্রাণীটি  'বন্য-সংরক্ষিত' বা 'গৃহ-প্রজনন' এবিষয়ে তথ্য নিশ্চিতকরণ দায়িত্বশীল আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। 'গৃহ-প্রজনন'  প্রাণী পরিবেশের জন্য আরও বন্ধুত্বপূর্ণ। পোষা প্রাণী কেনার আগে নিজের আগ্রহ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে  যে এটির যত্ন নিতে আমি প্রস্তুত। পোষা প্রাণী প্রতিপালনে যত্নবান ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

১২. প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের ক্ষতির ধরন ও বিভিন্নতা বহুমাত্রিক এবং ক্রমবর্ধমান। এখন সুনির্দিষ্টভাবে কাজ শুরু করার একটা সমন্বিত রূপরেখা দরকার। স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষা সংগঠনে যোগদান করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা যায়। পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মীদের অর্থায়ন করাও একটি ভালকাজ। নিজের কল্যাণে কথা ভেবেই প্রকৃতি, পরিবেশ এবং প্রতিবেশী সুরক্ষা সুসংবাদটি আপন পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র একটি আহ্বান। ইতোমধ্যে অনেকে নীরবে কাজ করে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছে। অর্জনসমূহ সমবেতভাবে সহভাগিতা করে এগিয়ে যাওয়াটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সত্যিকার অর্থেই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গণ্ডি ত্যাগ করে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ভাবে প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একসাথে কাজ করা অধিকতর কল্যাণ হবে। অন্যথায় আরও মাশুল দিতে হবে আগে না হোক অদূর ভবিষ্যতে। পোপ মহোদয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের সুরক্ষায় 'লাউডাটো সি সপ্তাহে' আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ মহান কিছু অর্জন সম্ভব হবে।



শনিবার, ৯ মে, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে অন্তর কাঁদছে, এটাই আমাদের প্রার্থনা- নিখিলেশ বাবু


১. অবরুদ্ধ সময়ে একটা মৃত্যু সংবাদ কতটা বেদনার্ত করতে পারে তা টের পেলাম নিখিলেশ বাবুর মৃত্যুর সংবাদ শুনে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে নটর ডেম পরিবারে বেগবান একটা ঝড় সাংঘাতিকভাবে আঘাত দিয়ে গেল। গতকাল ৭ মে, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ১:৪৫ মিনিটে তিনি সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন। নিখিলেশ ঘোষ নটর ডেম কলেজের বাংলা বিভাগের মধ্যবয়সী উদীয়মান শিক্ষক ছিলেন। ক্লাশ বন্ধের কারণে ৫২দিন পূর্বে আমাদের শেষ দেখা হয় তারপর প্রবেশ করি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের অনিশ্চিত জীবনকালে। নিখিলেশ বাবুর সাথে অনেক সময় এক সাথে কাটিয়েছি, পরীক্ষা-কুইজ সংক্রান্ত আলাপ করতে করতে, ছাত্রদের বিষয়ে আলাপ করতে করতে, ক্লাব সংক্রান্ত আলাপ করতে করতে, পিকনিকে এলোমেলো ঘুরাফেরা করতে করতে, কখনও ক্যান্টিনে চা-কাপ হাতে আড্ডা দিতে দিতে। এসব ছিল চলার পথে জীবনবোধ উজ্জীবিত রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা, অবরুদ্ধ সময়ে এমুহূর্তে সবই এলোমেলো স্মৃতি হয়ে রইল। খুব নীরবে চলে গেলেন আমাদের ধীর স্থির নিখিলেশ বাবু, তিনি ছিলেন আমার দেখা একজন ভদ্রলোক।

২. অবরুদ্ধ সময়ে এমন বেদনার সংবাদ শুনে মনে পড়েছে তার ছেলে নিলাভ্র এর মুখখানি। ভাবছি চঞ্চল দুরন্ত ছেলেটির অন্তরে না জানি কী ভীষণ ভয়ানক ঝড়টা বয়ে যাচ্ছে।হয়তো ছেলেটি হতভম্ব নির্বাক হয়ে আছে। প্রায়ই স্কুল শেষে বাবার কাছে চলে আসত, সারাক্ষণ দুষ্টুমিতে মেতে থাকত, বাবা-ছেলের দুষ্টুমি ভালই লাগত। প্রাণচঞ্চল ছেলেকে নিয়ে প্রায়ই টিম ভবনে নীচের তলায় আমরা অফিসে সামনে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আলাপ করত। কখনও নিখিলেশবাবু চলে যেতেন ক্লাশে, তখন নিলাভ্র থাকত আশেপাশে দুষ্টুমিতে, আর অপেক্ষায় থাকত বাবা কখন ক্লাস শেষে বের হবে। এ অসময়ের বিচ্ছেদ আধ্যাত্মিক একাত্মতায় লালিত হবে ছেলেটির অন্তরে নিরন্তর। ভাবছি তার সহধর্মিনীর মনের অবস্থা, দু’তিন মাসের শিশু সন্তান নিয়ে কী সংকটময় ক্রান্তিকালটা অতিবাহিত করছে। ছেলে কাঁদছে, স্ত্রী কাঁদছে, আপনজনরা কাঁদছে, নটর ডেম পরিবারের আমরাও কাঁদছি। কারও চোখভেজা, কারও বুকফাটা, কারও অন্তর বিদীর্ণ, কারও আর্জিসমেত এই কান্নাই তাঁর নিকট আমাদের প্রার্থনা- হে দয়াময় ঈশ্বর, নিখিলেশ বাবুর প্রতি দয়া কর, তার পরিবারকে সান্ত্বনাদান কর। তাঁকে মিনতি জানাই, নিখিলেশ বাবু যেন চির সুখেই থাকে। অবরুদ্ধ সময়ে কলেজের পিয়ন ধর্মপ্রাণ খালেকভাইকে হারিয়েছি। তার আত্মার চিরকল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করি।


৩. অবরুদ্ধ সময়ে বার্ধক্যজনিত ব্যধিতে দুর্বল যারা তারা কাঁদছে, যারা একাকী সেবাকেন্দ্রে আছে তারা কাঁদছে, যারা হাসপাতালে অসুস্থ অথবা নিজ বাড়িতে বিপদাপন্ন তারাও কাঁদছে। তারা কাঁদছে কারণ তাদের ভয় তারা জানে না আগামীকাল তাদের জীবনে কী ঘটতে যাচ্ছে। এ কান্নাই তাদের প্রার্থনা- হে ঈশ্বর, তুমিই একমাত্র ভরসা, আমাদের প্রতি দয়া কর। 

৪. অবরুদ্ধ সময়ে যারা বেকার অথবা যাদের স্থায়ী কোন আয়ের উৎস নেই, তারাও নীরবে কাঁদছে। যারা দিনমজুর অথবা অতি দরিদ্র তারাও কাঁদছে। কারণ তাদের ভয় কীভাবে আগামীকাল আপনজনদের মুখে খাবার যোগান দিবে। কারখানা শ্রমিক, অভিবাসী শ্রমিক,  পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে কাঁদছে, বিক্ষোভে নেমে কাঁদছে। কারণ দুর্যোগে তাদের বেতন দেয়া হচ্ছে না, আপনজনরা অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অবরোধ, বিক্ষোভ, মিছিল আর আর্তচিৎকার সবই জীবন বাঁচানোর কান্না। সমবেত এ কান্না মালিক পক্ষের নিকট প্রার্থনা- আমাদের দয়া করুন, তবুও আপনজনদের জীবন বাঁচুক। তাদের কান্না- মানব মর্যাদা ও কাজের মর্যাদা সুরক্ষার আর্জি।  

৫. অবরুদ্ধ সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণে এ পর্যন্ত ২৭২,২৮৬জনের মুত্যু হয়েছে, তাদের স্বজনরা কাঁদছে।  সময়ে আমরাও কাঁদছি কারণ এ সময়ে আমাদের সকলেরই নিজেস্ব ভয় আছে, আমাদের ভয় আমরা জানি। আমার শ্রদ্ধেয় বাবাও পাঁচ বছরপূর্বে স্বর্গবাসী হয়েছেন, এ অবরুদ্ধ সময়ে তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে হবে। আপনজনরা অন্তরীণ সময়ে গভীরভাবে তার আত্মার স্বর্গসুখ কামনা করে প্রার্থনা করছি। একদিন বহুলোকের সঙ্গে খ্রিস্ট যিশু যখন জেরিখো ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তখন অন্ধ ভিক্ষুক বার্তিমেয় পথের ধারে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছিল, আর বলছিল আমাকে দয়া করুন। যিশু তাকে বললেন- কী চাও তুমি, সে উত্তরে বলল- গুরদেব আমি যেন দেখতে পাই (মার্ক ১০:৪৬-৫২)। খ্রিস্ট যিশুর সমাধিস্থানে এসে মা মারীয়া কাঁদছিলেন। জীবন্ত যিশু দেখা দিয়ে তাঁকে বললেন- মা, কাঁদছ কেন? মারীয়া বললেন- দয়া করে বলুন কোথায় রেখেছেন তাঁকে (যোহন ২০:১১-১৮)। বার্তিমেয় কাঁদছে, সে প্রার্থনা করছে- যেন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। মা মারীয়া কাঁদছে, তিনিও প্রার্থনা করছেন- তাঁর সন্তানকে যেন ফিরে পায়। পোপ ফ্রান্সিস আহ্বান করেছেন- এমন সময়ে আমরা যেন ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখি এবং নিয়মিত প্রার্থনা করি। ক্রন্দনরত ভক্তদের অন্তরে তিনি জাগাবেন আত্মিক জীবনীশক্তি ও পরম ত্রাণশক্তি। তাঁর অনুগ্রহে তখনই ভক্তরা শক্তিমান হয়ে উঠবে। আস্থা রাখে যারা তাদের অন্তরে তিনি আশার জীবনীশক্তি জাগাবেন ।

৬. অবরুদ্ধ সময়ে পোপ ফ্রান্সিস আরও বলেছেন- করোনাভাইরাসে আক্রান্তে ক্ষতবিক্ষত বিশ্ব কাঁদছে, আক্রান্তদের আপনজনেরা কাঁদছে, যারা আক্রান্ত তারা কাঁদছে, যারা মারা গেছেন তাদের আপনজনরাও কাঁদছে। খ্রিস্ট যিশুর খুবই প্রিয় একযুবক লাজার মারা যাবার পরে তার বোন মার্থা, মারীয়া ও উপস্থিত লোকেরা কাঁদছে দেখে খ্রিস্ট যিশু অন্তর থেকে কেঁদে ফেললেন (যোহন ১১:৩৩-৩৫)।  খ্রিস্ট যিশু আজ আমাদের সাথে এ দুর্যোগ সময়ে কাঁদছেন, আমাদের জন্য পিতা ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করছেন- তাঁর ভক্তরা যেন নিরাপদে থাকে। পোপ মহোদয় আমাদের সকলের কান্নার সাথী হয়ে আছেন। প্রতিদিন তিনি গভীরভাবে আমাদের জন্য চিন্তিত এবং নিয়মিত প্রার্থনা উৎসর্গ করছেন। পোপ মহোদয় আহ্বান করেছেন- আমরা সকলে যেমন কাঁদছি তেমনি আমাদের কান্না যেন পরস্পরের প্রতি ভালবাসায় পরিণত হয়। অন্যদের জন্য যেন প্রার্থনা করি, দয়া দেখাই ও মঙ্গল কাজ করি। আসুন, ক্রন্দনরত চোখে আর্তজনেরা আর্জি জানাই ঈশ্বরের কাছে- পীড়িতরা আরোগ্য পাক দ্রুত, চিরনিদ্রারত যারা তারা পাক স্বর্গে চিরসুখ, বেঁচে আছি যারা আমরা যেন সান্ত্বনা পাই ও সুরক্ষিত থাকি। নিখিলেশ বাবু, আপনি স্বর্গে সুখে থাকুন, আমাদের জন্য প্রার্থনা করবেন।


ছবি: Notre Dame College Alumni Association, facebook.com

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে মানবিক আচরণ করি


১. এ দুর্যোগ সময়ে আমরা দেখছি- কিছু লোকজনের আচার-আচরণে মানবিক বিপর্যয়ের পদচিহ্ন অন্যদিকে অনেক হৃদয়বান লোকজনের দায়িত্বশীল মানবিক আচরণ। সংবাদ থেকে নেয়া কিছু ঘটনা আমরা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারি এবং সদ্বিবেচনা ব্যবহার করে যা সঙ্গতিপূর্ণ, বাস্তবধর্মী ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারি। দেশের দক্ষিণ এলাকা গোপালগঞ্জের একজন স্বাস্থ্যকর্মী যুবতীনারী; সে হাওড় এলাকার সাধারণ, সহজ, সরল, অতি দরিদ্র পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যা। আপনজনদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ঢাকা শহরে একটি অ-সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কাজ করে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে একসময় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ ঘোষণা করে, কিছুটা বাধ্য হয়ে সে লকডাউন উপেক্ষা করে অনেক কষ্টে গ্রামে আপনজনদের কাজে চলে আসে। দুর্গত সময়ে মেয়েকে কাছে পেয়ে আপনজনরাও খুশী। কিন্তু সামাজিক নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের কাছে তারা হেরে যায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার হুকুমে লকডাউন হিসেবে তালপাতার 'ঝুপড়িবন্দি' হয় মেয়েটি। বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি ও কাদাময় পুকুরধারে ভয়ে আতঙ্কে মেয়েটির লকডাউন জীবন শুরু হয়। পরিবারের আপনজনদের জীবন বাঁচাতে যুবতী মেয়ে ঝুঁকি নিয়ে শহরে কাজে গিয়েছে, এখন দুর্যোগে নিজের জীবন বাাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ এ দুর্গতি গ্রহণ করেছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সময়ে সৃষ্টিকর্তা পরমকরুণা দেখিয়েছেন,  মেয়েটিকে বড় ক্ষতির আশংকা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রক্ষা করেছে। মেয়েটির জন্য আপনজনদের পাশে স্থানীয় প্রশাসন টিনের একচালা তৈরি করে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। একদিকে সমাজের কিছু মানুষের নিষ্ঠুর অবস্থান অন্যদিকে একই সমাজের মানুষদের দয়াশীল মানবিক আচরণ; এসব আমরা প্রত্যক্ষ করছি এ দুর্যোগ মুহূর্তে।

২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাগড়াছড়ির একজন শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে কোথাও চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে। তার ভাই জানিয়েছে- দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিল তার ভাই। ভারতেও সে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিল। দেশে ফিরে আবারও ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিলে কোথাও চিকিৎসা না পেয়ে খাগড়াছড়ির আগাশিলং পাড়ার নিজ ঘরে তার মৃত্যু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি খোঁজখবর নিয়েছেন, ডাক্তারদের জবাবদিহিতা চেয়েছেন।

৩. আমরা খবরে পড়েছি চাঁদপুরের অতি দরিদ্র বৃদ্ধ অভিবাসী শ্রমিক ঢাকা কেরানিগঞ্জে কারখানা মজুর ছিল। অসুস্থতা অনুভব করলে নিজ গ্রামে বাড়িতে ফিরে যায়। তার গ্রামের বাড়িতে কেউ বসবাস করে না; স্ত্রী  আগেই মারা গেছে। কিন্তু সামাজিক নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তের কারণে নিজের ঘরে আশ্রয় নিতে পারেনি। অবশেষে পাশের গ্রামে একমাত্র মেয়ে শশুরবাড়িতে যায়, কিন্তু মেয়ের আপনজনরা তাকে আশ্রয় দিতে রাজি হননি। অবশেষে তারা বৃদ্ধকে পাশের ঈদগাহ্ মাঠে ফেলে আসে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ করুণা, স্থানীয় প্রশাসন বৃদ্ধকে তাদের আশ্রয়ে নিয়েছে।  অন্য আরেকজন বাবার মৃত্যু হলে তার মৃত্যুর সনদ নিয়ে মৃতদেহ হাসপাতালে ফেলেই চলে এসেছে আপন সন্তানরা। বাবার পেনশনের টাকা তোলার জন্য ছেলেমেয়েরা হয়তো মৃত্যুর সনদ তুলে নিয়েছে।  

৪. মা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শেরপুরের নালিতাবাড়ি যাবার পথে সখিপুরের জঙ্গলে অসুস্থ মাকে ফেলে আসে মেয়ের জামাইসহ অন্যরা। সারারাত সেই মায়ের আর্তচিৎকার পথের কুকুর আর গাছের পাখি ছাড়া আর কারও কানে পৌঁচ্ছেনি। পরদিন এলাকাবাসী ও পথচারীরা চিৎকার শুনে খবর দিলে পুলিশ উদ্ধার করে বিপদাপন্ন নারীকে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে পটুয়াখালির রাঙ্গাবালির এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে রাস্তায় ফেলে যায় আপনজনরা। স্বামী পরিত্যক্তা অতি বিপদাপন্ন নারী সারারাত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত কাটায় খোলা আকাশের নীচে। উপজেলা কর্মকর্তা এবং ওসি খবর পেয়ে নারীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করে; পরে তার স্বজনদের কাছেই ফেরত পাঠায়।

৫. করোনাভাইরাস আক্রান্ত না হয়েও পাঁচ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন এক প্রকৌশলী। পারিবারিক সূত্র জানায়- তার বংশগত হাপানি ও অ্যাজমা রোগ ছিল। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ পাঁচ হাসপাতালে সে চিকিৎসার জন্য ঘুরেছে। আত্মীয়স্বজন অভিযোগ করেছে- সাভার উপজেলা এলাকায়  করোনাভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসা না দিয়ে আনসার ডেকে জোর করে এক হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তার মৃত্যুর পর তার এক প্রতিবেশীসহ তার বাড়ি প্রশাসন লকডাউন করে দেয় ।

৭. সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের এক ইটভাটা শ্রমিক জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যান। তার মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খাটিয়া নিতে বাধা দেয়  গ্রামবাসী। বাধ্য হয়ে মৃতের বাবা ও দুই ভাই মৃতদেহ নিজেদের কাঁধে বয়ে নিয়ে যায় এবং দাফনের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসের ভয়ে মৃত ব্যক্তির সৎকারে যখন ছেলেমেয়েসহ অন্য আত্মীয় স্বজন আসেনি এবং কেউই ধর্মীয় আচার পরিচালনা করতে রাজি হননি;  তখন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী নিজ কাঁধে খাটিয়া তুলে সহকর্মীদের সাথে নিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেছেন। 

৮. তাঁর মতই দয়ালু হতে সৃষ্টিকর্তা আমাদের আহ্বান করেন; এই অভিন্ন বসতবাটির সকল জীবনের রক্ষণাবেক্ষণ করা তাঁর প্রদত্ত দায়িত্ব। আমাদের মানবিক আচরণ ও কাজসমূহের ভিত্তি তিনটি ঐশগুণের সমন্বয়; এগুলো হলো- বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসা। আমাদের কাজে বিশ্বাস, আশা ও ভালবাসা প্রকাশকে দয়া, দয়ার কাজ বা দয়াশীলতা বলে থাকি। দয়ার কাজসমূহ দুই ভাগে চিন্তা করতে পারি- (ক) দৈহিক দয়ার কাজ: যেসব দয়ার কাজ অন্যের বাহ্যিক প্রয়োজন পূরণে সহায়ক; যেমন- অতি দরিদ্র-বৃদ্ধ-বিপদাপন্নদের সাহায্য করা, অনাথদের ভরণপোষণ করা, মৃতের সৎকার করা ইত্যাদি এবং (খ) আধ্যাত্মিক দয়ার কাজ: যেসব দয়ার কাজ অন্যের মন ও হৃদয়ের অভাব প্রয়োজন পূরণ করে থাকে; যেমন- প্রার্থনা করা, সৎ জীবন যাপন করা, সুপরামর্শ দেওয়া, অন্যের দুঃখ-কষ্টে একাত্মতা প্রকাশ করা ইত্যাদি। প্রতিদিন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দয়ার কাজ আমাদের মানবজীবন অর্থপূর্ণ করে; দয়ায় মানুষ হতে সহায়তা করে, আমরা দয়ালু হয়ে উঠি। আমাদের কিছু কিছু দয়াশীলতা আমাদের পরিবার, পরিবেশ, কর্মস্থল, আমাদের সমাজবদ্ধ জীবনে রূপান্তর এনে দিতে পারে। এইজন্যই আমরা হয়ে উঠেছি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম। এ দুর্গতিতে শুধুই মানবিক লোকজনে ও তাদের দয়ার কাজে ভরে উঠুক দেশ।


(ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি কিছু সুপারিশ


১. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- আপাতত কোনো স্কুল-কলেজ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে না, তবে জীবনযাপনের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা যেতে পারে। সোমবার সকালে (বিডিনিউজ২৪.কম, এপ্রিল ২৭, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন- "স্কুল এখন আমরা খুলব না। স্কুল কেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাও খুলব না।"  তিনি আরো বলেছেন- "অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্কুল কলেজ সবই বন্ধ থাকবে যদি না করোনাভাইরাস তখনও অব্যাহত থাকে। যখন এটা থামবে আমরা তখনই খুলব। বেশি জনসমাগম যেন না হয়।"

২. ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন- পাঠদানের ধারাবাহিকতা রাখতে ২৯ মার্চ থেকে সংসদ টিভিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়েছে, আর গত ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের ক্লাস শুরু হয় । এই ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে এসব বাড়ির কাজ দেখাতে হবে। মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজের উপর প্রাপ্ত নম্বর তাদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং নিয়মিত ক্লাশ অনুসরণ করলে, খাতায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নোট নিতে থাকলে এবং তারিখভিত্তিক নিজেদের বাড়ির কাজ করে নির্দিষ্ট ফাইলে রাখলে ক্লাশ শুরু হলে সুবিধা হবে।

৩. সুতরাং শিক্ষার্থীরা কিছুদিন যাবৎ লেখাপড়ার প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বিচ্ছিন্ন তবে শিক্ষাগ্রহণ থেকে কিন্তু পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। ইতোমধ্যে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় অনেকেই শিক্ষার আগ্রহটা চলমান রেখেছে। করোনাভাইরাস মহামারী চলাকালীন সময়ে বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া চলমান রাখা দরকার। পোপ মহোদয় বলেছেন- এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রা সচল রাখার জন্য মনোযোগিতা ও সৃজনশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ দুর্যোগে বদলে যাওয়া ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানিয়ে নিতে চেষ্টা করতে হবে।

৪. বাসা, স্কুল, পড়া, বন্ধু এবং খেলাধুলা এসব স্বাভাবিক ছন্দময় জীবনের করোনাভাইরাসের কারণে ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থা শুরু হয়েছে ।  ছুটি ঘোষণা হলে প্রথমে বিষয়টা যতটা আনন্দের ছিল, তবে দিন গড়ানোর সাথে সাথে ততটা দখল করছে অস্থিরতা। বিশ্বজুড়ে পরিবার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য দিনের বেলা জীবনের ছন্দ বদলানো কঠিন হয়ে পরেছে,  বিশেষত যখন স্কুলের পাঠসমূহ ঘরে বসে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এই মহামারীর দুর্যোগে বাবা-মা সন্তানকে জীবনের খুব মূল্যবান একটি দর্শনের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে পারে- প্রত্যেকের জীবনে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা আসবে এবং সেই অনিশ্চয়তার ভিতরেও জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

৫. শিক্ষার্থীদের অন্তরের ‘আশা’ সব সময় জাগ্রত রাখতে হবে, নিরাশ হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে একদিকে করোনাভাইরাস মহামারী বিশ্বকে একটি বিরাট ট্র্যাজেডি ও বিঘ্নের মধ্যে ফেলেছে অন্যদিকে বিশ্বকে ট্র্যাজেডি জয় করতে একত্রিত করেছে। করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করতে বিশ্বজুড়ে মহামারী নিয়ে ‘একটা যুদ্ধ’ চলছে। এসময়ে বিশ্বের সব জ্ঞান, সব বিজ্ঞান, সকল পরামর্শ নিয়ে মানুষকে রক্ষা করার লড়াই চলমান আছে; মানবতার পক্ষে বিশ্ব একত্রে একমাত্র লক্ষ্য তৈরি করেছে। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য আশার আলো ও অনুপ্রেরণামূলক।

৬. প্রথমেই লেখাপড়ার নতুন অবস্থাটার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে, এজন্য একটি নিয়মিত সময়সূচী থাকলে খুবই সহায়ক হবে। বড়দের সহযোগিতা নিয়ে ‘একটি সৃজনশীল রুটিন’ প্রস্তুত করলে উপকার হবে। রুটিন মোতাবেক নির্ধারিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও উঠা, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস,  প্রার্থনা এবং বিষয়ভিত্তিক পড়ায় নিজেকে অভ্যস্ত করলে উপকার হবে। অবসর সময়ে সখের বিষয়সমূহ- ছবিআঁকা, গান-নাচ অনুশীলন, বইপড়া, খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার অভ্যাস করা যেতে পারে। নিজের একটা শৃঙ্খলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বাড়িতে অবস্থান করে কিছু শিখতে আরও বেশি শৃঙ্খলা প্রয়োজন। অভিভাবকবৃন্দ পাশে থেকে শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি সহযোগিতা করতে হবে, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী বিষয়াদি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। 

৭. পরিবারের একত্রে অনেকজন একসাথে সময় কাটছে তাই একে অপরকে পড়ালেখায় সহযোগিতা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষককে টেলিফোন বা অনলাইনে যোগযোগ করে কিছু সহযোগিতা গ্রহণ করা যেতে পারে। তাছাড়া অনলাইনে সহপাঠীদের কাছ থেকে পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তা প্রদান ও গ্রহণ করা যেতে পারে। 

৮. যাদের ঘরে কম্পিটার আছে তারা ঘরে বসে পরিবারের সদস্যদের সাথে কম্পিউটার সহভাগিতা করতে পারে। একে অন্যকে আরো বেশী সাহায্য করতে পারে। অনলাইনে যাদের সুযোগ আছে এই নতুন পদ্ধতিটার সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে হবে, অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যাদের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুযোগ নাই তাদের জন্য অনেক অসুবিধা হবে। অনলাইন ক্লাশ ও সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি  হতে পারে, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য। এক্ষেত্রে যাদের সুযোগ আছে তারা বন্ধুদের মধ্যে যারা সুবিধা-বঞ্চিত তাদেরকের সহযোগিতা করার নতুন কৌশল উদ্ভাবন করতে পারে। একটাও একটি দয়ায়কাজ, তাতে বঞ্চিত অনেকে সুযোগ পাবে।

৯. এসময়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভ্রান্ত ও বিচলিত হলে লেখাপড়া বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। টিভির খবর নির্দিষ্ট সময় ধরে দিনে শুধু এক-দুইবারের বেশি দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। সেইসাথে এই মুহূর্তে স্মার্টফোন থেকে নেতিবাচক কোনো প্রচার শেয়ার না করাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নেতিবাচক কোনো কিছু এলে সেটাকে আমরা ভাইরাসের মতো মুছে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। পড়ালেখা ও জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনে মাত্র ফেসবুক ব্যবহার করা যায়, নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যতিত বিভ্রান্তকর বার্তা মুছে পরিষ্কার করতে হবে। 

১০. শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ করছে একটি সাধারণ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান একত্র করে দুর্দান্তভাবে গবেষণা করে যাচ্ছে। একটি বড় বিজয় দেখার জন্য বিশ্বের বিজ্ঞানীদের একসাথে কাজ করার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য একটা অনুপ্রেরণা হতে পারে। কখনও কখনও কঠিন বিষয়ে শেখার জন্য 'দলীয় পদ্ধতি' সত্যই কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ যা শিক্ষার্থীরা অনুসরণ করতে পারে।

১১. নিজের তরফ থেকেই শিক্ষার্থীদের একটা উদ্যোগ নিতে হবে।  কেননা যেকোন রোগ থাকুক, খারাপ জিনিস থাকুক বা অসুস্থতা থাকুক সেটার ব্যাপারে সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। বাসায় থেকে প্রথমেই নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, কেননা প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ সুস্থ হয়ে ফিরছেন। তবুও ঘরে থাকতে হবে, সাবধানে থাকতে হবে।

১২. এমন সময় পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন-  আমরা আজ সেই শিক্ষকদের জন্য প্রার্থনা করছি যাদের ইন্টারনেট এবং অন্যান্য ডিজিটাল উপায়ে পাঠদানের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আমরা এমন শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রার্থনা করি যাদের অভ্যাস না থাকা সত্ত্বেও বিকল্পভাবে পরীক্ষা দিতে হবে।  তিনি আহ্বান করেছেন- আমরাও যেন নিজেদের জন্য প্রার্থনা করি। তিনি আরো বলেছেন- আমরা খ্রিস্ট যিশুর নিকট প্রার্থনা করি তবে যিশুও আমাদের জন্য পিতা ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করছেন। পোপ মহোদয় আরো বলেছেন- মে মাসে পরিবারের সকলে যখন একত্রে আছি তখন একত্রে রোজারীমালা প্রার্থনা করার একটা সুযোগ আছে; মা মারীয়ার মত অন্তর নিয়ে খ্রিস্টের মুখচ্ছবি ধ্যান করলে আমাদেরকে আরও আধ্যাত্মিক পরিবার হিসাবে একীভূত করে তুলবে এবং পরীক্ষার এই সময়টাকে কাটিয়ে উঠতে আমাদের সহায়তা করবে। মৌলিক প্রার্থনাসমূহ একত্রে আবৃত্তি ও বাইবেল পাঠ করতে করতে ছোটরা কিন্তু শিখার পাঠেই সম্পৃক্ত থাকবে। অভিভাবকদের একটু সৃজনশীল মনোযোগের কারণে করোনা প্রাদুর্ভাব সমাপ্ত হলেও আধ্যাত্মিক ফলটা রয়ে যাবে।

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে সেবা ও সুরক্ষা- উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ


১. এই দুর্যোগ সময়ে একজন বিশপ মহোদয়ের সাথে ফোনে আলাপ হয়েছে। বিশপ হাউজের কাছাকাছি কিছু অভিবাসী দিনমজুর পরিবারের সাথে আমি আগে থেকে পরিচিত। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ে পরিবারের লোকদের প্রসঙ্গে আসলে তিনি জানালেন- বেঁচে থাকার অতি প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামাগ্রী নিজেরা প্যাকিং করে ঘরে ঘরে পৌঁচ্ছে দিচ্ছেন। এভাবে দুর্যোগ মুহূর্তে খাদ্য ও সুরক্ষাসামগ্রী পথশিশুদের কাছেও নিয়ে যাচ্ছেন। নিজেই জড়িত থেকে তাঁর হাউজের আসেপাশে প্রতিবেশী অভাবী ভাইবোনদেরও এভাবেই খাদ্য ও সুরক্ষাসামাগ্রী পৌঁচ্ছে দিচ্ছেন। এমন কঠিন সময়ে অভাবী লোকদের সাথে কিছু সহভাগিতা করাটা ভীষণ আনন্দ ও পরিতৃপ্তির বিষয়। বাইবেলে খ্রিস্ট যিশু শিষ্যদের বলেছেন- তোমরা নিজেরা বরং ওদের খেতে দাও, তোমাদের ক’খানা রুটি আছে, একবার দেখে এসো তো। তিনি উত্তম মেষ পালক, শিষ্যদেরও পালক হতে নির্দেশ দিয়েছেন। একজন পালক নিজ হাতে খাদ্যসামগ্রীর ঝুড়ি অভুক্ত মেষদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, এটাই এ সময়ের অন্যতম পালকীয় সেবাকাজ।

২. পোপ ফ্রান্সিস নিজের উদ্যোগে দুর্গত এলাকা ও দেশে আক্রান্ত মানুষের জন্য ঔষধ, সুরক্ষাসামগ্রী ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পাঠাচ্ছেন। কারিতাস কিংবা ভাটিকান দাতব্য সংগঠন থাকা সত্ত্বেও নিজেই জড়িত থাকছেন। ভাটিকান সংবাদ সূত্র থেকে জেনেছি- গতকাল তিনি স্পেন দেশে সেবারত ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য যথেষ্ট পরিমান চকোলেট পাঠিয়েছেন। পোপ মহোদয়ের এমনসব উপহার পেয়ে ভীষণ পরিশ্রম ও কষ্টের মাঝে তারা নিশ্চয় প্রচুর আনন্দ পাবে। সেবাকর্মীদের পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত মনে তিনি হয়তো এই আনন্দটুকুই দিতে চেয়েছেন। অনেকেই নিজেদের অবস্থানে থেকে অভাবী লোকজনের পাশে থাকছেন। যখন দেখি ছোট ছোট সংগঠন, যুবক্লাব, কয়েকজন বন্ধু মিলে অথবা একটি পরিবার অভাবী বস্তিপরিবার, জেলেপরিবার, বেদেপরিবার, অভিবাসী শ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে তখন মনটা আনন্দে ভরে যায়। 

৩. লকডাউন সময়ে আমরা দেখেছি হাট-বাজারগুলোতে বহুলোকের ভীড়। অনেকেই বলছি- করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার একটি অন্যতম ক্ষেত্র হাট-বাজার। হাট-বাজারে জনসমুদ্র  হ্রাসের জন্য সরকার ত্রাণ হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। তবে দেশে ক্ষুদ্র, মাঝারি  বৃহদায়তন অ-সরকারি সাহায্য সংস্থাগুলো দেখছি কোটি কোটি নগদ টাকা অভাবী লোকজনের নিকট বিতরণ করছে। কিছু কিছু সংস্থা কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়টি চিন্তা করে ‘বিকাশ’, ‘নগদ’ এসব অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আশ্রয় নিয়েছে। একটি সিটির একজন কর্মকর্তাও নগদ টাকা ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে গিয়ে জনসেবায় হুড়াহুড়ি পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, যা আমরা সংবাদে পড়েছি। ফলে বিভিন্ন উৎস থেকে ত্রাণ হিসেবে নগদ টাকা হাতে পেয়ে অভাবী লোকেরা যখন তখন হাট-বাজারে যাচ্ছে। নিজের এলাকায় লকডাউন থাকায় পাশের হাট-বাজারে যাচ্ছে; ফলে করোনাভাইরাস বিস্তারের একটা সুযোগ থেকেই যাচ্ছে, সংকটের ক্ষত আরো গভীরতর হতেই পারে। 

৪. খবরের কাগজ থেকে জেনিছি- ভারতের কেরালারাজ্যে অভাবী জনগোষ্ঠীর জন্য স্থানীয় সরকার স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় রাজ্যজুড়ে ১,২০০এর বেশি কমিউনিটি কিচেন কার্যক্রম শুরু করেছে। যেখানে প্রতিদিন আড়াই লাখ মানুষকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করছে। কিচেন থেকে ৯০ শতাংশের বেশি খাবার বিনামূল্যে দিচ্ছে, বাকী ১০ শতাংশ খাবার মাত্র ২৫ রুপিতে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে। সেখানে প্রতি ১৫দিন পরপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি প্যাকেট ৮৭ লাখ পরিবারকে পৌঁছে দিচ্ছে। যার মধ্যে বেঁচে থাকার অতি প্রয়োজনীয় ১৭ রকমের পণ্যসামগ্রী রয়েছে। তাছাড়া ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি ছিন্নমূল এবং গৃহহীন মানুষদের এই দুর্যোগ সময়ে পুনর্বাসন ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে । স্বেচ্ছাসেবকরা সামাজিক দূরত্ব ও নিজেদের সুরক্ষানীতি মেনেই সেবাকাজ করছে।যার ফলে জনগণ ত্রাণ নিতে বাসার বাইরে আসছে না, তারা ঘরেই থাকছে, না খেয়ে মারা যাচ্ছে না। সমাজের  সুরক্ষা নিশ্চিত থাকছে শতভাগ, সংক্রমণের হার খুবই কম। 

৫. এ দুর্যোগ সময়ে স্থানীয় সরকার, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, সমবায় সমিতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচির সমন্বিত সহায়তায় রাজ্যজুড়ে কাজ করছে। একাজে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত একসাথে কাজ করছে। কাজটি করতে সমাজে বিভিন্ন স্তরের মানুষদের নিয়ে ৪ লাখ স্বেচ্ছাসেবক গঠন করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যকর্মী, ধর্মীয় নেত্রীবৃন্দ ও সমাজকর্মীরা একত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছে লকডাউন, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, সঙ্গনিঃরোধ, চিকিৎসা, সৎকার, জীবন রক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে। বিশ্বের মানুষ করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকানোর তাদের কর্মকৌশলকে দেখছে ‘কেরেলা মডেল’ হিসেবে। তারাতো মাণ্ডলিক ক্ষুদ্র সমাজের সমদায়িত্ববোধ চেতনায় ‘দেখা, বিশ্লেষণ করা ও কাজ করা’ এ কর্মনীতিই অনুসরণ করছে।  এই সদ্বিবেবচনা এমন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যা সঙ্গতিপূর্ণ, বাস্তবধর্মী ও দায়িত্বশীল। কেরালার প্রায় তিনকোটি জনগণের মধ্যে  ১৮% শতাংশ জনগণ খ্রিস্টবিশ্বাসী; নাগরিকরা কেরালাকে ‘ঈশ্বরের আপন নগরী’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে। অন্যদের ভালকাজ দেখে ও শুনে স্থানীয়ভাবে একসাথে সমন্বিত পদ্ধতিতে কাজ করার সময়টা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সেটা হতে পারে নিজের এলাকা, পাড়া, গ্রাম, উপজেলা, জেলা বা অঞ্চল হিসেবে। পোপ মহোদয় বলেছেন- দুর্যোগ সময়ে সেবাকাজে থাকতে হবে গভীর দরদবোধসহ মনোযোগ ও সৃজনশীল কর্মকৌশল। তবুও সেবাকাজ ও সুরক্ষা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত হউক।


(লেখাটিতে পোপ ফ্রান্সিস এর অনুধ্যান বাণীসমূহ এবছর পাস্কা পর্বের সময়কালে তাঁর ধর্মোপদেশে প্রদত্ত ভাটিকান নিউজ ওয়েবপেইজ থেকে সংগৃহীত হয়েছে)

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

অবরুদ্ধ সময়ে তাঁর উপস্থিতি এবং কিছু উপলব্ধি


১. দুষ্টরা চিৎকার করছে যখন ভালো লোকেরা  নীরব: প্রদেশপাল পিলাত যখন যিশুর কোন অপরাধ খুঁজে পেলেন না তখন সে জিজ্ঞেস করলেন- “বল, তোমরা কী চাও।” শত্রুরা চিৎকার করে ‘বারাব্বাস’ এর মুক্তি দিয়ে যিশুর শাস্তি দাবী করল। বারাব্বাস একজন কুখ্যাত বন্দি ছিল। পিলাত জিজ্ঞেস করলেন- ‘তাকে (যিশু) নিয়ে আমি এখন কী করব’। শত্রুরা আবার চিৎকার করে বলে উঠল- “তাকে ক্রুশে দাও।” যিশুর শিষ্যরা, আপনজনেরা ও তাঁর অনুসারীরা তখন নীরব ছিল আর এ সুযোগে দুষ্টলোকেরা চিৎকার করে নিজেদের কু-মতলব বাস্তবায়িত করল। পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন- সমাজে সৎ ও ভাল লোকেরা যখন নীরবতা সংস্কৃতি, ঔদাসীন্যের সংস্কৃতি আশ্রয় নিয়ে নিজেদের দায়মুক্ত করতে চায় তখনই দুষ্টলোকেরা চেঁচামেচি করে,  তাদের কু-মতলব হাসিল করে নেয়। নিকটতম আত্মীয়-স্বজন, নেতানেত্রী এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও অনেক মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। কারণ যাদের হাতে ক্ষমতা আছে তাদের অনেকের মমতা নেই, মমতা থাকলে সমাজ সুরক্ষিত হবেই। অন্যদিকে ভাললোকেরা নীরব তাই নিপীড়ন ও নির্যাতন বেড়েই চলছে।

২. লুক্কায়িত ভক্তজনগণ: বাণীপ্রাচারের সময় অনেক ইহুদি ও অ-ইহুদি জনগণ যিশুর লুক্কায়িত অনুসারী ছিল। ভিন্ন ভিন্ন কারণে তারা প্রকাশিত হতে পারেনি অথবা প্রকাশিত হতে চায়নি। শিষ্যদের অন্যতম পিতর দৃঢ়ভাবে বলেছেন- যিশুর সাথে জেলে যেতে রাজি আছেন, মরতে যেতেও রাজি আছেন। কিন্তু যিশু যখন শত্রুদের দ্বারা নির্যাতিত হলেন তখন পিতর ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন এবং তিনবার তাঁকে অস্বীকার করেছেন। যিশুর শত্রুদের হাতে সমর্পিত অবস্থায় অন্য শিষ্যরাও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে সবকিছু দেখেছেন। কিন্তু পরক্ষণে যিশুর বাণী স্মরণ করে অনুতপ্ত হয়ে  আবার ফিরে এসেছেন। পিতর একসময় ভয়ে তিনবার যিশুকে অস্বীকার করেছেন, পরক্ষণে পবিত্র আত্মায় উদ্বুদ্ধ হয়ে হাজার হাজার জনগণের সামনে নির্বিঘ্নে যিশুর সম্পর্কে সাক্ষী  দিয়েছেন। ঐশ দয়া ও অনুগ্রহই তাঁর অন্তর রূপান্তরিত করেছে ফলে যিশুর সক্রিয় অনুসারী হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে যুদাস ঐশ অনুগ্রহ গ্রহণ করতে অপারগ ছিল ফলে তার পরিণাম ছিল ধ্বংস। আমরা হয়তো কেউ কেউ এ দুর্যোগ সময়ে ভয়ে লুক্কায়িত, যদি তাঁর অনুগ্রহের দিকে মনোযোগ দেই তবে বুঝতে পারব আমাদের অনেকেরই হয়তো সুযোগ আছে অভাবীদের পাশে দাঁড়াবার। এমন দুর্যোগ সময়ে একজন ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা যখন জনগণের পাশে থাকেন তখন দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে তারা জনগণকে তাদের পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করতে পারেন।

৩. আপনজনেরা কাছেই থাকবে: জেরুশালেমে যিশুর প্রবেশের সময় যারা চিৎকার করে তাঁকে রাজা হিসেবে স্বীকার করেছিল তাদের অনেকেই যিশুর যাতনাভোগ ও ক্রুশমৃত্যুর সময় দূরত্ব নিয়েছে। কিন্তু তাঁর মা, মায়ের সাথে কয়েকজন নারী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শিষ্যরা যিশুর সাথে সাথেই ছিলেন। তারাই যিশুর পুনরুত্থানের প্রথম সাক্ষী হয়ে উঠেছেন। করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময়ে আমরা পরিবারের আপনজনদের সাথেই আছি। অবরুদ্ধ সময় আমাদের ভাবতে সুযোগ দেয়- পরিবার ও পারিবারিক জীবন আমাদের কাছে কতটা মূল্যবান। আমরা খুজঁছি- পরিবার তুমি কোথায়? অথচ এটিকে আমরা কতটা অবহেলা করে থাকি। করোনা আমাদের নিজ ঘরে অবরুদ্ধ করছে, বুঝেছি পরিবারই আশ্রয়স্থল। আমরা পরিবারকে গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আপনজনদের সাথেই আছি। পরিবারই প্রার্থনার গৃহ হয়ে উঠেছে, সৃষ্টিকর্তা পরিবারে নীরব অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন।

৪. যত্নবান হওয়াটাও একপ্রকার আহ্বান: এ বছরের আমাদের পুনরুত্থান পর্বটি শিষ্যদের অভিজ্ঞতার মতই। একদিকে করোনাভাইরাসের ‘ধ্বংস ও মৃত্যুর আক্রমণ’ অন্যদিকে আমাদের মনে অনিশ্চয়তা ও সংশয় বেড়ে চলছে। যিশুর মৃতদেহ সমাধিস্থানে রেখে শিষ্যরা একই অভিজ্ঞতা করেছে। যিশুর পুনরুত্থানের পরে কয়েকজন নারীদলটি  সক্রিয় ছিল,  যিশুর মৃত্যু তাদের মন হতাশায় পঙ্গু করে ফেলেনি। বরং তারা একটি সাধারণ কাজ অসাধারণভাবে করেছে। তারা যিশুর দেহ লেপনের জন্য সুগন্ধি-মশলা প্রস্তুত করেছে, যা সামাজিক একটি প্রচলিত প্রথা ছিল। নিস্তার জাগরণীর ধর্মোপদেশে পোপ ফান্সিস বলেছেন- “তারা তাদের ভালবাসার দুয়ার বন্ধ করেনি; তাদের অন্তরের অন্ধকারে দয়ার শিখা প্রজ্জলিত রেখেছে।” আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কি ভয়ে ভালবাসার দূয়ার বন্ধ রেখেছি? ছোট ছোট সেবাকাজেই যিশুর সাক্ষাৎ পেতে পারি। এ সময় অনেকেই নিজের ও পরিবারের প্রতি আরো বেশী যত্নবান হয়ে উঠেছি। কারোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সময়ে যারা ভয়ে পঙ্গু না হয়ে সেবাকাজে আত্মনিয়োগ করেছে পোপ মহোদয় তাদের সেবাকাজে অভিভূত হয়ে বলেছেন- ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মিশনারি, স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশসহ সকল সেবাকর্মীরা দুর্যোগ সময়ের বীরসেনা ও সাধুসম সেবাকর্মীদল।

৫. তাঁকে জীবন্ত দেখতে মা প্রার্থনারত: যিশুর মা মারীয়া আজ আমাদের সকলের 'মা' । যিশুকে যখন সমাধিতে রাখা হয়েছে মা মারীয়া আরেকটি নতুন জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে গভীরভাবে প্রার্থনারত ছিলেন। পোপ মহোদয় বলেছেন- “যিশু মাটিতে শোয়ানো বীজ যিনি পৃথিবীকে নতুন জীবন দান করবেন এবং মা মারীয়া প্রার্থনা ও ভালবাসা দ্বারা এই আশাটি প্রস্ফুটিত হতে সহায়তা করেছেন।” প্রার্থনা আমাদের জন্য একটি অন্যতম আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য যা বিভিন্ন সময় দেখি ও অভিজ্ঞতা করছি। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সময় একটি অন্ধকার ও বিরক্তকর অভিজ্ঞতা যা আমাদের কাছে অভিশাপের মত হতে পার। ঐ মুহূর্তে প্রার্থনা আমাদের জীবনে গভীর অভ্যন্তরীণ রূপান্তর আনে, শান্তির সূচনা করে। মা মারীয়ার আদর্শ অনুসরণ করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নতুনজীবনের জন্য আমরা প্রার্থনা করতে পারি। সকলে সুরক্ষা পেতেও গভীর বিশ্বাস নিয়ে পরিবারে প্রার্থনারত সময় কাটাতে পারি।  এমন কী কিছু সময় পরে অপ্রত্যাশিত আনন্দ ও আশীর্বাদের অভিজ্ঞতা করতে পারি।  

৬. সত্য গোপন করাও একপ্রকার দুর্নীতি: যাজক ও ফরিসিরা একদল প্রহরী নিয়ে গিয়ে যিশুর সমাধির পাথরখানির ওপর সীলমোহর করল ও প্রহরী মোতায়েন করে সমাধিটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করল। যিশু যখন পুনরুত্থান করলেন, খবরটি চাপা দেওয়ার জন্য যাজকেরা তখন প্রবীনদের পরামর্শে প্রহরীদের কিছু টাকা দিল এবং বলতে বলল তারা ঘুমিয়ে গেলে যিশুর শিষ্যরা তাঁর দেহটাকে লুকিয়ে তুলে নিয়ে গেছে। প্রহরীরা টাকা নিয়ে তাদের নির্দেশ মতোই কাজ করল। নিজেদের মধ্যে বুদ্ধি পরামর্শ করে সত্যকে গোপন করতে সব চেষ্টাই করল। সত্যকে গোপন করাও একপ্রকার দুর্নীতি, যা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে।

৭. দুঃখ-কষ্টের পাথরটা সরিয়ে দেবে কে? যিশুর দেহে গন্ধদ্রব্য লেপন করার জন্য রবিবার দিন খুব সকালে মাগদালার মারীয়া, যাকোবের মা মারীয়া, আ সালোমে সমাধিস্থানে এলেন। তাঁরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলেন- তাদের জন্য কে এতভোরে সমাধিগুহার মুখ থেকে বিশাল আকৃতির পাথরখানা একপাশে সরিয়ে দেবে।তাদের জন্য যিনি ছিলেন আশা, ভালবাসা ও বিশ্বাস তিনিই আজ গুহাবন্দি আছেন । আর একখানা বিশাল আকৃতির পাথর গড়িয়ে দিয়ে গুহার মুখটি বন্ধ ক’রে দেয়া হয়েছে। পাথরখানা হল হতাশার প্রতীক, দুঃখকষ্টের প্রতীক, বেদনা-নিপীড়নের প্রতীক যা জীবনকে অন্ধকারে ফেলে রাখে। এই অন্ধকারে আলোর সন্ধান দিবে কে? তখনই অবাক হয়ে তাঁরা দেখলেন মস্তবড় পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওয়াই হয়েছে। দীর্ঘ শুভ্র পোশাক-পরা একটি যুবক ডান দিকে বসে আছেন। তাদের মনের অন্ধকার ভেদ করে আশা, ভালবাসা ও বিশ্বাসের আলো আবার প্রজ্বলিত হয়েছে। পোপ মহোদয় বলেছেন- আমাদের জীবনের কষ্টের পাথর সরিয়ে দেবে কে? আমরা বিশ্বাস করি স্বয়ং যিশু খ্রিস্ট, যিনি জীবন্ত। খ্রিস্ট যিশু এখনও আমাদের মাধ্যে আছেন, পিতা ঈশ্বর যা যা অঙ্গিকার করেছেন তিনি সবই রক্ষা করেছেন। এখনও তিনি তাঁর অঙ্গিকার রক্ষা করবেন। আমরাও অভাবী ভাইবোনদের জীবনের কষ্টের পাথর সরিয়ে দিতে পারি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে। অভাবীদের নিকট আমরা তো অপর খ্রিস্ট হয়ে উঠতে পারি।

৮. মানুষ সেবাকর্মী, মানুষ ধ্যানীও: শোকাচ্ছন্ন দু’জন শিষ্য হতাশা নিয়ে পায়ে হেঁটে এম্মাউসের  রাস্তায় গ্রামাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন। যিশু তখন তাঁদের দেখা দিলেন। যিশু বললেন- কি নির্বোধ তোমরা। প্রবক্তাদের কথা অন্তর থেকে বিশ্বাস করতে তোমাদের দেরী হচ্ছে কেন? যিশু তাঁদের শাস্ত্রের কথা বুঝিয়ে দিলেন। খ্রিস্টবিশ্বাসী হিসেবে আমরা একদিকে যিশুর সেবাকর্মী আবার অন্যদিকে বাইবেলের কথা  অন্তরে বুঝতে ধ্যান করার জন্যও আহুত। কাজ হল ধ্যান-প্রার্থনার ফল, ব্যক্তিগত ধ্যানে তাঁর বাণীর প্রকৃত অর্থ আমরা বুঝতে পারি।

৯. কাউকেই পিছনে ফেলা যাবে না: পুনরুত্থিত যিশু যখন শিষ্যদের সাক্ষাৎ দেন তখন টমাস সাথে ছিলেন না। সে যিশুকে নিজের চোখে দেখে তবেই বিশ্বাস করতে চাইলেন। যিশু টমাসের জন্য অপেক্ষা করেন, পিছিয়ে থাকা শিষ্যকে বঞ্চিত করেননি। যিশু টমাসকে দেখা দিলেন এবং টমাস বিশ্বাসী হয়ে উঠলেন। যিশু যেমন শিষ্যদলে টমাসকে সম্পৃক্ত করলেন তেমনি আমাদের সমাজে যারা বিশ্বাসে দুর্বল তাদেরকেও বিশ্বাসীদের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ দুর্যোগে অতি দরিদ্র, বিপদাপন্ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সকলকে সহায়তার মাধ্যমে দুর্গতি জয় করতে পারি। পোপ মহোদয় বলেছেন- অনুদান প্রদানের সময় স্বজনপ্রীতি বা কারো কারো প্রতি ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা ঠিক হবে না, সকল গরিবরাই ন্যায্য পাওনার অধিকারী।

১০. সাক্ষাতে সাক্ষাতে সাক্ষ্যদান: যিশু মাগদালার মারীয়াকে দেখা দিলেন, মায়ে সাথে সাক্ষাৎ করলেন, এম্মাউসের পথে দু’জন শিষ্যকে দেখা দিলেন। এভাবে পুনরুত্থিত যিশু ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলের সাথে সাক্ষাৎ করতে করতে শিষ্যদের অন্তরে বিশ্বাস সুদৃঢ় করেছেন। খ্রিস্টভক্তগণ একে অন্যের সাথে নিজেদের বিশ্বাসের অভিজ্ঞতা সহভাগিতা করতে করতে যিশুকেই প্রচার করার সুযোগ পায়। পোপ ফ্রান্সিস বিভিন্ন দেশে তীর্থযাত্রায় ঠাকুরদাদা, ঠাকুরমা, নানা-নানীদের বলেছেন- তাদের নাতী-নাতনীদের খ্রিস্টবিশ্বাসের গল্প শুনাতে যেন তারাও বিশ্বাসে সুদৃঢ় হওয়ার অনুপ্রেরণা লাভ করে। যাজক ও মিশনারিগণ খ্রিস্টভক্তদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে বিশ্বাস সহভাগিতা করার মধ্য দিয়ে খ্রিস্টবিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করতে পারে। সামাজিক দূরত্ব থেকেও কিছু কিছু যাজক ঘরবন্দি খ্রিস্টভক্তদের সাথে পবিত্র সাক্রামেন্তের আশির্বাদ ও নিজেদের উপস্থিতির মাধ্যমে ভক্তজনগণকে উদ্বুদ্ধ করছেন। পোপ মহোদয় তাদেরকে 'পাশের দরজার বীর বা সাধু' হিসেবে প্রশংসা করেছেন।

১১. স্বাভাবিক তবে ‘নতুন স্বাভাবিক’: পুনরুত্থিত খ্রিস্ট জীবন্ত, তবে তিনি নতুনজীবন এনেছেন। তাঁর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে আমরা স্বর্গীয় জীবনের অংশীদার হয়ে উঠি। করোনাভাইরাস মহামারীর পর সমাজে ও পরিবেশে রূপান্তর হওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে। ইংলন্ডের বিশপ জন আরনল্ড বলেছেন-  করোনা দুর্যোগের পর আমরা আগের 'স্বাভাবিক' অবস্থায় আর ফিরে যেতে নাও পারি তবে আমরা যেখানে ফিরে যাব সেটা ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থা বলা যায়। অর্থাৎ আমরা দুর্যোগের পর সব পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে পাব না । একদিকে প্রকৃতি ও পরিবেশে একটা নবায়ন দেখতে পাব অন্যদিকে আর্থিকভাবে, ব্যবসায়িক দিক থেকে অনেক পরিবর্তন মোকাবেলা করতে হবে। আমরা একটা 'নতুন স্বাভাবিক' পরিবেশে ফিরে যাব, আমরা কীভাবে আামাদের 'নতুন স্বাভাবিক' অবস্থাটা দেখতে চাই তা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।

(লেখাটিতে পোপ ফ্রান্সিস এর অনুধ্যানবাণীসমূহ এবছর পাস্কা পর্বের সময়কালে তাঁর ধর্মোপদেশে প্রদত্ত ভাটিকান নিউজ ওয়েবপেইজ থেকে সংগৃহীত হয়েছে)