ন্যায্যতা ও শান্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ন্যায্যতা ও শান্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম বাংলাদেশ - দিকনির্দেশনা

 ভাটিকানের ‘মানব উন্নয়ন’ নামক পুণ্য দপ্তর এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষার্থে ‌"লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" এ সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ‘বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী’র দিকনির্দেশনা

জগতের আর্তনাদ, দরিদ্রদের আর্তনাদ

'লাউদাতো সি'-"হে আমার প্রভু, তোমার প্রশংসা হোক"। ভাটিকানের 'মানব উন্নয়ন’'নামক পুণ্য দপ্তর এর সাথে একাত্ম হয়ে 'বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী' আগামী সাত বছর "লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" (২০২১ থেকে ২০২৭ খ্রিস্টাব্দ) শিরোনামে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষা বিষয়ক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়েছে। 'লাউদাতো সি' সর্বজনীন পত্রটির সাতটি লক্ষ্যসমূহ হল- (ক) জগতের আর্তনাদে সাড়াদান, (খ) দীনদরিদ্রদের আর্তনাদে সাড়াদান, (গ) পরিবেশগত অর্থনীতি বিস্তার, (ঘ) টেকসই সহজ-সরল জীবনধারা গ্রহণ, (ঙ) পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক শিক্ষা, (চ) পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্দীপ্ত আধ্যাত্মিকতা অনুশীলন এবং (ছ) সমাজকে সম্পৃক্তকরণ ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ। সস্প্রতি পোপ ফান্সিস বলেছেন- 'লাউদাতো সি' শুধু সবুজ সর্বজনীন পত্র নয়, বরং এটি একটি সামাজিক সর্বজনীন পত্রও। 

১. ভাটিকানের 'মানব উন্নয়ন' নামক পুণ্য দপ্তর লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য গোটা  মণ্ডলীকে সাতটি কর্মক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে- (ক) পরিবার, (খ) ধর্মপল্লী, (গ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, (ঘ) সংগঠন ও ক্লাব, (ঙ) সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, (চ) হাসপাতাল এবং (ছ) ধর্মসংঘসমূহ ইত্যাদি। এই নির্দেশনা দেশের প্রথম অধিবাসি জীবনধারা অনুধাবন করতে; জগতের আর্তনাদ ও দরিদ্রের আর্তনাদে ঐশতাত্ত্বিক ভিত্তি  অনুধাবন করতে; এবং 'লাউদাতো সি'র লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৌলিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। সুতরাং বিগত দিন গুলোতে আমরা উন্নয়ন কর্মকাÐসহ আমাদের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সমন্বিত পরিবেশের যে ক্ষতিসাধন করেছি, তা পুনরুদ্ধারের জন্য আগামী সাত বছর "লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" এ অবিরত সৃজনশীল উদ্যোগ, কর্মপরিকল্পনা এবং কর্মকৌশল গ্রহণ করবো। 

২. ভাটিকানের পুণ্য দপ্তর ২২-২৯ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ "লাউদাতো সি সপ্তাহ-২০২২" ঘোষণা করেছে এবং মূলসুর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে "শোনা এবং একসাথে পথচলা" যা পোপ মহোদয়ের আহ্বানে "আমাদের অভিন্ন বসতবাটিকে রক্ষা করতে গোটা মানব পরিবারেেক একত্রিত করবে" (লাউদাতো সি, অনুচ্ছেদ-১৩)। এ উদ্যাপনের মূল উদ্দেশ হলো- সর্বজনীন পত্রটির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধি, আমাদের অভিন্ন বসতবাটির যতেœর মৌলিক নীতিসমূহ প্রচার এবং পরিবেশগত রূপান্তরের দিকে একসাথে যাত্রা করা। এ সপ্তাহটি উদ্যাপন বিশ্বকে দেখাবে কাথলিক মণ্ডলীর ২২০,০০০টি ধর্মপল্লীর ১.৩ বিলিয়ন খ্রিস্টভক্তজনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সাত বছরে কতটা পরিবর্তিত হয়েছে এবং সারা বিশ্বের জনগণকে অনুপ্রাণিত করছে। তাই বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী (সিবিসিবি) আগামী সাত বছর "লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" কার্যক্রমে সকল অংশীজনদেরকে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ক্লাব, যুবসংঘ, পালকীয় সেবাকেন্দ্র, সেমিনারি, ছাত্রাবাস, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, হাসপাতাল, এবং সকল ধর্মসংঘ সবাইকে সাথে নিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানাচ্ছে।

৩. সিবিসিবি কমিশনসমূহের সচিব ও সদস্যদের নিয়ে একটি কার্যনির্বাহী "লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম দল" গঠন করা হয়েছে। যারা আগামী সাত বছরের কার্যক্রম নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে এবং সকল অংশীজনদের দিক্নির্দেশনা দিয়ে যাবে। এই দলে শিক্ষক, যাজক, ব্রাদার, সিস্টার, যুবক-যুবতী ও আগ্রহী ব্যক্তিদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডাইয়োসিস পর্যায়েও অনুরূপ একটি সক্রিয় দল গঠন খুবই বাস্তব সম্মত হিসেবে ধারণা করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে (ক) আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধিমূলক (Spiritual Events), (খ) জীবনধারা পরিবর্তনমূলক (Action Events) ও (গ) গণমঙ্গল নীতিমালামূলক (Policy Events) ।

৪. সর্বপর্যায়ে ব্যাপকতর সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মে ১৫, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ রবিবার বাংলাদেশ কাথলিক মÐলীর সকল গীর্জায় একযুগে রবিবাসরীয় খ্রিস্টযাগের মাধ্যমে “লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম’ উদ্যাপন উদ্ভোধন করা হবে। এ উপলক্ষে খ্রিস্টযাগ কাঠামো ও উপদেশ সহায়ক তৈরি করে প্রত্যেক ডাইয়োসিসে প্রেরণ করা হয়েছে। সেদিন সকল ডাইয়োসিসে সমস্ত ধর্মপল্লীতে বিশেষ প্রার্থনা, খ্রিস্টযাগ, উপদেশ ও অন্যান্য কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়। খ্রিস্টযাগ প্রাকৃতিক পরিবেশ, গ্রোটো বা লাউদাতো সি বাগানে আয়োজন করতে পারলে আরও অর্থপূর্ণ হবে। খ্রিস্টযাগের পরে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন- কাপড়ের ব্যাগ বিতরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অংশগ্রহণ, ময়লা-আবর্জনা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কিছু উদ্যোগ  ইত্যাদি।

৫. একই সাথে স্থানীয়ভাবে “লাউদাতো সি সপ্তাহ-২০২২” সক্রিয়ভাবে উদ্যাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়। কাথলিক মণ্ডলী ছাড়াও অন্যান্য মণ্ডলীকে উৎসাহিত করা হবে যেন নিজেদের আয়োজনে “লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম” কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। আগামী মে ১৫ থেকে ২৯, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ মধ্যে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, আন্তঃমাণ্ডলিক , আন্তঃধর্মীয়, পরিবেশবিদ, পরিবেশ সংরক্ষণকর্মী ও সংগঠনের অংশীজনদের উপস্থিতিতে "Sharing the Good Practices"  আলোচনা সভা আয়োজন করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। আলোচনার অনুধ্যান ও অনুধাবন লিপিবদ্ধ করে পরবর্তী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ সহায়ক হতে পারে। সিবিসিবি পর্যায়েও একটি আলোচনা সভা আয়োজন করতে যাচ্ছে।

৬. পৃথিবী নামক গ্রহটির যে-অবনতি ঘটছে তা ব্যক্তিগতভাবে ও দলগতভাবে নিজের জন্য বেদনায়ক কষ্ট বলে অনুভব করা এবং আমরা প্রত্যেকে এ বিষয়ে কী করতে পারি তা আবিষ্কার করতে একটি আন্তরিক “পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক মন পরিবর্তন’ এর সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। পোপ ফ্রান্সিস সৃষ্টির বিরুদ্ধে আমাদের পাপ স্বীকার করার আহ্বান ও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন- কারণ আমরা সবাই পরিবেশের কমবেশি ক্ষতিসাধন করেছি। ঈশ্বরের সৃষ্টির জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করেছি, আবাহাওয়া পরিবর্তন করেছি, বনজঙ্গল ধ্বংস করেছি, জলাভূমির পবিত্রতা বিনষ্ট করেছি, জমিজমা, বাতাস ও জীবন ধ্বংস করেছি- এসবই পাপ। কেননা প্রাকৃতিক জগতের বিরুদ্ধে পাপ করার অর্থ আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে পাপ করা এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করা (লাউদাতো সি, অনুচ্ছেদ-৮)।

৭. ভাটিকানের ‘মানব উন্নয়ন’ নামক পুণ্য দপ্তর এবং পোপ ফ্রান্সিস কর্তৃক বাংলাদেশ কাথলিক মণ্ডলীর ‘একজন খ্রিস্টভক্ত, একটি বৃক্ষরোপণ’ উদ্যোগটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে, আরও প্রস্তাব করেছেন- বর্তমানে কার্বন নিঃসরণ কমানো উদ্যোগটি গ্রহণ বাস্তবসম্মত। বিভিন্ন ডাইয়োসিসে ধর্মপল্লী ও প্রতিষ্ঠানসমূহর পাশাপাশি বিসিএসএম, যুবসংগঠন, ক্লাব ও ক্রেডিট ইউনিয়নের অংশগ্রহণ খুবই উজ্জ¦ল ছিল। সুতরাং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে বাস্তবে কী হয়েছে, কী অবস্থায় আছে, কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা ডাইয়োসিস পর্যায়ে ফিরে দেখা দরকার। একটি প্রতিবেদনও তৈরি করা প্রয়োজন।

৮. জাতীয় ও ডাইয়োসিস পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক সংলাপ ও ফোরাম আয়োজন করার তাগিদ অনুভব করা হয়েছে। যেখানে আন্তঃধর্মীয়, আন্তঃমাণ্ডলিক, বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান যেমন- ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), হিন্দু-বোদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চার্চসমূহ এবং আরো পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের অংশগ্রহণ থাকতে পারে। পরিবেশবিদ ও পরিবেশ সংরক্ষণকর্মীদের সাথে নেটওয়ার্কিংএ যোগদান করা- যেমন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), আদিবাসী  ফোরাম বাংলাদেশ, কারিতাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের আরো সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং চলমান রাখার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যেমন- The Dicastery for Promoting Integral Human Development-Vatican, Migration and Refugee Section-Vatican, The Federation of Asian Bishops’ Conferences (FABC –OHD-CCD), The River Above Asia Oceania Ecclesial Network (Raoen), Laudato Si Movement, International Catholic Migration Commission (ICMC), Asia Pacific Justice and Peace Worker Network (APJP WN), Talitha Kum Vatican and Talitha kum Asia.

৯. কাথলিক শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় কাথলিক স্কুলসমূহকে কেন্দ্র করে অন্যান্য স্কুলের শিক্ষকমণ্ডলী ও ছাত্র-ছাত্রীদের এ বিষয়ে ব্যাপকতর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করা যায়। পোষ্টার তৈরী, ডকুমেন্টরি তৈরী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতা ও র‌্যালী আয়োজনে যুবক-যুবতী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পৃক্ত করা যায়।  কারিতাসের ট্রাস্ট- কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (সিডিআই) কর্তৃক ‘লাউদাতো সি’ পত্রটির আলোকে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক’ একটি সংক্ষিপ্ত মডিউল তৈরি যায়। তাদের আয়োজিত প্রশিক্ষণসমূহে বিষয়টি সংযুক্ত করতে পারে এবং আলাদা একটি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

১০. বিশ্বজগতের মা মারীয়া তিনি দীনদরিদ্রদের কষ্টে ও ক্ষতবিক্ষত জগতের সকল প্রাণীর জন্য দুঃখশোকে কাতর। তাঁর নিকট সবিনয় প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদেরকে প্রজ্ঞার দৃষ্টি দিয়ে জগৎকে দেখার শক্তি দেন। পবিত্র পরিবার ও বিশ্বজনীন মÐলীর রক্ষাকর্তা সাধু যোসেফ আামদের শেখাতে পারেন- কিভাবে সেবাযতœ দিতে হয় এবং বসতবাটি রক্ষা করার জন্য কিভাবে উদারভাবে পরিশ্রম করতে হয়। যীশু বলেন- “আমি এখন সব-কিছুই নতুন ক’রে তুলছি” (প্রত্যাদেশ ২১:৫)। এই গ্রহটির জন্য আমাদের ভাবনা-চিন্তা যেন আমাদের প্রত্যাশার আনন্দ বিনষ্ট করতে না পারে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের মাঝে নিত্য উপস্থিত, কখনো পরিত্যাগ করেন না, একা ফেলে রেখে যান না। এই পৃথিবীতে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নতুন নতুন পথ ও পন্থা খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনিই প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দান করছেন, আসুন ধ্যান-প্রার্থনায় তা শুনি ও এখনই কাজে সক্রিয় হই (লাউদাতো সি ২৪৩-২৪৫)। আমরা পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যাপারে দায়বদ্ধতা স্বীকার করি; দায়বদ্ধতার ভিত্তি হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার ওপর সৃদৃঢ় বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা। 

ইতোমধ্যে অনেক ব্যক্তি, ডাইয়োসিস, সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মসংঘ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করছেন। আমাদের অর্জনসমূহ সমবেতভাবে সহভাগিতা করার পরিবেশ তৈরীর উদ্দেশ্যে ‘লাউদাতো সি সপ্তাহ-২০২২’ এর মূলভাবটি “শোনা এবং সাথে পথচলা” খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যার যার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক সেবাকাজ আরো গতি পাবে। সত্যিকার অর্থেই ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গন্ডি ত্যাগ করে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একসাথে কাজ করা অধিকতর কল্যাণকর হবে। অন্যথায় মাশুল দিতে হবে আগে না হোক অদূর ভবিষ্যতে। আমরা বিশ্বাস করি পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ মহান কিছু অর্জন সম্ভব হবে। ধরিত্রীর বুকে আনবে নতুন ছন্দ, জাগাবে নতুন আশা। আসুন, একসাথে, একত্রে ‘লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম’ উদ্যোগে আগামী ৭ বছর নিজেদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাসমূহ অবিরত চালিয়ে যাই; ‘আমরা সবুজ, আমরা সুন্দর’ থাকি; আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ সুন্দর নির্মল পৃথিবী গড়ে তুলি। তাঁর প্রশংসা ও মহিমা হোক - লাউদাতো সি!


বিশপ জের্ভাস রোজারিও ডিডি, সভাপতি, ন্যায় ও শান্তি কমিশন, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী

ফাদার লিটন হিউবার্ট গমেজ, সিএসসি , সেক্রেটারি, ন্যায় ও শান্তি কমিশন, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী




বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১

লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম এর ঘোষণাপত্র

 প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা সুরক্ষার্থে ‍"লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" এ সক্রিয় হওয়ার আহ্বানে বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনীর ন্যায় ও শান্তি কমিশনের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র ২০২১ খ্রিস্টাব্দ 

জগতের আর্তনাদ, দরিদ্রদের আর্তনাদ

বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনীর ন্যায় ও শান্তি কমিশনের ঘোষণাপত্রটি গভীরভাবে অনুভব করছে- জগতের আর্তনাদ ও দরিদ্রদের আর্তনাদ যা নিশ্চিত করে যে, "আমােেদর সকল মানুষের হৃদয়, মন এবং আচরণে ব্যাপক  পরিবর্তন দরকার"। এতে ধর্মগ্রন্থ, ধর্মতাত্ত্বিক ঐতিহ্য, কাথলিক মণ্ডলীর সামাজিক শিক্ষা, জগতের প্রজ্ঞা এবং কোন দেশের প্রথম অধিবাসীদের জীবনধারা অনুধাবন করা হয়েছে। ঘোষনাপত্রটি ঐশতত্ত্বের অন্তর্নিহিত শিক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগণের প্রতি সাড়া দিয়ে সৃষ্টির যত্ন নেওয়ার প্রচেষ্টাকে অনুপ্রাণিত করছে। ঘোষণাপত্রটি ত্রি-ব্যক্তি পরমেশ্বরের সৃষ্টির রহস্য অনুধান; সমস্ত সৃষ্ট বস্তুর পবিত্রতা; মননশীল দৃষ্টিতে সৃষ্টির বিস্ময় ও সৌন্দর্য উপলব্ধি এবং জীবনের রূপান্তর ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করছে। 

ঘোষণাপত্রটিতে ন্যায় ও শান্তি কমিশন বাংলাদেশ বিশপ সম্মিলনীর পক্ষে বাংলাদেশের সকল খ্রিস্টভক্তজনগণকে পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস -এর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে 'লাউদাতো সি' পত্রটির মৌলিক সাতটি লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমন্বিত পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের দিকে আগামী সাত বছর "লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" (২০২১ থেকে ২০২৭ খ্রিস্টাব্দ) যাত্রায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। 'লাউদাতো সি' পত্রটির সাতটি লক্ষ্যসমূহ হল- (১) জগতের আর্তনাদে সাড়াদান, (২) দীনদরিদ্রদের আর্তনাদে সাড়াদান, (৩) পরিবেশগত অর্থনীতি বিস্তার, (৪) টেকসই সহজ-সরল জীবনধারা গ্রহণ, (৫) পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক শিক্ষা, (৬) পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্দীপ্ত আধ্যাত্মিকতা অনুশীলন এবং (৭)  সমাজকে সম্পৃক্তকরণ ও অংশগ্রহণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ। সস্প্রতি পোপ মহোদয় বলেছেন- 'লাউদাতো সি’ শুধু সবুজ প্রৈরিতিক পত্র নয়, বরং একটি সামাজিক প্রৈরিতিক পত্রও।'

লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভাটিকানের 'মানব উন্নয়ন' নামক পুণ্য দপ্তরের নির্দেশনায় গোটা মÐলীকে সাতটি কর্মক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে- (১) পরিবার, (২) ধর্মপল্লী, (৩) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, (৪) সংগঠন ও ক্লাব, (৫) সামাজিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, (৬) হাসপাতাল এবং (৭) ধর্মসংঘসমূহ ইত্যাদি। এই নির্দেশনা দেশের প্রথম আধিবাসীদের জীবনধারা অনুধাবন করতে; জগতের আর্তনাদ ও দরিদ্রের আর্তনাদে ঐশতাত্ত্বিক ভিত্তি অনুধাবন করতে; এবং 'লাউদাতো সি'র লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৌলিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করছে। সুতরাং বিগত দিন ধরে আমরা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ আমাদের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সমন্বিত পরিবেশের যে ক্ষতি করেছি, তা পুনরুদ্ধারের জন্য আগামী সাত বছর ধরে অবিরত কর্মসূচি গ্রহণ করবো। 

ঘোষণাপত্রটিতে ন্যায় ও শান্তি কমিশন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু বিষয় সুপারিশ করছে- প্রথমতঃ আমাদের কর্মকাণ্ডের দ্বারা মানব পরিবার ও আমাদের অভিন্ন বসতবাটির যে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছি তা অকপটে স্বীকার করে অকৃতিম অনুতাপ ও মরপরিবর্তন একান্ত প্রয়োজন; দ্বিতীয়তঃ প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় ছোটখাট আদান-প্রদানের গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ-সংক্রান্ত বাস্তবতার অবনতি রোধকল্পে বৃহত্তর কর্মপন্থা আবিষ্কার করা যেখানে সমাজের প্রচলিত 'ছুঁড়ে ফেলার সংস্কৃতির' পরিবর্তে 'যত্নবান হওয়ার সংস্কৃতির' দিকে যাত্রা করতে হবে। 'একজন খ্রিস্টভক্ত, একটি বৃক্ষরোপণ' উদ্যোগটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে, বর্তমানে কার্বন নিঃসরণ কমানো উদ্যোগটি গ্রহণ বাস্তবসম্মত। একটি ইতিবাচক মনোভাব অন্তরে নিয়ে 'ভালবাসার সভ্যতাকে' আর্দশ করে- সবাই ভাইবোন মনোভাব লালন, সহজ-সরল জীবনধারা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ উদ্দীপ্ত উপাসনা, ক্রেডিট ইউনিয়নসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আদিবনভূমি সংরক্ষণ, আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সংরক্ষণ, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, পরিমিত পরিবেশন ও ভোগ, অপচয়রোধ, ঋণ পরিশোধ, জৈবসুরক্ষা, বাগান করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রয়োজন মাফিক কেনাকাটা, প্লাস্টিক ব্যবহার হ্রাস, পলিথিন বর্জন, গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ পরিমিত ব্যবহার, সকল প্রকার দুষণ হ্রাস, পাট ও মোটা কাপড়ের ব্যাগ প্রচলন, শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী ও ধর্মীয় শিক্ষকদের মাধ্যমে পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা সেমিনার বিস্তার, প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক পুস্তিকা প্রস্তুত, পুনরায় ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র ব্যবহার, ক্ষুদ্র সমাজভিত্তিক কর্মপরিল্পনা গ্রহণ, জলবায়ু বিপর্যয়ে বাস্তুচ্যুত অভিবাসী-শরণার্থীদের গ্রহণ, মানবপাচারের শিকার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষজনের প্রতি মনোযোগ, নৈতিক বিনিয়োগ ও নবীকরণযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ এবং লাউদাতো সি নেটওয়ার্কে যোগদান ইত্যাদি।

প্রথম বছর (২০২১ খ্রিস্টাব্দ) নিজ নিজ অবস্থানে পরিকল্পনা গ্রহণের কাল, দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ বছর (২০২২ থেকে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) হল কর্মসম্পাদন কাল এবং সপ্তম বছর (২০২৭ খ্রিস্টাব্দ) হবে সৃষ্টি উদ্যাপন কাল। জগতের আর্তনাদ ও দরিদ্রের আর্তনাদ সাড়াদানের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাসমূহ আমাদের সামনে মোট সাত বছরের যাত্রা জুড়ে একটি কার্যকর শক্তি ও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। আপনার ও আপনাদের প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকার অগ্রগতিসাধনের 'লাউদাতো সি'র লক্ষ্যভিত্তিক মৌলিক কার্যকর পদক্ষেপসমূহ ব্যাপকভাবে প্রশংসা করা হবে। পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিসের আহ্বানে  "লাউদাতো সি অ্যাকশন প্লাটফর্ম" পালন সফল হউক, সার্থক হউক।


ফা. লিটন হিউবার্ট গমেজ, সিএসসি

           সেক্রেটারি

এবং বিশপ জের্ভাস রোজারিও ডিডি

           সভাপতি

ন্যায় ও শান্তি কমিশন, বাংলাদেশ কাথলিক বিশপ সম্মিলনী




মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

Statement on the death of human rights defender Fr. Stanislaus Lourduswamy, SJ

We, the Catholic Church of Bangladesh, are deeply saddened by the death in custody of Fr. Stan Swamy, 84 year-old Jesuit priest and human rights defender in India, on 05 July 2021. The Episcopal Commission for Justice and Peace of the Catholic Bishops’ Conference of Bangladesh (ECJP-CBCB) extends the deepest condolences to the Church and the faithful in India and to Jesuit Fathers and to the Father’s family. We are united in prayers that the Father of all mercy to welcome him into His peace and light.

Fr. Stanislaus Lourduswamy, the elderly human rights defender, popularly known as Fr. Stan Swamy, died days before his scheduled bail hearing in the High Court of Bombay, which had been postponed due to his deteriorating health. Fr. Stan Swamy, who also suffered from Parkinson’s disease, had been placed on a ventilator at Holy Family Hospital in Mumbai over the weekend, more than a month after he was admitted to the hospital under court order with COVID-19. Fr. Stan Swamy was repeatedly denied bail, and died at the Holy Family Hospital, in Mumbai, India. The defender spent 9 months in jail under the anti-terror law, the Unlawful Activities Prevention Act (UAPA), denied bail and medical care in jail, and only transferred to a hospital when his condition became critical on 29 May.

Fr. Stan Swamy was born into a farming family in the southern Indian state of Tamil Nadu. He joined the Jesuits after turning 20. After his ordination, he served as a priest for more than 50 years. Fr. Stan Swamy advocated for the rights of indigenous tribes in Jharkhand and served as the director of the Indian Social Institute, a training school for marginalized communities in Bangalore, for more than a decade. He was the co-founder of the Persecuted Prisoners Solidarity Committee, an organization assisting those held in prison without having been convicted of a crime because they are still undergoing a trial. Fr. Stan Swamy worked among the Adivasis, Dalits and other marginalized communities so that the poor may have life and life to the full with dignity and honor.

In a Statement announcing Fr. Stan Swamy’s death, “Fr. Stan Swamy has been a dedicated advocate for the rights of Adivasi people, especially in the State of Jharkhand. He founded the Vistapan Virodhi Jan Vikas Andolan, an all-India platform to secure and protect the land rights of Dalit and Adivasi peoples, and was a prominent advocate against the forced displacement of Adivasi communities, typically occurring in the context of development and the mining of mineral-rich lands. He spoke out against the systemic discrimination and violence directed at the Adivasi community and he notably documented and advocated against the arrest of Adivasi youth, who are frequently accused of being “Naxalites” or “Maoists.” He has supported and inspired the most marginal and vulnerable communities to seek redress against violence and discrimination. His persecution and eventual arrest are direct reprisal for his peaceful work.”

"He was arrested on Oct. 8, 2020, by the National Investigation Agency, India’s counter-terrorism task force. The Jesuit priest was accused of being involved with a Maoist group, and inciting violence in the town of Bhima-Koregaon on Jan. 1, 2018. On 09 October, Fr. Stan Swamy was transferred 1,700 kilometres away from his home to Mumbai, Maharashtra, and remanded in the overcrowded Taloja Central Jail. At the time of his arrest Stan Swamy was already suffering from Parkinson’s disease, significant loss of hearing in both ears, and other serious underlying health issues. Initially jail authorities denied him warm clothes and a sipper cup which he needed due to the effects of Parkinson’s disease. Fr. Stan Swamy was eventually transferred from Taloja Central Jail to the Holy Family Hospital on 28 May 2021, when his condition had worsened severely. He tested positive for Covid19 on 30 May. Throughout the month of June he remained in a critical condition, and was moved to the Intensive Care Unit. Fr. Stan Swamy died on at 1.24 pm on 05 July."

His death in custody, and the continued incarceration of other defenders is a tragic indictment of India’s human rights record, and of the global community’s human rights commitments. We stand by Fr. Stan Swamy and other defenders accused and held under trial in this case, and believe they are being deliberately targeted for their human rights work. Standing united and without compromises the human rights values we believe that Indian government will understand their unjust steps and will release many other human rights defenders arbitrarily held in India before they meet the same fate as Fr. Stan Swamy.

We, Justice and Peace volunteers, experienced Fr. Stan Swamy as a gentle giant who walked miles with the tribals and marginalized people for 60 years. Fr. Stan Swamy was attentive to the needs of the poor communities, filled with courage and determination. He dedicated His life as a priest and human rights defender to the preferential option for the poor. In this simple way, he embodied the strong prophetic mission of the Church in India, as well as in global community. A man of justice, peace and unity, Fr. Stan Swamy has been deeply involved in integral human development in the local church and in the country. We learned that by denying him basic human rights, the state has shown its ugly coercive force to the people, Fr. Stan Swamy is a martyr, and a saintly example for us, he fought and died for justice and human rights for least, last and lost ‘all brothers and sisters’ in our ‘common home’ to build fraternal society.

Again, on behalf of the Episcopal commission for Justice and peace-CBCB we express deepest condolences to the Jesuits of Jamshedpur Jesuit Province, the Jesuits of Bangladesh, the family members, friends, lawyers, well-wishers and all those who stood by Fr. Stan Swamy, and we are united in prayers during this painful moment. We offer our thoughts, prayers and well-wishes during this dark time in human rights defenders in the country. We continue to stand in solidarity with Fr. Stan Swamy and we call for full accountability for his death while we demand justice. His example, good works, spirit, courage and kindness will not be forgotten and will continue to inspire.

 

Fr. Liton Hubert Gomes, CSC, Executive Secretary, Episcopal Commission for Justice and Peace, The Catholic Bishops’ Conference of Bangladesh, CBCB Centre, 24/C Asad Avenue, Mohammedpur, Dhaka 1207, Bangladesh, July 12, 2021

Most Rev. Bishop Gervas Rozario,DD, Chairman, Episcopal Commission for Justice and Peace of CBCB, Vice-President of CBCB & Bishop of Rajshahi


(Source: Picture and Information- Collected from website)

শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

ফেব্রুয়ারী ৮ : মানবপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রার্থনা ও সচেতনতা দিবস

 সাধ্বী যোসেফিন বাকিতা’র পর্ব: মানবপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রার্থনা ও সচেতনতা দিবস

সিস্টার যোসফিন রোজারিও, এসএসএমআই

কৃতদাসী থেকে সৌভাগ্যবতী যোসেফিন: মাতামণ্ডলী ৮ ফেব্রুয়ারী সাধ্বী যোসেফিন বাকীতার পর্ব পালন করে থাকে। তিনি ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে আফ্রিকার সুদান দেশে ওলগোসা নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকালে তিনি মা বাবা ও ভাইবোনেদের ভালবাসায় বড় হচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস; মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি আরব কৃতদাস-ব্যবসায়ীদের দ্বারা অপহৃত হন এবং কৃতদাসী রূপে একাধিকবার বিভিন্ন ধনীলোকদের কাছে বিক্রি হন। কৃতদাসী রূপে তার এ বিড়ম্বনাময় জীবনে এত নির্যাতিত, নিপীড়িত, লাঞ্চিত ও প্রহারিত হন যে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নিজের নামটা পর্যন্ত ভুলে যান ফলেন। তার একজন মালিক তাকে 'বাকিতা' (বাংলায় 'সৌভাগ্যবতী') নাম দেন। এ ছলনাময়ী নামের সাথে তার পাওয়া বিদ্রুপ, লাঞ্চনা, গঞ্জনার কোন মিল ছিল না বটে, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উপলব্ধি করেছেন তার নামের ভবিষ্যতবাণীর সার্থকতা। যোসেফিন বাকিতা আফ্রিকার বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকায় কাজ করেছেন এবং নির্মম কষ্ট সহ্য করেছেন। একসময় এক ইতালীয়ান  রাষ্ট্র-দূত তাকে ইতালীতে নিয়ে গিয়ে তার পরিবারকে সেখানে স্থানান্তরিত করেন এবং তার পিতামাতার কাছে ফিরিয়ে দেন। এভাবে সেখানে তিনি লাভ করেন নব জীবন আর হয়ে উঠেন তার সমগ্র পরিবারের মুক্তিদাতা এবং পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠে। 

‘স্বাধীন নারী’ সিস্টার যোসেফিন বাকিতা: ইতালীর ভেনিস শহরে কেনোসিয়ান সিস্টারদের সহযোগিতায় বাকিতা কোর্ট থেকে মুক্তি লাভের সকল কার্যক্রম শেষ করে স্বাধীনভাবে ইতালীতে বাকী জীবন কাটান। ১৮৯০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বাপ্তিস্ম ও হস্তার্পণ সাক্রামেন্ত গ্রহণ করেন। অতঃপর ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে তিনি কেনোসিয়ান সিস্টার হন এবং 'সিস্টার যোসেফিন বাকিতা' নামে পরিচিত হন। তিনি ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারী এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন।

পাচারকৃত ভাইবোনদের প্রতিপালিকা সাধ্বী যোসেফিন বাকিতা: মানব প্রেমিক সাধু দ্বিতীয় পোপ জন পৌল যোসেফিন বাকিতাকে সাধ্বী শ্রেণীভূক্ত করেন এবং ৮ ফেব্রুয়ারী তার পর্বদিন বলে ঘোষণা করেন। ২০১৫ খ্রীষ্টাব্দে মাতামণ্ডলী তার পর্বদিনটি প্রথমবারের মত পাচারকৃত ভাই বোনদের জন্য আর্ন্তজাতিক ভাবে প্রাথর্না-অনুধ্যানের জন্য উৎসর্গ ও উদযাপন করেছেন। ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে পোপ ফ্রান্সিস মানব পাচার নামক গর্হিত ও ঘৃন্যতম কাজটি সমাজ থেকে নির্মূল করে অধিকার বঞ্চিত, নিপীড়িত, বিড়ম্বিত ও বলিকৃত ভাইবোনদের মুক্তি ও এদের পাশে দাঁড়াবার জন্য বিশ্বের নেতানেত্রীদের দৃষ্টি আর্কষণ করেন ও একটি যথাযথ ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। সাধ্বী যোসেফিন বাকিতার কাছে পাচারে স্বীকার হওয়া ভাইবোনদের জন্য পোপ ফ্রান্সিস নিজে বিশেষ প্রার্থনা করেন ও খ্রীষ্ট মন্ডলীর সবাইকে প্রার্থনা করতে অনুরোধ করেন। এই সাধ্বী নিজ জীবনে মানব পাচার নামক নির্মম-যন্ত্রনাদায়ক জীবনাবস্থার শিকার হয়েছেন ও এর বেদনা নিজ জীবনে উপলব্ধি করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্বহৃদয়বান ব্যক্তিদের আধ্যাত্মিক, মানসিক, আবেগিক ও নৈতিক সমর্থন, ভালবাসা, কাউন্সিলিং ও গ্রহণীয়তা তাকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে; তার অভিজ্ঞতা সহভাগিতার মাধ্যমে অন্যদের দৃষ্টি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তাকে "পাচারকৃত ভাইবোনদের প্রতিপালিকা" বলে অভিহিত করা হয়। 

মানব পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রার্থনা ও সচেতনতা দিবস: সভ্যতা বিবর্জিত জঘন্য অপকর্ম মানব পাচার। শোষণ করার উদ্দেশ্যে ভয় দেখিয়ে বা বল প্রয়োগ করে বা অন্য কোন জোড়পূর্বক উপায়ে অপহরণ, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্বল অবস্থা কাজে লাগিয়ে অর্থ আগান-প্রদান করা একটি অপরাধ। আবার যেকোন প্রকার লোভ দেখিয়ে মানুষ সংগ্রহ, পরিবহন, হস্তান্তর, লুকিয়ে রাখা নিঃসন্দেহে একটি সামাজিক ব্যধি। ঈশ্বর সম-মর্যাদা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সমগ্র সৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব দিয়েছেন সেই মানুষই আজ আরেকজন মানুষকে পণ্য হিসেবে ক্রয়-বিক্রি করছে এবং যেমন তেমন ভাবে ব্যবহার-অপব্যবহার করছে। ঈশ্বর নিজে সৃষ্টি কর্তা হয়ে মানুষের স্বাধীনতাকে সম্মান করেন কিন্তু মানুষ অন্য একজন মানুষের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। তারপর জবরদস্তি করে পরিবার থেকে, সমাজ থেকে দূরে নিয়ে এমনকি দেশান্তর করে, কঠিন শ্রম দিয়ে, পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করছে। তাদের উপর যৌন নির্যাতন বা শ্লীলতাহানি, মারধর, আঘাত বা অন্য কোনো রকম শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করে তার ক্ষতি সাধন করছে। কাথলিক মণ্ডলীতে পোপ ফ্রান্সিস এ গর্হিত কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাচারকারী ভাইবোনের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুক্তির জন্য প্রত্যেক মানুষকে জেগে উঠতে উৎসাহিত করছেন। তাই তিনি ৮ ফেব্রুয়ারী সাধ্বী যোসেফিন বাকিতার পর্ব দিনে বিশ্ববাসীদের মানব পাচার বিরুদ্ধ দিবস হিসাবে উদ্যাপন করতে আহ্বান জানান। 

তালিথা কুম নেটওয়ার্ক: ২০০৯ খ্রীষ্টাব্দে পোপ ফ্রান্সিস মহোদয়ের অনুরোধে বিশ্বব্যাপী সিস্টার সন্ন্যাস সংঘের মেজর সুপিরিয়রদের সম্মেলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভাটিকান কেন্দ্রিক “তালিথা কুম আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক” (Talitha Kum International Network)। এ নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ত হয়ে সিস্টারগণ বিশ্বের বুক থেকে মানব পাচার, জোড়পূর্বক অভিবাসন, অনৈতিক ও অন্যায্য মালিক-শ্রমিক সম্পর্কযুক্ত অমানবিক কর্ম পৃথিবী থেকে নির্মূল করার জন্য সেবাকাজ করে যাচ্ছেন।  পবিত্র বাইবেলের আরাময়িক শব্দ "তালিথা কুম" (বাংলায় 'খুকু আমি তোমাকে বলছি, তুমি উঠ') গ্রহণ করা হয়েছে (মথি ৫:৪১)। International Union of Superior General (UISG) সম্মিলিত ভাবে মানব পাচার নিরোধের প্রত্যাশায় ২০০৯ খ্রীষ্টাব্দে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে  সেবাকাজ আরম্ভ করেন। ২০০৭ খ্রীষ্টাব্দে যখন কাথলিক সন্ন্যাসব্রতিনীগণ অনুভব করলেন  নারী পাচারের সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকমে বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন থেকে সেবাকাজের অনুপ্রেরণা আরম্ভ হয় । ২০১৩ খ্রীষ্টাব্দে মোট ৭৫টি দেশের বেশ কয়েকজন নারী সন্ন্যাসব্রতী সংঘ-প্রধানগণ সম্মেলিতভাবে সিস্টার ইষ্ট্রেল্লা কাস্টালনে এর নেতৃত্বে প্রায় ৬০০ সিস্টার একত্রে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে শুরু করেন এবং ২০১৫ খ্রীষ্টাব্দে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮০টি দেশের ১১০০ জন সেবাকর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এশিয়া মহাদেশের ৮টি দেশ এ কার্যক্রম খুবই আন্তরিকতা সাথে কাজ করছেন্। বাংলাদেশে ন্যায় ও শান্তি কমিশন-সিবিসিবি ও বিসিআর এর যৌথ সমর্থনে এবার বাংলাদেশ মণ্ডলীও  প্রত্যক্ষভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

তালিথা কুমের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: (১) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রতধারী/ধারিনী, সামাজিক সংঘটন, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতা নেত্রীদের মধ্যে মানব পাচার বিরুদ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরী করা; (২) চলমান কার্যক্রম ও পদক্ষেপগুলো কে আরো শক্তিশালী করা, সন্ন্যাসব্রতী সংঘগুলির মানব সম্পদের অনুকূলকরণ ও তাদের সম্ভাবনাগুলির সুষ্ঠ প্রয়োগ, প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, সচেতনতা প্রদান, ভূক্তভোগীদের পূর্ণবাসন ও সংরক্ষণ, এবং পাচার বিরুদ্ধ অফিসিয়াল রির্পোট প্রদান; (৩) চলমান ঘটনা বিষয়ে সদস্যাদের জন্য সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম প্রনয়ন ও উন্নয়ন এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন; (৪) সদস্যাদের প্রাবক্তিক ভূমিকা বিষয়ে সোচ্চার করে তোলা, শোষনকারী-দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনী সহায়তা দাবী পূরণে সহায়তা এবং নারীদের ক্ষমতায়নে আইনী সহায়তা প্রদান ও পাশে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশে মানব পাচারের ভয়াবহ রূপ: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রেস রিপোর্ট অনযায়ী- মানব পাচারে জড়িতচক্রসমূহ লোভনীয় চাকরি ও সুযোগ-সুবিধার নামে ‘মিথ্যাস্বপ্ন’ দেখিয়ে বাংরাদেশের লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ ও শিশুদের এ পথে নিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক পাচার, যৌন-দাসত্ব, সংখ্যালঘু ও দুর্বল মানুষদের বেআইনী ভাবে ব্যবহার ও নির্যাতন, মানবাধিকার খর্ব, প্রতারণা ইত্যাদির মাধ্যমে এক কুচক্রীমহল কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়েই চলছে এদের দমনের উদ্যোগ না নিলে দেশ ও সমাজ এক কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হবে। র‌্যাবের রিপোর্ট অনুসারে শুধু মাত্র ডান্স ক্লাবের নামে গত দেড় বছরে সহস্রাধিক  নারী পাচার হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে- বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছরে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে; এদের একটি বড় অংশ পাচার হয়ে যায়। এসবের মূলে দারিদ্রতা, মিথ্যাস্বপ্ন, কর্ম সুযোগের অভাব, স্বল্প শিক্ষা, পরিবারগুলির ভাঙ্গন প্রক্রিয়া, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা, অভিবাসন নীতিমালা ইত্যাদি বিষয়কে দায়ী করা যায়। তাই বাংলাদেশ মণ্ডলী মানব পাচার মুক্ত অর্থনীতি গঠনে পোপ মহোদয়ের সাথে "তালিথা কুম নেটওয়ার্ক" এর মূলনীতি অনুসরণ করে সরকার ও মানব পাচারে শিকার ভাইবোনদের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের সেবা করতে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে। 


(তথ্যসূত্র: তালিতা কুম ডেস্ক ইনফরমেশন ও ইন্টারনেট) 




বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

খুঁজতে খুঁজতে ওদের পথেই পাওয়া গেল


(সংগৃহীত) ঢাকায় এমন হাজারো শিশুর ঠাঁই রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে। আর্থ-সামাজিক নানা টানাপড়েনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই শিশুদেরপরিচয় ‘পথশিশু’। 

২০০৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের এক জরিপ বলছে, সারা বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখ।

বাংলাদেশে পথ শিশুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতদ্বৈততা রয়েছে। ২০০৪ সালে বিআইডিএসের জরিপের বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পথশিশু বিষয়ক সেলের প্রধান আবুল হোসেন বলেন, “এই স্টাডি অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে এবং নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই পথশিশুদের প্রকৃত সংখ্যা বর্তমানে কত, এটা না জানলে তাদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা ‍দুরূহ হবে।”

২০০৫ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক গবেষণায় বলা হয়, দেশের শতকরা ৪১ ভাগ পথশিশুর ঘুমানোর বিছানা নেই; ৪০ শতাংশ প্রতিদিন গোসল করতে পারে না; ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে, ৮৪ শতাংশ শিশুর শীতবস্ত্র নেই; ৫৪ শতাংশ শিশুর অসুস্থতায় দেখার কেউ নেই; ৭৫ শতাংশ পথশিশু অসুস্থতায় ডাক্তার দেখাতে পারে না।

শিশুদের মাদকাসক্তির চিত্রও ভয়াবহ। শিশু অধিকার ফোরামের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৮৫ ভাগ পথশিশু মাদকাসক্ত।

তাদের ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ শিশু ধূমপান, ২৮ শতাংশ নানা ট্যাবলেট, ৮ শতাংশ শিশু ইনজেকশনে আসক্ত।

৮০ শতাংশ শিশু কাজ করে জীবন টিকিয়ে রাখতে; ২০ শতাংশ শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু সার্বিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। 

বাংলাদেশ পথশিশুদের নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক-স্ক্যান মহামারীর মধ্যে গত মার্চে রাজধানীর মহাখালী, এয়ারপোর্ট, কমলাপুর, গাবতলী, সদরঘাটসহ আটটি এলাকায় পথশিশুদের জীবনমান নিয়ে একটি জরিপ চালায়। গত ২৬-৩১ মার্চ পর্যন্ত এ জরিপ চলে।

জরিপে পাওয়া তথ্যের প্রসঙ্গে স্ক্যানের সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির বলেন, “জরিপে আমরা পথশিশুদের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে ভয়াল এক অবস্থা দেখতে পাই। ওরা কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস কী সেটা জানেই না।

“সবাই একসাথেই থাকে, স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। ওরা সারাদিন ঘুরে বেড়ায় এখানে সেখানে। ওরা তো করোনাভাইরাসের ক্যারিয়ার হতে পারে।”

স্ক্যানের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মহামারীতে কর্মসংস্থান হারনো পথশিশুরা অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।বাংলাদেশ জুড়ে পথশিশুদের জীবনমানের যখন এ হাল, তখন নড়েচড়ে বসেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্যোগে একটি অনলাইন সভায় আসে নানা সুপারিশ।

সে সভায় এক শিশু অধিকারকর্মী জানান, ঢাকা শহরের পথশিশুদের বর্তমান বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা পরিচালনায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনলাইন সভার সুপারিশগুলো হল-

>> করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

>> গত ২৬ মার্চ লকডাউন শুরুর পর অদ্যাবধি যেসব সেন্টার বা আবাসনে অবস্থানকারী শিশুদের অতিরিক্ত নতুন শিশুর না নেওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

>> বেসরকারি উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে পথশিশুদের সামরিক অবস্থান ও খাদ্য সরবরাহের যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা ক্রমান্বয়ে নিয়মিত প্রোগ্রামের রূপান্তরের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।

>> সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পথশিশুদের সহায়তায় যেসব উত্তম চর্চা তাদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা অন্যদের সাথে বিনিময় করতে হবে।

>> ঢাকা শহরের পথশিশুদের বর্তমান বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করতে হবে।

>> কোভিড-১৯, নদী ভাঙ্গন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ভালনারেবিলিটি শনাক্তকরণের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক জরিপ সমীক্ষা পরিচালনা করতে হবে।

>> সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এবং চলমান কর্মসূচির আলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গঠন করা জরুরি।

>> পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত এবং অসহায় শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

>> পথশিশু সুবিধাবঞ্চিত এবং অসহায় শিশু যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ, শারীরিক, যৌন, মাদক, হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে সকলে সতর্ক দৃষ্টি রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

>> পথে অবস্থানকারী শিশুরা যাতে তাদের পিতামাতা অভিভাবক বা পরিবারের ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, “আমরা আগে জরিপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। জরিপ করলে জানা যাবে শিশুরা কেন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, শিশুরা যখন পরিবার থেকে চলে আসে তখন তারা কিন্তু ভালনারেবল। তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, কেউ শারীরিক বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

“আমরা ইতোমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি চূড়ান্ত হলে আমরা পথশিশুদের নিয়ে জোরসোরে কাজ শুরু করব।”


তথ্যসূত্র: জয়ন্ত সাহা (নিজস্ব প্রতিবেদক), ৩ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম




করোনাভাইরাস মহামারী সময়েও দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

 দেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ ও গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সাত মাসের ‘সাম্প্রদায়িক চালচিত্র’ তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, এই সময়ে দেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ১৭ জন হত্যা, ১০ জন হত্যাচেষ্টার, ১১ জনকে হত্যার হুমকির, ৩০ জন ধর্ষণ-গণধর্ষণ ও নির্যাতন, ছয় জন ধর্ষণচেষ্টা, তিনজন শ্লীলতাহানির কারণে আত্মহত্যা, ২৩ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন।

পাশাপাশি ২৭টি প্রতিমা ভাঙচুর, ২৩টি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, ২৬টি বসতবাড়ি, জমি ও শ্মশান উচ্ছেদের ঘটনা, পাঁচটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা, ৭৩টি উচ্ছেদ চেষ্টা, ৩৪ জনকে দেশত্যাগের হুমকি, ৬০টি পরিবারকে গ্রামছাড়া করা, চারজনকে ধর্মান্তরিত হতে হুমকি, সাতজনকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, ৮৮টি বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট, ২৪৭ জনকে দৈহিক হামলা, ২০টি পরিবারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ বিতরণকালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো এবং মহানবীকে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

রাণা দাশগুপ্ত বলেন, এসব সন্ত্রাসের কোনো-কোনোটির সাথে সন্ত্রাসীরা সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীর পরিচয় দিয়েছে। এই চালচিত্র সম্পূর্ণ চিত্র নয়, সমগ্র ঘটনার আংশিক মাত্র। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাংলাদেশে নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভীত করে দেশত্যাগে বাধ্য করা যাতে দেশটি সংখ্যালঘু শূন্য হয়ে পড়ে।

ধর্ম অবমাননার জিগির তুলে দিনাজপুর, পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ-অগ্নিসংযোগ নারী নির্যাতন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের অপপ্রয়াসের প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে, অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি, ধর্মপ্রাণ শহিদুন্নবী জুয়েলকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং সংখ্যালঘুর সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এই আট দাবি পরিষদের।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতা চন্দন বিশ্বাস, বরুণ কান্তি চৌধুরী, প্রদীপ চৌধুরী, দোলন মজুমদার, সুভাষ দাশ, অসীম দেব, হরিপদ চক্রবর্তী, অশোক চক্রবর্তী, স্বরুপ পাল ও রুবেল পাল উপস্থিত ছিলেন।



তথ্যসূত্র: চট্টগ্রাম ব্যুরো, ৩ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম




সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

 


ঢাকা/চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশ - বরিশাল/দিনাজপুর/খুলনা/ময়মনসিংহ/রাজশাহী/সিলেট ধর্মপ্রদেশ

বিষয়: "১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস" (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) উদযাপন  

             প্রসঙ্গে।

শ্রদ্ধেয় ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার ও খ্রিস্টিয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ,

ন্যায় ও শান্তি কমিশন-সিবিসিবি’র পক্ষ হতে শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন! পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস গৃহহারা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের যারা সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সংগঠিত করছেন তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং আগামী রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, "১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস" উদযাপনের জন্য বিশ^বাসীর প্রতি আহ্বান রেখেছেন। 

পোপ মহোদয় এ বছর অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত জনগণের পালকীয় সেবাযতেœর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং মূল প্রতিপাদ্য বিষয়  হিসেবে ঘোষণা করেছেন, "যিশু খ্রিস্টের মতোই পালাতে বাধ্য" (“Like Jesus Christ, Forced to flee”)। পোপ মহোদয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রার্থনা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পালকীয় কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি অর্থপূর্ণ করতে পারি। ফলে অভিবাসী ভাইবোনেরা বিশেষভাবে করোনামহামারীর সময়ে গরিব, দুঃস্থ, অবহেলিত, নানাধরনের ঝুঁকি ও বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিতদের আশ্রয়, সুরক্ষা, উন্নয়ন ও স্থানীয় সমাজে (হোস্ট কমিউনিটি) একত্রে মর্যাদাসহ জীবনযাপন করতে পারবে। 

১. পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস-এর সংক্ষিপ্ত বাণী নিজেরা পাঠ ও অনুধ্যান করে তাঁর মতো হৃদয় নিয়ে অভিবাসী ভাইবোনেরা যারা আমাদের জন্য কাজ করে অথবা বসবাস করে তাদের এবং আমাদের আশেপাশে বসবাসরত অভিবাসী ভাইবোনদের প্রতি আরও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ মানবীয় আচরণ করতে পারি। আমাদের দেশ থেকে যারা বিভিন্ন দেশে কাজ, পড়াশুনা বা জীবনযাপনের জন্য অবস্থান করছে তাদেরও স্মরণ করতে পারি।

২. পোপ মহোদয়ের বাণীর আলোকে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত জনগণের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারি। অভিবাসী ভাই-বোনদের অবস্থা জানা, বোঝা ও অনুধাবনের জন্য আলোচনা, সংলাপ ও ক্ষুদ্র দলে বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক প্রতিবেশি’র বিশেষ সংখ্যা : বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস (২০-২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) সংখ্যাটি থেকে সাহায্য নিতে পারি।

৩. বরিবারের খ্রিস্টযাগে (২৭ সেপ্টেম্বর) পুরোহিতগণ অনুধ্যান ও উপদেশে পোপ মহোদয়ের বাণী এবং মথি রচিত মঙ্গলসমাচার ২:১৩-২৩ পদ সহভাগিতা করতে পারেন। খ্রিস্টযাগের সময়, কনভেন্টের প্রার্থনায়, প্রতিষ্ঠানে অফিসের কার্যক্রম শুরুর আগে অভিবাসী ভাইবোনদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করতে পারি। ধর্মপল্লীর পালকীয় কাজে অভিবাসী ভাইবোনদের সম্পৃক্ত করতে ও তাদের প্রয়োজনে সাড়াদান করতে পারি। 

৪. স্থানীয় ও অভিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করে একত্রে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও একত্রে বেড়ে উঠার পরিবেশ তৈরি করতে পারি। স্থানীয় সমাজের উন্নয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অবদান অনুধাবন করা, স্বীকৃতি দেয়া এবং তাদেরকে স্থানীয় সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কাঠামোতে সাধ্যমতো অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা যাতে তারা আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রেডিট ইউনিয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে পারি।

আমাদের প্রতিটি ধর্মপল্লীতেই অনেক অভিবাসী ভাইবোন আছে যারা প্রতিদিন আমাদের জীবন বাঁচাতে ও জীবন সাজাতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে। যেমন- গৃহ পরিচারিকা, ড্রাইভার, দারোয়ান, দিন-মজুর, বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি রক্ষণাবেক্ষণকারী, সেলুন বা পার্লারে কর্মরত, রিকশাচালক আরও অনেকভাবে সহায়তা করছে। আমাদের জীবনে তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সাধ্যমতো চেষ্টা করি এবং বিপদ-আপদে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে অঙ্গীকার করি।

আমাদের বিশ্বাস ও আশা, দয়ার কাজের মাধ্যমে একই পিতার সন্তান হিসেবে সকলে পরস্পর ভাই-বোন হিসেবে জীবনযাপন করতে পারব ও একত্রে মিলে সমাজে আরও সক্রিয় হতে উঠতে পারবো।

পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ডিডি, সভাপতি, সিবিসিবি ন্যায় ও শান্তি কমিশন, এর পক্ষে পত্রটি প্রেরণ করছি।

খ্রিস্টেতে,

ফা. লিটন হিউবার্ট গমেজ, সিএসসি জ্যোতি গমেজ

সচিব, ন্যায় ও শান্তি কমিশন, সিবিসিবি প্রধান সমন্বয়কারী, অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর




মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফাদার টিম এর মৃত্যুতে ডরপ এর গভীর শোক

 স্টাফ রিপোর্টার (ইউনাইটেড নিউজ ২৪.কম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ):  সুশাসন ও ন্যায্যতার জন্য, নারীর ক্ষমতায়ন ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ তথা সমাজ পরিবর্তনের পথিকৃৎ, আন্তর্জাতিক-জাতীয় থেকে উপদ্রুত এলাকার মাটি মানুষের সেতুবন্ধনের অন্যতম টিম লিডার ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম এর মৃত্যুতে বেসরকারি সংস্থা ডরপ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক শোক বার্তায় ডরপ পরিবার ফাদার টিমের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন।

শোক বার্তায় বলা হয়, ১৯৭০ এর ১২ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছাসের পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে মানুষের ‘সঙ্গে’ ও ‘জন্য’ থেকে নটর ডেম কলেজের প্রিন্সিপালের পদ ছেড়ে দিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজ করেন ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম। বৃহত্তর বরিশাল জেলার ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা ইউনিয়ন ও নোয়াখালীর রামগতিকে কেন্দ্র করে দুর্গতদের  মধ্যে আর্ত মানবতা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার কাজে নিয়োজিত হন। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত মনপুরার সবাই তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ও জানে। বাংলাদেশের প্রথম এনজিও ‘হেল্প’; মনপুরায় গুচ্ছগ্রাম ধারণা বাস্তবায়ন ও পরবর্তীতে রামগতির বিশ্বগ্রামের অংশী হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন।

ডরপ’র শোক বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলায় কথাবার্তা ও কৃষ্টি-কালচারসহ কাঁধে চটের ব্যাগ নিয়ে ফিফটি মটরসাইকেল চালিয়ে কাজে যাতায়াত করতেন তিনি। সরল নির্লোভ, আজীবন কুমার ৬৬ বছর বাংলাদেশে অবস্থান করেন। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর বাঙ্গালীর উপর নৃশংস গণহত্যার বিরোধিতা করে দেশে-বিদেশে, যুক্তরাষ্ট্রে জনমত গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধত্তর এনজিও নেটওয়ার্ক ‘এডাব’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

শোক বার্তায় বলা হয়, ফাদার টিমের সাথে হাতিয়া-রামগতি-দৌলতখা নদীপথে স্টিমারে পরিচয় হওয়ার অনুপ্রেরণার সাথী, সিএ পড়া বাদ দিয়ে ‘ধ্বংস থেকে সৃস্টি’র উৎপাদন যোদ্ধা, উন্নয়ন সংগঠক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেসন অব দি রুরাল পুয়র- ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান। ফাদার টিম বাংলাদেশের বেসরকারি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান ১৯৮৭ সালে ‌‘বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। বামাসপ বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, অনুষন্ধ্যান কাজের পত্তনি সংগঠন হিসাবে খ্যাত। উৎপাদন, উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে মা অধিকার সুরক্ষায় একই বছর ডরপ প্রতিষ্ঠা হয়। একই সালে বামাসপ এর সদস্য সংগঠন হয়ে ডরপ চরফ্যাসনে জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। বাংলাদেশের জন্য ফাদার টিমের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছবিটি ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে তোলা।


উল্লেখ্য, ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম বার্ধক্যজনিত ৯৭ বছর বয়সে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২০) যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম শহর ইন্ডিয়ানায় মৃত্যুবরণ করেন। (Collected)  Development Organisation of the Rural Poor-DORP, a national Non-Government Organization (NGO) established in 1987.




Bangladesh will miss you, Father Timm: Dr Yunus

 

Bangladesh will miss you, Father Timm: Dr Yunus 

Nobel laureate Dr Muhammad Yunus has expressed deep shock at the death of former Principal of Notre Dame College, Father Richard William Timm, saying that Bangladesh will forever miss him.

 "I am very sorry to see Father Timm go," said the Nobel laureate in a condolence message on Monday.

Prof Yunus said no disaster in Bangladesh could escape his quickest and the most daring responses and he was a towering symbol of humanitarian work.

Father Timm spent all his life in Bangladesh, always available for anything which would serve the poor, said Yunus.

"I met him in Notre Dame University (in Indiana, USA) in April, 2018. I was at the university to give their annual public lecture. I was told by one of the Professors that Father Timm was on the campus. He said that he (Father Timm) apologised that he could not attend the lecture. I immediately wanted to meet him, which I did as soon as I was done with the official programme," Dr Yunus recalled.

He said he was disappointed to see Father Timm in a small hostel accompanied by five elderly people.

"The man who was closest to the people is now far away from the people he loved," Dr Yunus said.

Father Timm wanted to know everything about Bangladesh. "He was on a wheelchair. The nurse repeatedly told me not to make him talk. But he would not stop. Finally the nurse decided to take him back to his room."

Dr Yunus said, "I could see how much he missed Bangladesh."

Father Timm, one of the founders of Notre Dame College in Dhaka, repeatedly said, "I wanted to die and be buried in Bangladesh. But no one is listening to me. I am so helpless."

"Father Timm, you'll forever remain in the hearts of Bangladeshis… Bangladesh will forever miss you. You have left your fingerprints in every disaster area of Bangladesh. May God grant your soul eternal peace," he added.

Father Timm died in the United States at the age of 97.  Father Timm, who played a significant role during the Liberation War, breathed his last at 1:30pm local time in Indiana on Friday. (Collected)

Obituary 

Rev. Richard W. Timm, C.S.C.  March 2, 1923 ~ September 11, 2020 (age 97)


NOTRE DAME, Ind. – Rev. Richard W. Timm, C.S.C., 97, died at Holy Cross House, Notre Dame, Ind., on Friday, September 11, 2020.

He was born March 2, 1923, in Michigan City, Ind., to Joseph and Josephine (Otten) Timm. After grade school and high school at St. Mary’s in Michigan City, Ind., he entered Holy Cross Seminary and the University of Notre Dame in 1940. He made First Vows on August 16, 1942, taking the fourth vow of foreign missions. After novitiate, he went to Holy Cross College in Washington, D.C. for theology, then the Foreign Mission Seminary. He was ordained to the priesthood on June 8, 1949.

After ordination, Fr. Timm traveled to Dhaka, Bangladesh and joined the newly established Notre Dame College. Then, as a visiting professor in the department of nematology at the University of California, Davis, he taught for two years and helped out on weekends in parishes. During this time, he spent more than two months in Antarctica and discovered several new species of nematodes. Among them is the Marine Nematode “Timmia parva”, named after Fr. Timm himself!

In 1970, Fr. Timm had just returned as principal of Notre Dame College, Bangladesh when a cyclone and tidal surge caused widespread damage and casualties. He performed relief work on Manpura Island, the worst affected area, then was invited to direct a rehabilitation program on the island.

Fr. Timm was very active in direct service to the people of Bangladesh through his involvement in Caritas, the Bishops’ organization for welfare and development. He served a 24-year term as executive secretary of the Commission for Justice and Peace; and, in 1987, received the Ramon Magsaysay Award for International Understanding; a very prestigious award referred to as the “Nobel Prize of Asia". From 1984 to 2009, he served as chaplain for the Missionaries of Charity and the Holy Cross Sisters. He also served for over 25 years as chaplain to the Baby Home and House of Compassion run by Mother Theresa’s Sisters. Fr. Timm moved to Holy Cross House in 2017.

Fr. Timm served in Bangladesh for some 65 years. As his confrères in Bangladesh have said, Father Timm “was a legend of Bangladesh, an internationally renowned zoologist, discoverer of at least 250 nematodes, an educationist, a human development worker, a friend of Bangladesh, author of many books and publications, Magsaysay winner, and so on. Most importantly, he was a Catholic priest and member of the Congregation of Holy Cross.”

Preceding him in death are Fr. Timm’s parents, Joseph and Josephine Timm, his brother Robert, and his sisters Mary Jo Schiel and Genevieve Gantner. (Collected)

Father Richard William Timm: Timeline of Achievements
1923 - March 2, Born at Michigan City, Indiana, United States
1940 - Graduation from St Mary's HS. Michigan City
1945 - BA (Philosophy) from University of Notre Dame magna Cum Laude
1949 - Ordained at Sacred Heart Church, Notre Dame Indiana
1949 - June 8. Holy Cross assigns Timm to establish a department of science at St Gregory's School in Dhaka’s Laxmibazar
1951 - MS in Biology at the Catholic University of America
1952 - PHD from CU, specializing in Parasitology. Arrives in Dhaka in late October
1952-68 - Professor of biology, principal and founder and head of the science dept, Notre Dame College, Dhaka
1953-54 - Fulbright Lecturer in Parasitology at Govt Medical College, Dhaka, with extension at Govt Experimental Farm, Tejgaon
1954-70 - Researches on jute and rice nematode parasites at the Agricultural Research Institute, Tejgaon, under a grant from the Ministry of Food and Agriculture, Pakistan
1958-63 - Project on Plant-Parasitic nematodes (roundworms) under Food and Agriculture Council, Pakistan
1958-64 - Southeast Asia Treaty Organization (SEATO) Research Fellow in Thailand and Philippines; SEATO publishes his book on the Plant-Parasitic nematodes of Thailand and the Philippines
1963 - Awarded a SEATO Postdoctoral Research Fellowship for extensive study in Thailand and the Philippines on parasitic nematodes affecting commercial plants
1964 - Founded handicraft organization ‘Jagoroni’ for physically challenged women.
1965 - SEATO publishes his book “The Plant-Parasitic Nematodes of Thailand and The Philippines”
1968 - Father Timm leaves East Pakistan to spend two years in the US before returning shortly before the Liberation War in Bangladesh
1968-70 - Visiting Professor of Nematology at University of California, including two and half months research in Antarctica
1970-73 - Focusses on relief and rehabilitation; both for the cyclone and the destruction caused by the Liberation War
2020/09/unnamed-1599980876619.gif
1970-73 - Founded the science departments at Notre Dame College and pioneered club activities
1970-71 - Learns to speak fluent Bangla
1971-72 - Director of Cyclone Rehabilitation Project on Monpura Island for six months
1972-74 - Planning Officer at Caritas, Bangladesh
1973 - Executive Director of CORR The Jute Works
1974-76 - National Director of Caritas
1974 - Leads the creation of the Association of Voluntary Agencies in Bangladesh (AVAB) and was elected first chairman of its executive committee. Later AVAB became ADAB (Association of Development Agencies in Bangladesh)
1974-94 - Executive Secretary of Commission for Justice and Peace
1978 - Timm serves ADAB as director for nine months.
1987-93 - Founder of the Coordinating Council for Human Rights in Bangladesh and president for three terms
1987 - Receives Magsaysay Award for International Understanding from Manila for 35 years of dedication to the development of Bangladesh. In the same year, he receives ‘Abu Sayeed Chowdhury Award’ for Human Rights in Social Service
1990-93 - Founder and convenor of South Asian Forum for Human Rights.
2000-2011 - Works in various sectors in Bangladesh, especially on indigenous communities, physically challenged women, poor, and has been working on development and human rights
2008 - Timm becomes Caritas Bangladesh Advisor
2009- Honoured by Vatican's Pontifical Council for Justice and Peace as a teacher, author, eminent scientist, and advocate for human rights
2012 – Awarded the “Friends of Liberation War Honour”
Late 2015 or 2016 - He left Bangladesh
2020- September 11, (aged 97) dies at South Bend, Indiana, United States
The Funeral Mass (livestream) :  3:30 p.m. on Friday, September 18, 2020, at the Basilica of the Sacred Heart, Notre Dame, Ind.  Burial in the community cemetery at Notre Dame. 
© Dhaka Tribune

Collected from Khushi Kabir
 is with 
Hammad Choudhury
.
15.09.2020

It took me some time to write this. Even longer to post this. As I post this, I just got news that our dearest friend and mentor, Jeffrey Pereira is not well. I join others in wishing him a recovery back to his home soonest.
Fr. R. W. Timm’s news of his leaving his body left me numb. Though he was really unwell, which is why he had to go back to the US, we knew it was a matter of time, it still leaves an empty ache.
I have known of Fr. Timm from the sixties, first by reputation, ( he was featured in Time Magazine for his ground breaking work on micro organisms in Antartica. He left an amazing career in science to teach in Dhaka. He loved Bangladesh). Then when my younger brother became a student of Notre Dame College, we met him as his teacher.
It was in 1970 November after the massive cyclon when he took over Coordination of the field operations of HELP at Manpura Island, that I got the chance to know him personally and work with him. My father on his retirement from Government service became the Dhaka Coordinator for HELP. Fr. Timm visited our house often and I would sometimes volunteer for them. During 1971, he would ask my father to shelter young Mukti Jodhhas who needed a
place to stay in Dhaka. We were taught never to ask questions.
It was in 1972, immediately after Bangladesh’s liberation, when I joined BRAC and Fr. Timm was with CORR, which later became Caritas, that we got even closer. I also fondy remember our frequent meetings when I used to visit Fr. Homerich at Jalchatra in 1975, another wonderful person we lost recently. We used to have Long discussions & debates. That's when I got very close to him.
When I left BRAC in 1980 and joined Nijera Kori, he was of great support to us. One of our strongest mentors. He and I did several joint evaluations of Caritas programmes, travelled the length and breath of the country together. Jeffrey Pereira was the Executive Director of Caritas by then. Another fine human being, I respect greatly. 1981, both Abed Bhai and Fr. Timm were instrumental in getting me to be on the Board of ADAB. For many years, I was the only woman on the Board.
When Fr. Timm initiated a collective effort through the formation of CCHRB (Coordination Council for Human Rights in Bangladesh) again I was taken on their Board. Unfortunately, some unscrupulous elements brought in dirty politics and tried to demean Fr. Timm. The Government of that time was not supportive of him nor of Peoples’s rights. This was due to his strong stance on Human Rights and for his speaking out on the atrocities on the indigenous people of CHT.
Despite this lack of support for Fr. Timm, by the Government of that time, I noticed that whenever we as a group went to meet the Government, all the Secretaries at that time and some Ministers too, were his students and the respect and awe they had of him was genuine.
The current Government however awarded him as a friend of Bangladesh. An award he cherished. But his dream to get Bangladeshi citizenship could not materialise. Due to failing health he had to go back to the US to be looked after by his Congregation.
The last time I met him was a huge Birthday dinner organised with people he was close to, before he left for the US. His incredible memory was beginning to falter, but I was glad he remembered me well.
My niece's son studies at Notre Dame University in the US. My niece took permission to visit Fr. Timm some months back. He was really frail, but remembered my father and us.
He was a giant among other giants. He stood out in more ways than one. To me, he was one of the finest humans I have met to tread this planet. At one time, we as NGOs wanted to say Thank You to the three stalwarts and icons of Bangladesh’s NGO world, Sir F.H. Abed, Dr. Zafrullah Chowdhury and Father Timm. That too never happened.
One bit of his indomitable spirit I remember about him was his habit of falling down and hurting himself or breaking a leg, while riding his bike. But he would always recover and get on his bike again. Nothing could get him to give up riding his bike.
Fr. Timm's contribution will live on. It needs to be archived.
The only regret, he so wanted to be a Bangladesh National. But that was not to be.
We will always carry you in our hearts.
Our dear Fr. Timm with another legend, Fr. Homerich with the photographer, archivist, environmentalist, journalist, researcher Philip Gain. I hope Philip you will not mind my using your pictures for this post.
Fr R W Timm CSC -- the Guru of Caritas Bangladesh
Atul Sarker
He was our beloved Guru, the master of all masters, our mentor, our guide, our philosopher and our light house. We learnt from him how Social Justice is put into action, why primacy of the human person is paramount in development and above all why we need participation of all in social transformation.
It was a blessing for many of us in Caritas Bangladesh to work directly under him and learn basics of social analysis, contemporary development, human rights, institution building as a child learns her/his first lessons in life. His transformative leadership made Caritas Bangladesh what it claims and stands for today. There remains no sector in Caritas Bangladesh Progras where Fr Timm's contribution is absent.
Farmers Right and Fr Timm: To respond to the call of the Father of the Nation, Caritas participated "green revolution" in 1972 --1975. At that time irrigation was a big problem in cultivating the newly introduced IRRI varity. Farmers were almost chained by the powerful "water lords" who possessed diesel powered water pumps and would rent it out with exuberant rate that was equivalent to the cost of one third of their total produce. Visiting the then Rajbari agricultural farm (at that time it was under a farmers cooperative) in Dinajpur, Fr Timm realized that without ensuring the irrigation rights of the farmers and without breaking monopoly of the "water lords" landless and small holder farmers will remain victims of injustice that prevailed during the then farming system.
Coming back to Dhaka, he sat with his favorite desciple and yet another piller of Caritas Bangladesh, Jeffrey S Pereira. Both were convinced that introducing low cost, farmer friendly irrigation gadget is the answer and appropriate strategy to resist the "water lords" that can bring about justice and equity to landless and small holder farmers.
And that was the begging of a new era of traddle pump and that is how Fr Timm began to transform the landscape towards "food sovereignity" in Bangladesh.
To be continued..

Note: This is a very humble series and my first post in FB in respect of our mentor and Guru. I also thank those who inspired/pushed me to write.


Memorial contributions in support of the mission and ministries of the Congregation of

Holy Cross can be made to: United States Province of Priests and Brothers, Office of

Development, P.O. Box 765, Notre Dame, IN 46556-0765 or online at

donate.holycrossusa.org.

To send flowers to the family or plant a tree in memory of Rev. Richard W. Timm, C.S.C.