শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

ফেব্রুয়ারী ৮ : মানবপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রার্থনা ও সচেতনতা দিবস

 সাধ্বী যোসেফিন বাকিতা’র পর্ব: মানবপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রার্থনা ও সচেতনতা দিবস

সিস্টার যোসফিন রোজারিও, এসএসএমআই

কৃতদাসী থেকে সৌভাগ্যবতী যোসেফিন: মাতামণ্ডলী ৮ ফেব্রুয়ারী সাধ্বী যোসেফিন বাকীতার পর্ব পালন করে থাকে। তিনি ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে আফ্রিকার সুদান দেশে ওলগোসা নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকালে তিনি মা বাবা ও ভাইবোনেদের ভালবাসায় বড় হচ্ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস; মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি আরব কৃতদাস-ব্যবসায়ীদের দ্বারা অপহৃত হন এবং কৃতদাসী রূপে একাধিকবার বিভিন্ন ধনীলোকদের কাছে বিক্রি হন। কৃতদাসী রূপে তার এ বিড়ম্বনাময় জীবনে এত নির্যাতিত, নিপীড়িত, লাঞ্চিত ও প্রহারিত হন যে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে নিজের নামটা পর্যন্ত ভুলে যান ফলেন। তার একজন মালিক তাকে 'বাকিতা' (বাংলায় 'সৌভাগ্যবতী') নাম দেন। এ ছলনাময়ী নামের সাথে তার পাওয়া বিদ্রুপ, লাঞ্চনা, গঞ্জনার কোন মিল ছিল না বটে, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি উপলব্ধি করেছেন তার নামের ভবিষ্যতবাণীর সার্থকতা। যোসেফিন বাকিতা আফ্রিকার বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকায় কাজ করেছেন এবং নির্মম কষ্ট সহ্য করেছেন। একসময় এক ইতালীয়ান  রাষ্ট্র-দূত তাকে ইতালীতে নিয়ে গিয়ে তার পরিবারকে সেখানে স্থানান্তরিত করেন এবং তার পিতামাতার কাছে ফিরিয়ে দেন। এভাবে সেখানে তিনি লাভ করেন নব জীবন আর হয়ে উঠেন তার সমগ্র পরিবারের মুক্তিদাতা এবং পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠে। 

‘স্বাধীন নারী’ সিস্টার যোসেফিন বাকিতা: ইতালীর ভেনিস শহরে কেনোসিয়ান সিস্টারদের সহযোগিতায় বাকিতা কোর্ট থেকে মুক্তি লাভের সকল কার্যক্রম শেষ করে স্বাধীনভাবে ইতালীতে বাকী জীবন কাটান। ১৮৯০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি বাপ্তিস্ম ও হস্তার্পণ সাক্রামেন্ত গ্রহণ করেন। অতঃপর ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে তিনি কেনোসিয়ান সিস্টার হন এবং 'সিস্টার যোসেফিন বাকিতা' নামে পরিচিত হন। তিনি ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারী এ পৃথিবী থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন।

পাচারকৃত ভাইবোনদের প্রতিপালিকা সাধ্বী যোসেফিন বাকিতা: মানব প্রেমিক সাধু দ্বিতীয় পোপ জন পৌল যোসেফিন বাকিতাকে সাধ্বী শ্রেণীভূক্ত করেন এবং ৮ ফেব্রুয়ারী তার পর্বদিন বলে ঘোষণা করেন। ২০১৫ খ্রীষ্টাব্দে মাতামণ্ডলী তার পর্বদিনটি প্রথমবারের মত পাচারকৃত ভাই বোনদের জন্য আর্ন্তজাতিক ভাবে প্রাথর্না-অনুধ্যানের জন্য উৎসর্গ ও উদযাপন করেছেন। ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দে পোপ ফ্রান্সিস মানব পাচার নামক গর্হিত ও ঘৃন্যতম কাজটি সমাজ থেকে নির্মূল করে অধিকার বঞ্চিত, নিপীড়িত, বিড়ম্বিত ও বলিকৃত ভাইবোনদের মুক্তি ও এদের পাশে দাঁড়াবার জন্য বিশ্বের নেতানেত্রীদের দৃষ্টি আর্কষণ করেন ও একটি যথাযথ ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। সাধ্বী যোসেফিন বাকিতার কাছে পাচারে স্বীকার হওয়া ভাইবোনদের জন্য পোপ ফ্রান্সিস নিজে বিশেষ প্রার্থনা করেন ও খ্রীষ্ট মন্ডলীর সবাইকে প্রার্থনা করতে অনুরোধ করেন। এই সাধ্বী নিজ জীবনে মানব পাচার নামক নির্মম-যন্ত্রনাদায়ক জীবনাবস্থার শিকার হয়েছেন ও এর বেদনা নিজ জীবনে উপলব্ধি করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্বহৃদয়বান ব্যক্তিদের আধ্যাত্মিক, মানসিক, আবেগিক ও নৈতিক সমর্থন, ভালবাসা, কাউন্সিলিং ও গ্রহণীয়তা তাকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করেছে; তার অভিজ্ঞতা সহভাগিতার মাধ্যমে অন্যদের দৃষ্টি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তাকে "পাচারকৃত ভাইবোনদের প্রতিপালিকা" বলে অভিহিত করা হয়। 

মানব পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রার্থনা ও সচেতনতা দিবস: সভ্যতা বিবর্জিত জঘন্য অপকর্ম মানব পাচার। শোষণ করার উদ্দেশ্যে ভয় দেখিয়ে বা বল প্রয়োগ করে বা অন্য কোন জোড়পূর্বক উপায়ে অপহরণ, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্বল অবস্থা কাজে লাগিয়ে অর্থ আগান-প্রদান করা একটি অপরাধ। আবার যেকোন প্রকার লোভ দেখিয়ে মানুষ সংগ্রহ, পরিবহন, হস্তান্তর, লুকিয়ে রাখা নিঃসন্দেহে একটি সামাজিক ব্যধি। ঈশ্বর সম-মর্যাদা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং সমগ্র সৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব দিয়েছেন সেই মানুষই আজ আরেকজন মানুষকে পণ্য হিসেবে ক্রয়-বিক্রি করছে এবং যেমন তেমন ভাবে ব্যবহার-অপব্যবহার করছে। ঈশ্বর নিজে সৃষ্টি কর্তা হয়ে মানুষের স্বাধীনতাকে সম্মান করেন কিন্তু মানুষ অন্য একজন মানুষের স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। তারপর জবরদস্তি করে পরিবার থেকে, সমাজ থেকে দূরে নিয়ে এমনকি দেশান্তর করে, কঠিন শ্রম দিয়ে, পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করছে। তাদের উপর যৌন নির্যাতন বা শ্লীলতাহানি, মারধর, আঘাত বা অন্য কোনো রকম শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করে তার ক্ষতি সাধন করছে। কাথলিক মণ্ডলীতে পোপ ফ্রান্সিস এ গর্হিত কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাচারকারী ভাইবোনের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুক্তির জন্য প্রত্যেক মানুষকে জেগে উঠতে উৎসাহিত করছেন। তাই তিনি ৮ ফেব্রুয়ারী সাধ্বী যোসেফিন বাকিতার পর্ব দিনে বিশ্ববাসীদের মানব পাচার বিরুদ্ধ দিবস হিসাবে উদ্যাপন করতে আহ্বান জানান। 

তালিথা কুম নেটওয়ার্ক: ২০০৯ খ্রীষ্টাব্দে পোপ ফ্রান্সিস মহোদয়ের অনুরোধে বিশ্বব্যাপী সিস্টার সন্ন্যাস সংঘের মেজর সুপিরিয়রদের সম্মেলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ভাটিকান কেন্দ্রিক “তালিথা কুম আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক” (Talitha Kum International Network)। এ নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ত হয়ে সিস্টারগণ বিশ্বের বুক থেকে মানব পাচার, জোড়পূর্বক অভিবাসন, অনৈতিক ও অন্যায্য মালিক-শ্রমিক সম্পর্কযুক্ত অমানবিক কর্ম পৃথিবী থেকে নির্মূল করার জন্য সেবাকাজ করে যাচ্ছেন।  পবিত্র বাইবেলের আরাময়িক শব্দ "তালিথা কুম" (বাংলায় 'খুকু আমি তোমাকে বলছি, তুমি উঠ') গ্রহণ করা হয়েছে (মথি ৫:৪১)। International Union of Superior General (UISG) সম্মিলিত ভাবে মানব পাচার নিরোধের প্রত্যাশায় ২০০৯ খ্রীষ্টাব্দে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে  সেবাকাজ আরম্ভ করেন। ২০০৭ খ্রীষ্টাব্দে যখন কাথলিক সন্ন্যাসব্রতিনীগণ অনুভব করলেন  নারী পাচারের সংখ্যা অবিশ্বাস্য রকমে বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন থেকে সেবাকাজের অনুপ্রেরণা আরম্ভ হয় । ২০১৩ খ্রীষ্টাব্দে মোট ৭৫টি দেশের বেশ কয়েকজন নারী সন্ন্যাসব্রতী সংঘ-প্রধানগণ সম্মেলিতভাবে সিস্টার ইষ্ট্রেল্লা কাস্টালনে এর নেতৃত্বে প্রায় ৬০০ সিস্টার একত্রে গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে শুরু করেন এবং ২০১৫ খ্রীষ্টাব্দে সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮০টি দেশের ১১০০ জন সেবাকর্মী সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এশিয়া মহাদেশের ৮টি দেশ এ কার্যক্রম খুবই আন্তরিকতা সাথে কাজ করছেন্। বাংলাদেশে ন্যায় ও শান্তি কমিশন-সিবিসিবি ও বিসিআর এর যৌথ সমর্থনে এবার বাংলাদেশ মণ্ডলীও  প্রত্যক্ষভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

তালিথা কুমের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য: (১) জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রতধারী/ধারিনী, সামাজিক সংঘটন, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতা নেত্রীদের মধ্যে মানব পাচার বিরুদ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরী করা; (২) চলমান কার্যক্রম ও পদক্ষেপগুলো কে আরো শক্তিশালী করা, সন্ন্যাসব্রতী সংঘগুলির মানব সম্পদের অনুকূলকরণ ও তাদের সম্ভাবনাগুলির সুষ্ঠ প্রয়োগ, প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, সচেতনতা প্রদান, ভূক্তভোগীদের পূর্ণবাসন ও সংরক্ষণ, এবং পাচার বিরুদ্ধ অফিসিয়াল রির্পোট প্রদান; (৩) চলমান ঘটনা বিষয়ে সদস্যাদের জন্য সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম প্রনয়ন ও উন্নয়ন এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাস্তবায়ন; (৪) সদস্যাদের প্রাবক্তিক ভূমিকা বিষয়ে সোচ্চার করে তোলা, শোষনকারী-দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনী সহায়তা দাবী পূরণে সহায়তা এবং নারীদের ক্ষমতায়নে আইনী সহায়তা প্রদান ও পাশে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশে মানব পাচারের ভয়াবহ রূপ: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রেস রিপোর্ট অনযায়ী- মানব পাচারে জড়িতচক্রসমূহ লোভনীয় চাকরি ও সুযোগ-সুবিধার নামে ‘মিথ্যাস্বপ্ন’ দেখিয়ে বাংরাদেশের লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ ও শিশুদের এ পথে নিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক পাচার, যৌন-দাসত্ব, সংখ্যালঘু ও দুর্বল মানুষদের বেআইনী ভাবে ব্যবহার ও নির্যাতন, মানবাধিকার খর্ব, প্রতারণা ইত্যাদির মাধ্যমে এক কুচক্রীমহল কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়েই চলছে এদের দমনের উদ্যোগ না নিলে দেশ ও সমাজ এক কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হবে। র‌্যাবের রিপোর্ট অনুসারে শুধু মাত্র ডান্স ক্লাবের নামে গত দেড় বছরে সহস্রাধিক  নারী পাচার হয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে- বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছরে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে; এদের একটি বড় অংশ পাচার হয়ে যায়। এসবের মূলে দারিদ্রতা, মিথ্যাস্বপ্ন, কর্ম সুযোগের অভাব, স্বল্প শিক্ষা, পরিবারগুলির ভাঙ্গন প্রক্রিয়া, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা, অভিবাসন নীতিমালা ইত্যাদি বিষয়কে দায়ী করা যায়। তাই বাংলাদেশ মণ্ডলী মানব পাচার মুক্ত অর্থনীতি গঠনে পোপ মহোদয়ের সাথে "তালিথা কুম নেটওয়ার্ক" এর মূলনীতি অনুসরণ করে সরকার ও মানব পাচারে শিকার ভাইবোনদের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের সেবা করতে জোড়ালো ভূমিকা রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে। 


(তথ্যসূত্র: তালিতা কুম ডেস্ক ইনফরমেশন ও ইন্টারনেট) 




আধ্যাত্মিক একাত্মতা ও রূপান্তরমূলক পরিবর্তন

১. কারাগারে বন্দিদের সাথে সাক্ষাতের সময় একজন বন্দি পবিত্র সাক্রামেন্ত গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে তার বন্দিজীবনে নয়টি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু মামলার বিচারকাজ এখনও চলমান আছে। দীর্ঘসময় সে পবিত্র সাক্রামেন্ত গ্রহণ করতে পারেনি। দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকালেও কারাকর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনেক আলোচনা করে বড়দিনের সাক্ষাতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেল। তবে সীমিত সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে । এদিকে বড়দিনের কেক কাটবেন কারাকর্তৃপক্ষ, এরপর অন্যান্য বন্দিদের মাঝে বড়দিনের উপহার বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যে খ্রিস্টভক্তসহ কারাবন্দিদের একটি দল দরবার কক্ষে উপস্থিত হয়েছে। প্রথমে খ্রিস্টান বন্দিরা পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণ করল তারপর অল্প সময়ে খ্রিস্টযাগ সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণের সময় সকলের চোখেজল দেখেছি, অন্যদিকে খ্রিস্টকে গ্রহণ করে সকলের চেহারায় আনন্দের প্রকাশ ছিল। বিদায়ের সময় খ্রিস্টভক্ত বন্দির অনুভূতি অনেকটা এমন ছিল- ‍‍‌"মূল্যবান কিছু পেতে পেতে হঠাৎ যখন বঞ্চিত হই তখনই গুরুত্ব বুঝতে পারি।" বিভিন্ন কারাগারে বন্দিদের সাক্ষাৎকালে প্রায় সময় একই উপলব্ধি সহভাগিতা করেছে। কারাবন্দিরা নিয়মিত আধ্যাত্মিক অনুশীলন থেকে বঞ্চিত থাকে। তারা জানে না আবার কখন খ্রিস্টকে গ্রহণ করতে পারবে। তবে আধ্যাত্মিক একত্মতায় তারা খ্রিস্টের সাথে যুক্তই আছে। কভিড-১৯ সংক্রমণ যেন দ্রæত বিস্তারিত না হয় সেজন্য আমরা নিজ বাড়িতে অন্তরীণ ছিলাম। যা আমরা অবজ্ঞা করে চলতে পারছি না। এ সময়টা কিছুটা কারাবন্দির মতোই আছি। এ সময় নিয়মিত খ্রিস্টযাগে যোগদান করে আধ্যাত্মিক অনুশীলন আমরা করতে পারছি না, কিন্তু আমরা খ্রিস্ট ও খ্রিস্টভক্তদের সঙ্গে আধ্যাত্মিকভাবে একাত্মই থাকতে পারি।  

২. খ্রিস্টীয় ইতিহাসের প্রথম পর্যায়ে অনেক সাধুজন আধ্যাত্মিক সাধনায় সন্ন্যাস জীবনযাপন করতেন। তারা স্বেচ্ছায় মরুপ্রান্তরে ছোট ছোট ঝুপড়িতে একা একা ধ্যানমগ্ন থাকতেন। পাশাপাশি ৫/৬জন সন্ন্যাসী অবস্থান করলেও পরস্পরের সাথে অতি প্রয়োজন ছাড়া দেখা-সাক্ষাৎ ছিল না। একজন পথিক যাত্রাপথে পাশের সন্ন্যাসীর ঝুপড়ির সামনে ঝুড়িতে কিছু আঙ্গুর ফল রেখে গেল, এমনটি প্রচলিত ছিল। সন্ন্যাসী তার ঝুপড়ির সামনে সুস্বাদু আঙ্গুরের ঝুলি পেয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তিনি চিন্তা করলেন- রাস্তা থেকে আমার ঝুপড়িই প্রথম। পথিকরা আমার কাছে যখন-তখন আবারও কিছু নিশ্চয়ই রাখবে। আমি বরং পাশের সন্ন্যাসীকে আঙ্গুরগুলো দিয়ে আসি। পাশেরজন তার ঝুপড়ির সামনে লোভনীয় আঙ্গুর দেখে খুব খুশি হলেন। তিনি চিন্তা করলেন- বেশ ভালই হলো পাশের সন্ন্যাসী দেখছি কয়েকদিন যাবৎ অসুস্থ, আঙ্গুরগুলো এসময় তার সুস্থস্তার জন্য উপকারী হবে। এবার অসুস্থজন আঙ্গুরের ঝুড়ি পেয়ে ভাবলেন- আমার পাশে যুবক সবেমাত্র সন্ন্যাস জীবনে যোগ দিয়েছে তার নিশ্চয়ই ভালকিছু খেতে ইচ্ছে করছে। তিনি আঙ্গুরের ঝুড়ি যুবকের ঝুপড়ির সামনে রেখে গেলেন। এদিকে যুবক সন্ন্যাসী চিন্তা করল- আমার সামনে অনেক সময় আছে; আমি বরং পাশের প্রবীন সন্ন্যাসীকে আঙ্গুরগুলো দিয়ে আসি। এবার প্রথম সন্ন্যাসী দেখলেন- ঝুড়ি ভর্তি লোভনীয় আঙ্গুর ফল তার ঝুপড়ির সামনেই আছে। সন্ন্যাসীরা ধ্যান-সাধনার উদ্দেশ্যে সামাজিক দূরত্ব, সঙ্গনিরোধ, বিচ্ছিন্ন থাকা এবং বন্ধাবস্থা স্বেচ্ছায়  গ্রহণ করেছেন। তথাপি তারা আধ্যাত্মিক একাত্মতায় পরস্পরের কাছে আছেন। বিভিন্ন কারণে মানুষ বিচ্ছিন্ন বা দূরত্বে থাকতে পারে। তবে পরস্পরের প্রতি যখন ভালবাসা থাকে, অন্যের উপকার করার মনোভাব থাকে এবং অন্যর জন্য মঙ্গলকাজ করে তখন আধ্যাত্মিক একাত্মতায় থাকতে পারি। 

৩. করোনাভাইরাসটি নির্মুল করার যুদ্ধসময়ে বিশ্বাসের ঐতিহ্যগত ‘আধ্যাত্মিক একাত্মতা’ অনুশীলন নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমানের আহ্বান। তৃতীয় শতাব্দীর প্লেগ মহামারীর সময়টা সাধু সিপ্রিয়ান মানুষের অন্তরে বিশ্বাস ও আশা জোরদারের সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রচুর সাহস এবং বিপুল আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন- 'এটা কতই না আধ্যাত্মিক মহিমা' যা 'ধ্বংস ও মৃত্যুর আক্রমণ' এর সামনে জীবন্ত বিশ্বাস নিয়ে অবিচল থাকা। ভয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হওয়ার পরিবর্তে বিশ্বাসে শক্তিশালী হতে 'সুযোগটি আলিঙ্গন করা' দরকার। আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবে পবিত্র খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ ও খ্রিস্টের উপস্থিতি অভিজ্ঞতা করার বিকল্প কিছুই নাই। কিন্তু মহামারী সময়ে 'আধ্যাত্মিক একাত্মতা' প্রথমে অর্থহীন বিকল্প হিসেবে মনে হতে পারে কিন্তু নিজেরা অভিজ্ঞতা করতে পারব যে এটি সত্যিই ঈশ্বরের একটি অসাধারণ অনুগ্রহ। অনেক শতাব্দী পর্যন্ত সাধু ও ধর্মতত্ত্ব বিদরা নিজেরা অভিজ্ঞতা করেছেন ও বিভিন্নভাবে প্রকাশ করেছেন। আভিলার সাধ্বী তেরেজা অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন- যখন তুমি পবিত্র খ্রিস্টযাগে অংশগ্রহণ করতে পার না, খ্রিস্টকে গ্রহণ করার সুযোগ পাও না, তখন খ্রিস্টের সাথে 'আধ্যাত্মিক একাত্মতা' অভ্যাস করবে। তখন দেখবে খ্রিস্টের ভালবাসায় দিনে দিনে তুমি আপ্লুত হতে থাকবে। একা কারাবন্দি অবস্থায় ক্রুশভক্ত সাধু যোহন একটি কবিতায় লিখেছেন- জীবন্ত জলের ঝর্ণা বিশ্বাসীর অন্তরে সর্বদা সঞ্চারিত হয়, এমনকি বিশ্বাসের অন্ধকার সময়েও। বুলগেরিয়ার একজন বিশপ বহু বছর আগে বলেছেন- তার দেশে কমিউনিস্ট নির্যাতনের সময়কালে অনেক পুরোহিত রাজপথে প্রাণ দিয়েছে অথবা কারাগারে বন্দি ছিল। এমন অবস্থায় পুরোহিত ছিল না। বিশ্বাসী খ্রিস্টভক্তগণ যখন পাপস্বীকার করতে ইচ্ছা করত তখন তাদের পরিচিত পুরোহিতের কবরে গিয়ে ঈশ্বরের কাছে পাপস্বীকার করত। পবিত্র ক্রুশ সংঘের অর্থাৎ আমার সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ফা. বাসিল আন্তনী মরো'ও স্বেচ্ছায়  'একা অন্তরীণ' ধ্যান প্রার্থনা কাটাতেন। তিনি মাঝে মাঝে ফ্রান্সের এক নিভৃত ছোট পল্লীর এই বাড়িতে প্রার্থনারত একা থাকতেন কিছু দিন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই সেখানে আমি গিয়েছি এবং একটি ক্ষুদ্র দলের সাথে প্রার্থনা করেছি।

৪. মরুভুমিতে খ্রিস্ট যিশুর একাকী অভিজ্ঞতা ও তাঁর ধর্মনিষ্ঠার পরীক্ষা (মথি ৪:১-১১) ঘটনা আমার জানি। মরুপ্রান্তরে দীক্ষাগুরু যোহনের বাণী প্রচারের গল্পটি আমাদের স্মরণ আছে (৩:১-১০)।  ইহুদী ধর্মনেতাদের ভয়ে শিষ্যরা ‘দরজা বন্ধ করে’ একত্রে ছিল এবং তারা যিশুর দেখা পেয়েছে  (যোহন ২০:১০)। তারা অন্যান্য লোকদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। বাইবেল আমরা পড়ি আরও একবার শিষ্যরা কীভাবে 'একত্রে অন্তরীণ' অবস্থায় সেই 'উপরের ঘরে' ছিলেন । লক্ষণীয় বিষয় এবার তারা ভয়ে তাদের হৃদয় হিমশীতল হতে দেয়নি বরং পবিত্র আত্মার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠেছিল (শিষ্যচরিত ১:১২-১৪, ২: ১-১২)। পবিত্র বাইবেলে অন্ধ বার্তিমেয় (মার্ক ১১০:৪৬), অসুস্থ মহিলা, অনিহুদী স্ত্রীলোক (মার্ক ৭:২৪-৩০) এমন অনেকে সামাজিক কারণে যিশুর কাছে যেতে পারেনি। কিন্তু তারা যিশুর নিরাময় কৃপা লাভ করেছেন কারণ তাঁর সাক্ষাৎ লাভের তাদের অন্তরে গভীর ইচ্ছা ছিল। যিশুর সাথে তারা আধ্যাত্মিক একাত্মতায় ছিল। অন্যদিকে করগ্রাহক ও পাপীরা (লুক ১৫:১-১০) গভীর আগ্রহ নিয়ে যিশুকে গ্রহণ করতে অপেক্ষা করেছে, যখন সুযোগ পেয়েছে তখন যিশুর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়নি। হারানো ছেলে 'বিচ্ছিন্ন  জীবনযাপন' করে বাবার ভালবাসা আবিস্কার করেছে এবং অন্তরে আধ্যাত্মিক একাত্মতা জাগ্রত হয়েছে; অন্যদিকে বড়ছেলে বাবার সাথে একই বাড়িতে থেকেও অন্তরে বাবার ভালবাসায় একাত্ম হতে পারেনি (লুক:১৫:১১-৩২)। 

৫. করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য মানুষের জীবন সামাজিক দূরত্ব, সঙ্গনিরোধ, বিচ্ছিন্ন থাকা এবং বন্ধাবস্থা এই চারটি পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আমরা সকলে তা অভিজ্ঞতা করেছি। এমন অবস্থায় খুব সহজেই আমাদের ভিতরে ভয়, ক্রোধ, তিক্ততা, অভিযোগ এবং হতাশার মনোভাব প্রবলভাবে প্রতিপালন করতে পারে। শিষ্যদের অন্তরীণ থাকার কী বিশেষত্ব ছিল যা তাদের অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি রূপান্তরিত করেছিল। আমরা পড়ের্ছি 'কয়েকজন স্ত্রীলোক এবং যিশুর মা মারীয়ার সাথে শিষ্যরা একত্রে প্রার্থনারত ছিলেন' (শিষ্যচরিত ১:১২-১৪)। প্রার্থনা আমাদের জন্য বিরাট আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য যা বিভিন্ন সময় দেখি ও অভিজ্ঞতা করছি। একটি অন্ধকার ও বিরক্তকর অভিজ্ঞতা যা আমাদের কাছে অভিশাপের মত হতে পার। ঐ মুহূর্তে প্রার্থনা আমাদের জীবনে গভীর অভ্যন্তরীণ রূপান্তর আনে, শান্তির সূচনা করে। এমন কী কিছু সময় পরে অপ্রত্যাশিত আনন্দ ও আর্শীবাদের অভিজ্ঞতা করতে পারি। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও মহা ব্যস্ততা থেকে বাধ্য হয়ে দূরে আছি যেখানে আমরা 'বিশ্বটা অবরুদ্ধ' বা 'পৃথিবীটা মনেস্টারি' ভাবছি। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে অবরুদ্ধ সময় বাধ্য হয়ে মানবিক কর্মব্যস্ততা থেকে বিরতি নিয়ে ধ্যানময় বিশ্রামে সময় কাটাতে সুযোগ পেয়েছি। এমনও হতে পারে অবশেষে সৃষ্টিকর্তা বিশ্বের এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে হুমকি স্বরূপ ঘাতক ভাইরাসটি দুনিয়া থেকে নির্মুল করবেন। আমাদের বিশ্ব, আমাদের সমাজ, আমাদের মণ্ডলী হয়ে উঠবে পুনর্নবীকরণ, ব্যাপক রূপান্তরিত যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।  

৬. এই অবরুদ্ধ সময় আমাদের ভাবতে সুযোগ দিয়েছে- শুধু পেশাগত কাজে ডুবে কাজপাগল (ওয়ার্কএহলিক) হয়ে থাকতে আমাদের সৃষ্টি করা হয়নি অথচ আমরা কেউ কেউ তা-ই করে থাকতে পছন্দ করি। পোপ ফ্রান্সিস আমাদেরকে এ বছরের প্রথম দিন 'যত্নের সংস্কৃতি' গড়ে তুলতে পরামর্শ দিয়েছেন, ধরিত্রির সুরক্ষা করা ঈশ্বরের নিকট থেকে প্রাপ্ত দায়িত্ব। পিতা ঈশ্বর বিশ্বসৃষ্টি কাজে বিশ্রাম নিয়েছেন, বিস্ময়বোধ প্রকাশ করেছে 'সত্যিই তা খুব ভালই হয়েছে।'  ধর্মীয় শিক্ষায় প্রতি সপ্তাহে একদিন বিশ্রাম দিবস উদ্যাপনের নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। তাতে আমাদের ক্ষতবিক্ষত অন্তরের পরিবেশ, মানব পরিবেশ ও প্রকৃতি পরিবেশ নিরাময় হতে পারে। এমন বিশ্রাম উদ্যাপন অনূৎপাদনশীল ও নিষ্প্রয়োজন নিষ্ক্রিয়তা বা কর্মহীনতার চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন, স্বতন্ত্র মনে করতে হবে। যা অন্য রকম ভাবে আমাদের অন্তরে কাজ করে, যা হচ্ছে আমদের সত্তারই নবায়ন (লা.সি. ২৩৭)। 

৭. ঘরবন্দি অবস্থায় আমরাও প্রেরিতশিষ্যদের ও মা মারীয়ার মত নিয়মিত প্রার্থনা ও পবিত্র বাইবেল পাঠ করতে পারি। এমন আধ্যাত্মিক একাত্মতা অনুশীলন করে নিজে রূপান্তরিত হতে পারি ও  অন্যকে রূপান্তরিত হতে অনুপ্রাণিত করতে পারি। আমাদের অভিজ্ঞতা আমাদের বিশ্বাসের সাক্ষ্যদান হবে তখনই যখন- প্রার্থনা, ধ্যান, উপাসনা, ধর্মশিক্ষা ও সংস্কারীয় জীবনের প্রতি আমাদের অনুরাগ ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। খ্রিস্টীয় বিবাহ, যাজকীয় ও সন্ন্যাসব্রতী জীবনের আহবান সম্পর্কে নবচেতনা ও নবজাগরণ ঘটবে। স্থানীয়, ধর্মপ্রদেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মণ্ডলীর কর্মসূচী ও কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ বাড়বে। সামাজিক জীবনের সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ বাড়বে। দয়াকর্ম, সাংস্কৃতিক, সৃষ্টির যত্ন ও আধ্যত্মিক কর্মকান্ডের জন্য নতুন উদ্যোগ ও চেতনা সৃষ্টি হবে। খ্রিস্টবিশ্বাসে যাদের স্খলন ঘটেছে, তারা আবার খ্রিস্টীয় জীবনে ও মণ্ডলীর মিলন-সংযোগে ফিরে আসে। আসুন, আমরা আধ্যাত্মিক একাত্মতার অনুপ্রেরণায় থাকি এবং ঈশ্বরের সাথে, নিজের সাথে, অপরের সাথে ও বিশ্বসৃষ্টির সাথে আমাদের সম্পর্ক নিরামায় ও রূপান্তর হতে দিই।




বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০

খুঁজতে খুঁজতে ওদের পথেই পাওয়া গেল


(সংগৃহীত) ঢাকায় এমন হাজারো শিশুর ঠাঁই রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে। আর্থ-সামাজিক নানা টানাপড়েনে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এই শিশুদেরপরিচয় ‘পথশিশু’। 

২০০৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের এক জরিপ বলছে, সারা বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১৩ লাখ।

বাংলাদেশে পথ শিশুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতদ্বৈততা রয়েছে। ২০০৪ সালে বিআইডিএসের জরিপের বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পথশিশু বিষয়ক সেলের প্রধান আবুল হোসেন বলেন, “এই স্টাডি অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে এবং নতুন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই পথশিশুদের প্রকৃত সংখ্যা বর্তমানে কত, এটা না জানলে তাদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা ‍দুরূহ হবে।”

২০০৫ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক গবেষণায় বলা হয়, দেশের শতকরা ৪১ ভাগ পথশিশুর ঘুমানোর বিছানা নেই; ৪০ শতাংশ প্রতিদিন গোসল করতে পারে না; ৩৫ শতাংশ খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে, ৮৪ শতাংশ শিশুর শীতবস্ত্র নেই; ৫৪ শতাংশ শিশুর অসুস্থতায় দেখার কেউ নেই; ৭৫ শতাংশ পথশিশু অসুস্থতায় ডাক্তার দেখাতে পারে না।

শিশুদের মাদকাসক্তির চিত্রও ভয়াবহ। শিশু অধিকার ফোরামের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৮৫ ভাগ পথশিশু মাদকাসক্ত।

তাদের ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ শিশু ধূমপান, ২৮ শতাংশ নানা ট্যাবলেট, ৮ শতাংশ শিশু ইনজেকশনে আসক্ত।

৮০ শতাংশ শিশু কাজ করে জীবন টিকিয়ে রাখতে; ২০ শতাংশ শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়, ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ পথশিশু সার্বিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। 

বাংলাদেশ পথশিশুদের নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক-স্ক্যান মহামারীর মধ্যে গত মার্চে রাজধানীর মহাখালী, এয়ারপোর্ট, কমলাপুর, গাবতলী, সদরঘাটসহ আটটি এলাকায় পথশিশুদের জীবনমান নিয়ে একটি জরিপ চালায়। গত ২৬-৩১ মার্চ পর্যন্ত এ জরিপ চলে।

জরিপে পাওয়া তথ্যের প্রসঙ্গে স্ক্যানের সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকির বলেন, “জরিপে আমরা পথশিশুদের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে ভয়াল এক অবস্থা দেখতে পাই। ওরা কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস কী সেটা জানেই না।

“সবাই একসাথেই থাকে, স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। ওরা সারাদিন ঘুরে বেড়ায় এখানে সেখানে। ওরা তো করোনাভাইরাসের ক্যারিয়ার হতে পারে।”

স্ক্যানের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মহামারীতে কর্মসংস্থান হারনো পথশিশুরা অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।বাংলাদেশ জুড়ে পথশিশুদের জীবনমানের যখন এ হাল, তখন নড়েচড়ে বসেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্যোগে একটি অনলাইন সভায় আসে নানা সুপারিশ।

সে সভায় এক শিশু অধিকারকর্মী জানান, ঢাকা শহরের পথশিশুদের বর্তমান বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা পরিচালনায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনলাইন সভার সুপারিশগুলো হল-

>> করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় শিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

>> গত ২৬ মার্চ লকডাউন শুরুর পর অদ্যাবধি যেসব সেন্টার বা আবাসনে অবস্থানকারী শিশুদের অতিরিক্ত নতুন শিশুর না নেওয়ায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

>> বেসরকারি উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে পথশিশুদের সামরিক অবস্থান ও খাদ্য সরবরাহের যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা ক্রমান্বয়ে নিয়মিত প্রোগ্রামের রূপান্তরের প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে।

>> সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পথশিশুদের সহায়তায় যেসব উত্তম চর্চা তাদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা অন্যদের সাথে বিনিময় করতে হবে।

>> ঢাকা শহরের পথশিশুদের বর্তমান বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করতে হবে।

>> কোভিড-১৯, নদী ভাঙ্গন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ভালনারেবিলিটি শনাক্তকরণের লক্ষ্যে একটি ব্যাপক জরিপ সমীক্ষা পরিচালনা করতে হবে।

>> সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এবং চলমান কর্মসূচির আলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গঠন করা জরুরি।

>> পথশিশু, সুবিধাবঞ্চিত এবং অসহায় শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

>> পথশিশু সুবিধাবঞ্চিত এবং অসহায় শিশু যাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ, শারীরিক, যৌন, মাদক, হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে সকলে সতর্ক দৃষ্টি রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

>> পথে অবস্থানকারী শিশুরা যাতে তাদের পিতামাতা অভিভাবক বা পরিবারের ফিরে যেতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, “আমরা আগে জরিপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। জরিপ করলে জানা যাবে শিশুরা কেন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। একটা কথা মনে রাখতে হবে, শিশুরা যখন পরিবার থেকে চলে আসে তখন তারা কিন্তু ভালনারেবল। তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, কেউ শারীরিক বা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়।

“আমরা ইতোমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি চূড়ান্ত হলে আমরা পথশিশুদের নিয়ে জোরসোরে কাজ শুরু করব।”


তথ্যসূত্র: জয়ন্ত সাহা (নিজস্ব প্রতিবেদক), ৩ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম




করোনাভাইরাস মহামারী সময়েও দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

 দেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ ও গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর সাত মাসের ‘সাম্প্রদায়িক চালচিত্র’ তুলে ধরা হয়।

এতে বলা হয়, এই সময়ে দেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ১৭ জন হত্যা, ১০ জন হত্যাচেষ্টার, ১১ জনকে হত্যার হুমকির, ৩০ জন ধর্ষণ-গণধর্ষণ ও নির্যাতন, ছয় জন ধর্ষণচেষ্টা, তিনজন শ্লীলতাহানির কারণে আত্মহত্যা, ২৩ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন।

পাশাপাশি ২৭টি প্রতিমা ভাঙচুর, ২৩টি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, ২৬টি বসতবাড়ি, জমি ও শ্মশান উচ্ছেদের ঘটনা, পাঁচটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা, ৭৩টি উচ্ছেদ চেষ্টা, ৩৪ জনকে দেশত্যাগের হুমকি, ৬০টি পরিবারকে গ্রামছাড়া করা, চারজনকে ধর্মান্তরিত হতে হুমকি, সাতজনকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, ৮৮টি বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট, ২৪৭ জনকে দৈহিক হামলা, ২০টি পরিবারকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রাণ বিতরণকালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানানো এবং মহানবীকে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে।

রাণা দাশগুপ্ত বলেন, এসব সন্ত্রাসের কোনো-কোনোটির সাথে সন্ত্রাসীরা সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীর পরিচয় দিয়েছে। এই চালচিত্র সম্পূর্ণ চিত্র নয়, সমগ্র ঘটনার আংশিক মাত্র। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাংলাদেশে নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভীত করে দেশত্যাগে বাধ্য করা যাতে দেশটি সংখ্যালঘু শূন্য হয়ে পড়ে।

ধর্ম অবমাননার জিগির তুলে দিনাজপুর, পার্বতীপুর ও কুমিল্লার মুরাদনগরে সংখ্যালঘু এলাকায় আক্রমণ-অগ্নিসংযোগ নারী নির্যাতন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের অপপ্রয়াসের প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে, অধ্যাপক কুশল চক্রবর্তীকে হত্যার হুমকি, ধর্মপ্রাণ শহিদুন্নবী জুয়েলকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এবং সংখ্যালঘুর সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন এই আট দাবি পরিষদের।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতা চন্দন বিশ্বাস, বরুণ কান্তি চৌধুরী, প্রদীপ চৌধুরী, দোলন মজুমদার, সুভাষ দাশ, অসীম দেব, হরিপদ চক্রবর্তী, অশোক চক্রবর্তী, স্বরুপ পাল ও রুবেল পাল উপস্থিত ছিলেন।



তথ্যসূত্র: চট্টগ্রাম ব্যুরো, ৩ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম




বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

Writings of Pope Francis— Collected Short Summary

 

Writings of Pope Francis—the 266th pontiff of the Roman Catholic Church

(Collected from Aleteia, October 04 2020)

Pope Francis—the 266th pontiff of the Roman Catholic Church—was elected on March 13, 2013. Since then, he has been the most influential religious leader in the world, drawing praise and admiration from people of all faiths. All six major writings of Pope Francis—his encyclicals, bulls, and apostolic exhortations—are gathered here. The impact of his writings has been felt not just in the Catholic Church for which they were intended but throughout the world.

Lumen Fidei, June 29, 2013: The Light of Faith is an encyclical on the centrality of faith, the relationship between reason and faith, the Church’s role in the transmission of faith, and how faith results in redeeming the world.

Evangelii Gaudium, Nov. 24, 2013: The apostolic exhortation The Joy of the Gospel has been called Pope Francis’s manifesto. It challenges all Christians to approach evangelization anew and overcome complacency in order to fulfill Christ’s great mission.

Misericordiae Vultus, April 11, 2015: In The Face of Mercy, the papal bull for the Extraordinary Jubilee of Mercy in 2015, the pope urges Catholics, “We need constantly to contemplate the mystery of mercy.”

Laudato Si, May 24, 2015: Praise Be to You: On Care for Our Common Home is the landmark encyclical in which Pope Francis issued a call to the entire Church—and the world—on climate change, human responsibility, the role of faith in how we live among God’s entire creation, and the future of the planet.

Amoris laetitia, March 19, 2016: Love in the Family is an exhortation published after the Synods on the Family. In it, Pope Francis ranges in his quotations and examples from St. Thomas Aquinas and Martin Luther King Jr. to the film Babette’s Feast.

Fratelli Tutti, October 4 2020: “All brothers,” the third encyclical from Pope Francis is inspired by St. Francis. October 4, the feast of St. Francis of Assisi, the Holy Father has released a new encyclical letter, addressed to all men and women of good will. Here are 10 things you need to know about that letter. 

This third encyclical from Pope Francis is inspired by St. Francis. Today, October 4, the feast of St. Francis of Assisi, the Holy Father has released a new encyclical letter, addressed to all men and women of good will. Here are 10 things you need to know about that letter.

1 – The name of the letter, Fratelli Tutti, means “All brothers,” and is a direct quotation from the Admonitions of St. Francis. The admonition reads, “Let us all, brothers, consider the Good Shepherd who to save His sheep bore the suffering of the Cross” (Admonitions, 6.1).

2 – The letter is about fraternity and social friendship. Pope Francis writes, “It is my desire that, in this our time, by acknowledging the dignity of each human person, we can contribute to the rebirth of a universal aspiration to fraternity. Fraternity between all men and women” (Fratelli Tutti, 9).

3 – St. Francis, the inspiration for the Pope’s encyclical letter on the environment, Laudato Si’, also inspired Fratelli Tutti. The Holy Father attests, “Francis was able to welcome true peace into his heart and free himself of the desire to wield power over others. He became one of the poor and sought to live in harmony with all. Francis has inspired these pages” (Fratelli Tutti, 4).

4 – The Holy Father states that the possibility for human fraternity is grounded in the inalienable dignity of every human being. He writes, “Social friendship and universal fraternity necessarily call for an acknowledgement of the worth of every human person, always and everywhere” (Fratelli Tutti, 108). If the dignity of persons with disabilities, those experiencing poverty or those who lack access to education is threatened, “fraternity will remain just another vague ideal” (Fratelli Tutti, 109).

5 – The Holy Father, without intending an exhaustive analysis, proposes a list of “dark clouds” that inhibit the cultivation of human fraternity. Among these are: the rise of “throw-away” culture, threats to the dignity of migrants, the COVID-19 pandemic, aggression fueled by digital communication, and a loss of the love of wisdom. (Fratelli Tutti, 9-55).

6 – The theological heart of the letter is a meditation on the parable of the Good Samaritan. Pope Francis teaches, “The parable eloquently presents the basic decision we need to make in order to rebuild our wounded world. In the face of so much pain and suffering, our only course is to imitate the Good Samaritan” (Fratelli Tutti, 66). The Holy Father urges us to not be among the robbers nor to be among those who abandon the weak, but to “be Good Samaritans who bear the pain of other people’s troubles rather than fomenting greater hatred and resentment” (Fratelli Tutti, 77).

7 – Human fraternity will be nourished by a re-discovery of love. Love, which unites by drawing a person out of his/her own self, allows us to experience the depths and fullness of life. Pope Francis writes, “Love, then, is more than just a series of benevolent actions. Those actions have their source in a union increasingly directed towards others, considering them of value, worthy, pleasing and beautiful apart from their physical or moral appearances” (Fratelli Tutti, 94).

8 – The Holy Father appeals for a new kind of politics, one aimed truly at seeking the common good of all. He writes, “Lack of concern for the vulnerable can hide behind a populism that exploits them demagogically for its own purposes, or a liberalism that serves the economic interests of the powerful” (Fratelli Tutti, 155). This new politics must have at its center charity, animated by the willingness to make sacrifices and the openness required to be truly unitive.

9 – Pope Francis calls for a total eradication of the death penalty. He writes, “Today we state clearly that ‘the death penalty is inadmissible’ and the Church is firmly committed to calling for its abolition worldwide” (Fratelli Tutti, 263). Arguing that not even murderers surrender their fundamental dignity, Pope Francis sees the death penalty as an offense against the inalienable dignity of the person.

10 – The Holy Father argues that religious witness to God contributes to the common good of society. Pope Francis writes, “The effort to seek God with a sincere heart, provided it is never sullied by ideological or self-serving aims, helps us recognize one another as travelling companions, truly brothers and sisters” (Fratelli Tutti, 274).

The encyclical letter closes by commending, along with St. Francis, the example of Blessed Charles Foucald. Pope Francis notes, “Only by identifying with the least did he come at last to be the brother of all.” Such should be the goal of every Christian.


10 Things to know about the pope’s newest encyclical letter (Fr. Patrick Briscoe, OP | Oct 04, 2020, Aleteia)




রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

10 saints whose care for creation still inspires us today


The Catholic Church has made caring for creation a key tenet of the faith for centuries, long before Pope Francis wrote Laudato Si’ and placed that millennia of Catholic teaching in the context of today’s ecological crisis. As thousands of Christians around the world celebrate the Season of Creation this month, may we all find further inspiration from these 10 saints whose passion and love for God’s creation can still motivate us to act today.


St. Philip Neri, 1515-1595

St. Philip Neri is best known for his founding of the Oratory Movement, but St. Philip also is remembered and celebrated for his welcoming of vegetarianism.

Neri embraced the diet because of animal welfare. When he was given birds, he would set them free, and he preferred to let flies escape through a window rather than swat them.

His care extended to land-based animals as well. Neri would let captured mice flee to safety and often expressed sympathy for animals being taken to slaughter.

Feast day: 26 May


St. Augustine, 354-430

Pop quiz: Is the below quote about “things like mice and fleas that are real but inconvenient” from Laudato Si’ or St. Augustine?

‘‘so strong is this preference, that, had we the power, we would abolish [them] from nature altogether, whether in ignorance of the place they hold in nature, or, though we know it, sacrificing them to our own convenience.’”

Such warnings against self-centeredness in regards to nature show yet again how the Catholic Church has long been about caring for all of God’s creation.

Arthur O. Ledoux, a philosophy professor and lecturer at the Augustinian Study and Legacy at Merrimack College in the U.S., wrote about St. Augustine’s deep love for creation in “A Green Augustine: On Learning to Love Nature Well.”

“For Augustine the ideal would be to see nature as God sees it, feeling deeply both its beauty and its impermanence, loving nature without clinging to it,” Ledoux wrote.

“With such clear seeing would come love and the motivation for sustained and skillful action.”

Feast day: 28 August


St. Hildegard of Bingen, 1098-1179

Kings and queens and bishops and popes sought St. Hildegard’s counsel. But the Benedectine nun was perhaps most knowledgeable about admiring and appreciating every creature.

Among her most inspirational words:

“The Earth sustains humanity. It must not be injured; it must not be destroyed.”

“Every creature is a glittering, glistening mirror of divinity.”

“Creation is the song of God.”

“Humankind is called to co-create, so that we might cultivate the earthly, and thereby create the heavenly.”

“In Hildegard’s worldview, a beam of sunlight, the fragrance of a flower, or the graceful movement of a swan were all participants in the holy chorus of creation,” wrote Cynthia Overweg in a story titled, “Hildegard of Bingen: The Nun Who Loved the Earth.”

Feast day: 17 September

 

St. Therese of Lisieux, 1873-1897

Although she was only 24 when she died, St. Therese left behind a stacks of writings, instructions almost, on how to admire and be in awe of creation.

The below quotes are from the Society of the Little Flower, an organization dedicated to spreading devotion to St. Therese.

“Far away on the horizon we could see the great mountains . . . The sight of these beauties made a deep impression on my thoughts; I felt as if I were already beginning to understand the greatness of God and the wonders of heaven.

“The sun’s light that plays on the cedar trees, plays on each tiny flower as if it were the only one in existence; and in the same way our Lord takes a special interest in each soul.”

Feast day: 1 October


St. Benedict, 480-547

St. Benedict, the father of Western monasticism, has seen his love for creation spread throughout the world since his death more than 1,400 years ago.

One of the vows for Benedictines is “stabilitas,” the idea that one should be grounded in a community and place and establish a relationship of care and connection to that place.

Father Abbot John Klassen, OSB, writes, “As Benedictine monastics we want to be people who ‘stay in a place long enough that the spirits can influence us.’ By coming to know a place deeply . . . monastic communities will make decisions with an understanding of their consequences.”

Feast day: 11 July

 

St. Francis of Assisi, 1181-1226

Where to begin with St. Francis of Assisi, the patron saint of ecology? Perhaps Pope Francis describes his Spirit-filled time on Earth best:

“He was a mystic and a pilgrim who lived in simplicity and in wonderful harmony with God, with others, with nature and with himself. He shows us just how inseparable the bond is between concern for nature, justice for the poor, commitment to society, and interior peace.” (LS 10)

Feast day: 4 October, the final day of the Season of Creation

St. Francis of Assisi, photo by Enrique López-Tamayo Biosca


St. Kateri Tekakwitha, 1656-1679

St. Kateri Tekakwitha was 20 before she was baptized, yet her life lights the way for all those who seek to live in greater communion with creation.

In July 1677, Tekakwitha was being treated as an outcast in her community and receiving threats because of her faith. So she traveled for two months and more than 200 miles of woods and rivers to the Catholic mission of St. Francis of Xavier at Sault Saint-Louis in Canada.

There, Tekakwitha lived with other Indigenous Catholics and continued devoting her life to God. Her legacy is honored today by many organizations, including the Saint Kateri Conservation Center, which helps organizations and families convert their plots of land or yards into healthy habitats that honor the life of the patron saint of Native American and First Nations People, ecology, and the environment.

Read more: St. Kateri Center celebrates Laudato Si’

Feast day: 14 July

 Saint Kateri Habitats honor creation. Photo by Deacon Paul Kipfstuhl.


St. Kevin of Glendalough, 498 (reputedly) -618

“It is a return to that simplicity which allows us to stop and appreciate the small things, to be grateful for the opportunities which life affords us. . .” (LS 222)

St. Kevin was the model of simplicity. He lived in a cave about 30 feet above the water, according to the Glendalough Hermitage Centre. He ate little and slept on stones.

He also became friends with all creatures, much like St. Francis of Assisi would do 700 years later.

Feast day: 3 July


St. John Paul II, 1920-2005

St. John Paul II compelled Catholics to care for creation and to undergo an “ecological conversion” throughout his 27-year papacy. For him, it was personal. He often made time for creation, hiking and skiing in his native Poland and elsewhere.

Speaking in 2001, he said: “If we scan the regions of our planet, we immediately see that humanity has disappointed God’s expectations. Man, especially in our time, has without hesitation devastated wooded plains and valleys, polluted waters, disfigured the earth’s habitat, made the air unbreathable . . .

“We must therefore encourage and support the ‘ecological conversion’ which in recent decades has made humanity more sensitive to the catastrophe to which it has been heading.”

Feast day: 22 October

 

 St. John of the Cross, 1542-1591

So meaningful were the life, actions, and writings of St. John of the Cross that Pope Francis dedicated a section of Laudato Si’ to the Spaniard:

“Standing awestruck before a mountain, he or she cannot separate this experience from God, and perceives that the interior awe being lived has to be entrusted to the Lord: ‘Mountains have heights and they are plentiful, vast, beautiful, graceful, bright and fragrant. These mountains are what my Beloved is to me. Lonely valleys are quiet, pleasant, cool, shady and flowing with fresh water; in the variety of their groves and in the sweet song of the birds, they afford abundant recreation and delight to the senses, and in their solitude and silence, they refresh us and give rest. These valleys are what my Beloved is to me.’”

(Collected from GCCM)

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

যিশু খ্রিস্টের মতোই পালাতে বাধ্য : কিছু উপলব্ধি ও কিছু সুপারিশ


ক. পোপ ফ্রান্সিস এর বাণী'র আলোকে কিছু উপলব্ধি

পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস গৃহহারা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের যারা সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সংগঠিত করছেন তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং আগামী রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দে ‘১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস’ উদযাপনের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান রেখেছেন। এ দিবসের মূল প্রতিবাদ্য বিষয় হিসেবে নিয়েছেন- অভিবাসী ভাইবোনেরা "যিশু খ্রিস্টের মতোই পালাতে বাধ্য" (“Like Jesus Christ, Forced to flee”)। শিশু যিশু পিতামাতার সাথে মিশরে যাওয়ার সময় শরণার্থী হিসেবে করুন পরিণতির অভিজ্ঞতা করেছেন। যা ভয়, অনিশ্চয়তা এবং উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় (মথি ২:১৩-২৩) । বর্তমান সময়ে লক্ষ লক্ষ অভিবাসী পরিবার একই দুঃখময় বাস্তবতা অতিক্রম করছে। যা আমরা অবিরত টেলিভিশন, পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি। তারা ক্ষুধা, যুদ্ধ ও ভয়াবহ বিপদ থেকে পালিয়ে পরিবারের সুরক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সন্ধান করছে। রাজা হেরোদের নিকট থেকে যিশুই জীবন বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ক্ষুধার্ত, তৃর্ঞ্চাত, বস্ত্রহীন, অসুস্থ, অপরিচিত এবং বন্দীদের মধ্যে খ্রিস্টের প্রতিচ্ছবি রয়েছে এবং তারা আমাদের কাছে সাহায্য চায় (মথি ২৫:৩১-৪৬)। সেই মুখগুলিকে চিনতে পারলে তখনই মাত্র তাদের দেখতে, ভালবাসতে এবং সেবা করতে সক্ষম হতে পারি। পোপ মহোদয় বলেছেন- যদিও আমাদের দৃষ্টিতে তাদের চিনতে পারা খুব কঠিন হয়ে পড়ে- তাদের বস্ত্র ছিন্ন, পা নোংরা, চেহারা মলিন, দেহ অবসন্ন, জিহ্বা আমাদের ভাষায় কথা বলতে পারেনা। 

পোপ ফ্রান্সিস ২০১৮ সালের অভিবাসী এবং শরনার্থীদের পালকীয় সেবা কাজে চারটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন- তাদের  স্বাগত জানানো, সুরক্ষা দেয়া, সংবর্ধিত করা ও সংযুক্ত করা । ২০২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি আরও ছয়টি বিষয় যুক্ত করেছেন যা বাস্তব কাজের সাথে সমন্বিত এবং কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত- যেমন: (১) বুঝার জন্য তাদের জানতে  হবে; (২) সেবার জন্য তাদের কাছে যেতে হবে; (৩) পুনর্মিলনের জন্য তাদের কথা শোনতে হবে; (৪) বেড়ে ওঠার জন্য তাদের সাথে সহভাগিতা করতে হবে; (৫) সংবর্ধিত করার জন্য তাদের সংযুক্ত করতে হবে এবং (৬) গঠনদানে জন্য তাদের সহযোগিতা করতে হবে । এ বিষয়সমূহ অনুধ্যান করে আভিবাসী, উদ্বাস্তু, বাস্তুচ্যুত বা শরণার্থী ভাইবোনদের চিনতে, জানতে ও দয়ার কাজ করতে সক্ষম হতে পারি।

১.  বুঝার জন্য তাদের জানতে  হবে 

জ্ঞান হলো আগামী দিনে অন্যকে জানার প্রয়োজনীয় একটি ধাপ। এম্মাউস পথে যিশু নিজেই শিষ্যদের কাছে এসেছেন, একত্রে কথোপকথন করেছেন, তাদের সাথে সাথে পথ চলেছেন কিন্তু তাদের চোখ তাকে চিনতে পারেনি (লুক ২৪:১৫-১৬)। অভিবাসী এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কথা বলার সময় প্রায়ই তাদের সংখ্যা জেনে থেমে যাই কিন্তু এটা শুধু সংখ্যার বিষয় নয় বরং এটি প্রকৃতভাবেই মানুষের বিষয়। আমরা যদি বাস্তুচ্যুত গৃহহীন মানুষের মুখোমুখি হই তাহলে আমরা তাদের গল্পগুলি জানতে পারবো এবং তাদের আরোও বেশী বুঝতে সক্ষম হবো। 

২. সেবার জন্য তাদের কাছে যেতে হবে

পবিত্র বাইবেলে পাঠ করে থাকি- কিন্তু একজন সামারীয় পথিক যেতে যেতে একজন পথিককে দেখতে পেল, তাকে দেখে তার করুণা হলো এবং সে তার ক্ষতগুলি বেঁধে দিল ও ক্ষত স্থানে তেল ও দ্রাক্ষারস মাখিয়ে দিল। সে তাকে তার বাহনে চড়িয়ে একটি সেবাকেন্দ্রে নিয়ে গেল এবং তাকে সেবাযত্ন করতে লাগল (লুক ১০:২৫-৩৭)। ভয় ও কুসংস্কার অভিবাসীদের থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখে এবং প্রায় সময়ই প্রতিবেশী হয়ে তাদের সেবা করতে ও ভালবাসতে বাঁধা প্রদান করে। অন্যের কাছাকাছি আসার অর্থ হলো অন্যের জন্য ঝুঁকি নেওয়া যা সম্প্রতি মাসগুলিতে ডাক্তার নার্সরা আমাদের শিখিয়েছেন। তাদের কাছে যাওয়া এবং সেবা করার প্রস্তুতি নিছক কর্তব্যবোধের বাইরে। যীশু আমাদের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ দিয়েছেন যখন তিনি তাঁর শিষ্যদের হাত ধুয়ে দিলেন- তিনি তার জামাটা খুলে ফেললেন, হাটু গেড়ে বসলেন এবং নিজ হাতে তাদের ময়লা পা পরিস্কার করলেন (যোহন ১৩:১-১৭)। 

৩. পুনর্মিলনের জন্য তাদের কথা শোনতে হবে

মানুষের কান দিয়ে যিশু খ্রিস্ট মানব আর্তনাদের কথা শুনেছেন- ঈশ্বর পৃথিবীকে এতই ভালবাসলেন যে তিনি তার একমাত্র পুত্রকে দান করলেন যেন এই পৃথিবী তার মধ্য দিয়ে রক্ষা পায় (যোহন ৩:১৬-১৭)। একটি ভালবাসা যা মিলন ও রক্ষা করে তা শোনা’র মধ্য দিয়েই শুরু হয়। বর্তমান পৃথিবীতে অভিবাসীদের সম্পর্কে বহুবিধ আলোচনা হচ্ছে কিন্তু তাদের কথা শোনার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও আমরা নম্রভাবে এবং মনোযোগ সহকারে তাদের গল্প শুনে সত্যিকার অর্থে মিলিত হতে পারি। পুনর্মিলনের জন্য পৃথিবীতে যারা দূর্বল, যারা বাস্তুচ্যুত এবং দুর্দশাগ্রস্থ সেই সকল মানুষের কথা আমাদের শুনতে হবে। গল্প-শোনা অভ্যাস আমাদেরকে প্রতিবেশীদের, বঞ্চিতদের এবং ঈশ্বরের সাথে মিলনের সুযোগ করে দেয়। 

 ৪. বেড়ে ওঠার জন্য তাদের সহভাগিতা করতে হবে

 আদি খ্রিস্টমণ্ডলীতে সহভাগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা দৃষ্টান্ত। তখন বিশ্বাসী সমাজে সবাই ছিলেন একমন একপ্রান, তারা কেউই কোন জিনিসকে তাদের নিজেদের বলে দাবী করতেন না কিন্তু সবকিছুই তাদের নিজেদের সম্পত্তি ছিল (শিষ্যচরিত ৪:৩২)। ঈশ্বর এই পৃথিবীর সম্পদকে কখনই কিছু মানুষের সুবিধার জন্য দিয়ে দেননি। এই সবই হলো ঈশ্বরের সম্পদ। একে অপরের বেড়ে উঠার জন্য সহভাগিতা করা আমাদের শিখতে হবে এবং কেউই যেন পিছনে পড়ে না থাকে। মহামারী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে আমরা সবাই একই নৌকার মধ্যে আছি। আমাদের অনুধাবন করতে হবে যে, আমরা সবাই একই উদ্বিগ্ন, একই ভয়ের মধ্যে আছি, আমরা কেউই এককভাবে বাঁচতে পারবো না। সত্যিকারভাবে বেড়ে ওঠার জন্য আমাদের একসঙ্গে বেড়ে উঠতে হবে, আমাদের যা আছে তা সহভাগিতা করতে হবে, সেই বালকের মত যে তার পাচঁটি রুটি দুটি মাছ যিশুকে দিয়েছিল এবং প্রমানিত হয়েছিল যে পাচঁ হাজার লোকের জন্য তা যথেষ্ট ছিল (যোহন ৬:১-১৫)। 

৫. সংবর্ধিত করার জন্য তাদের সংযুক্ত করতে হবে

অভিবাসীদের অগ্রগতির প্রক্রিয়ায় তাদের জড়িত করতে হবে। যিশু যেভাবে সামারীয় নারীর প্রতি করেছিলেন (যোহন ৪:১-৩০)- যিশু তার কছে গেলেন, তার কথা শুনলেন, তার হৃদয়ের কথা বললেন, সত্যের পথে পরিচালিত হতে এবং সুসংবাদ প্রচারের জন্য তাকে অগ্রদূত করলেন- "এসো তোমরা, দেখে যাও একজনকে : জীবনে আমি যা করেছি, তিনি তা সবই আমাকে ব’লে দিয়েছেন! তাহলে তিনি কি সেই খ্রিস্ট নন?" যদি আমরা তাদের সত্যিই সংবর্ধিত করতে চাই তাহলে তাদের সংযুক্ত করা উচিত, অবশ্যই তাদের সাথে আমাদের যুক্ত হতে হবে এবং তাদের মুক্তির জন্য তাদেরকেই অগ্রগামী করে তুলতে হবে। এই মহামারি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একে অপরের পাশাপাশি থাকাটা কতটা প্রয়োজন এবং সেটিই হলো প্রত্যেকের অবদান। উৎসাহ প্রদান করতে হবে যেখানে প্রত্যেকেই স্বীকৃত হবে এবং তারা বুঝবে যে আতিথেয়তা, ভ্রাতৃত্ব এবং সৌহার্দ সম্প্রীতির নতুন আঙ্গিকে তাদের আহ্বান করা হয়েছে।

৬. গঠনদানে জন্য তাদের সহযোগিতা করতে হবে

প্রেরিতশিষ্য পৌল করিন্থীয়দের কাছে বলেছেন- আমি যিশু খ্রিস্টের নামে তোমাদের কাছে একান্ত  আবেদন জানাই, ভাইয়েরা তোমরা ঐক্যমত থাক, তোমাদের মধ্যে যেন কোন মতবিরোধ না থাকে বরং তোমরা একই মনোভাব পোষণ করো এবং একই বিচার বিবেচনার বন্ধনে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাক (১ করিন্থীয় ১:১০)। ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য খ্রিস্টভক্তদের একই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে, এ কারণে আমাদের হিংসা-বিদ্বেষ, বিভাজন, প্রলোভন ভুলে অন্যকে সহযোগিতার শিক্ষা গ্রহন করা প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি নবায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে- "এটি আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার সময় নয়, আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছি তা ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে ওঠে একে অপরের সাথে সহভাগিতা করতে হবে" (Urbi et Orbi Message, 12 April 2020)। আমাদের একই আবাস ভূমির জন্য ঈশ্বরের প্রকৃত পরিকল্পনাকে আরও বেশী করে কার্যকর করতে হবে কাউকে বঞ্চিত করে নয় বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্ব সংহতি এবং স্থানীয় প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। 

খ. অভিবাসী ও শরণার্থীদের সেবাকাজের কিছু সুপারিশ

বর্তমানে অভিবাসন অবৈধ ও অপরিকল্পিত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন। মানুষের মৌলিক চাহিদা সেখানে বিপন্ন এবং শিশু ও নারীরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মানবিকতার বিচারে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে তাদের যত্ন নেয়া পৃথিবীর সকল মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ এ অভিবাসীদের দুর্যোগ এবং দুর্ভোগের পিছনে রয়েছে মানুষের স্বার্থপরতা, বিবেকহীন আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ড। আমাদের প্রতিটি ধর্মপল্লীর অধীনে অনেক অভিবাসী ভাইবোন আছে যারা প্রতিদিন আমাদের জীবন বাঁচাতে ও জীবন সাজাতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে- যেমন: গৃহ পরিচারিকা, ড্রাইভার, দারোয়ান, দিন-মজুর, বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি রক্ষণাবেক্ষণকারী, সেলুন বা পার্লারে কর্মরত, রিকশাচালক আরও অনেকভাবে সহায়তা করছে। আমাদের জীবনে তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সাধ্যমতো চেষ্টা করি বিপদ-আপদে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে অঙ্গীকার করি। আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পালকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাদের দুর্গতি কিছুটা হ্রাস করতে পারি- 

১. অন্তরে অনুভব করা জন্য বাণী ধ্যান করা

পোপ ফ্রান্সিস-এর বাণী নিজেরা পাঠ ও অনুধ্যান করে তাঁর মতো হৃদয় নিয়ে অভিবাসী ভাইবোনদের প্রতি আরও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ মানবীয় আচরণ এবং ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে পারি। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থাৎ আমাদের দেশ থেকে যারা অন্যদেশে কাজ, পড়াশুনা বা জীবনযাপনের জন্য অবস্থার করছে তাদের সাথে আধ্যাত্নিকভাবে একাত্ম হই।

২. দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য জ্ঞান অর্জন করা

পোপ মহোদয়ের বাণীর আলোকে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত জনগণের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারি। অভিবাসী ভাই-বোনদের অবস্থা জানা, বোঝা ও অনুধাবনের জন্য আলোচনা, সংলাপ ও ছোটো বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক প্রতিবেশি’র বিশেষ সংখ্যা : বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস (২০-২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) সংখ্যাটি থেকে সাহায্য নিতে পারি। 

৩. সেবাযত্নের জন্য প্রার্থনা ও বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে  

বরিবারের খ্রিস্টযাগে (২৭ সেপ্টেম্বর) পুরোহিতগণ অনুধ্যান ও উপদেশে পোপ মহোদয়ের বাণী এবং মথি রচিত মঙ্গলসমাচারের (২:১৩-২৩) আলোকে সহভাগিতা করতে পারেন। খ্রিস্টযাগের সময়, কনভেন্টের প্রার্থনায়, প্রতিষ্ঠানে অফিসের কার্যক্রম শুরুর আগে অভিবাসী ভাইবোনদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করতে পারি এবং পোপ ফ্রান্সিস এর বাণী পাঠ ও ধ্যান করতে পারি। যারা অভিবাসী হয়ে অন্যত্র যাচ্ছে তাদের বিশ্বাস, সাক্রামেন্ত,  বিবাহিত, আর্থিক ও সামাজিক জীবনের কিছু মৌলিক দিক নির্দেশনা খ্রিস্টযাগের উপদেশ, সেমিনার ও বিভিন্ন সভাতে আলোকপাত করা যেতে পারে। অভিবাসী প্রেরিত ও আগত উভয় স্থানেই পালকীয় যত্ন দরকার। 

৪. সেবাকাজ বিস্তারের জন্য নতুন এলাকা যেতে হবে

আমাদের দেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট শহরের আশেপাশে এবং কোনাবাড়ী, ঘোড়াশাল, পলাশ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, পাবনা, হবিগঞ্জ এলাকায় খ্রিস্টভক্তগণ কাজের তাগিদে বসবাস শুরু করছে। সেবাকাজের জন্য তাদের কাছে যেতে হবে।ন্যায় ও শান্তি কমিশন ইতিমধ্যে এসব এলাকায় কিছু কিছু কার্যক্রম আরম্ভ করেছে।নিকটতম ধর্মপল্লীসমূহ এসব এলাকায় পালকীয় কাজের জন্য সৃজনশীল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।

৫. অগ্রগতির জন্য কর্মকাণ্ডে তাদের সংযুক্ত করতে হবে 

স্থানীয় ও অভিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করে একত্রে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও একত্রে বেড়ে উঠার পরিবেশ তৈরি করতে পারি। স্থানীয় সমাজের উন্নয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অবদান অনুধাবন করা ও স্বীকৃতি দেয়া দরকার। তাদেরকে স্থানীয় সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কাঠামোতে সাধ্যমতো অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে যাতে তারা আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। ধর্মপল্লীর পালকীয় কাজে অভিবাসীদের সম্পৃক্ত করতে ও তাদের প্রয়োজনে সাড়াদান করতে পারি। ক্রেডিট ইউনিয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে পারি।

৬. তালিথা কুম নেটওয়ার্কিং (Talitha Kum Networking) 

মানবপাচারের বিরুদ্ধে ও অভিবাসীদের সেবা প্রদানের জন্য তালিথা কুম নেটওয়ার্কিং একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। পোপ ফ্রান্সিস সরাসরি তাদের সেবাকাজে অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। কাথলিক মণ্ডলীর বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের সিস্টারগণ মিলিতভাবে কাজ করে থাকে এবং বিভিন্ন সংগঠনসমূহকে সম্পৃক্ত করেন।যা ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ৭০টি দেশে সেবা প্রদান করছে। সদস্যগণ মার্ক লিখিত মঙ্গলসমাচােরের (৫:৪১) অনুপ্রেরণা অন্তরে নিয়ে সেবাকাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও মানবপাচারের বিরুদ্ধে ও অভিবাসীদের মাঝে এ সংগঠনের সেবাকাজ বিস্তার করতে পারি। ইতিমধ্যে ন্যায় ও শান্তি কমিশনের সাথে তালিথা কুম নেটওয়ার্কিং এর যোগযোগ রয়েছে। পোপ ফ্রান্সিস এ বছর শুরুতে তাদের কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে আর্থিক অনুদান সংগ্রহের ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছেন।

 ৭. অভিবাসীদের করণীয় কিছু  দিকনির্দেশনা

অভিবাসী ভাইবোনদের পক্ষ থেকে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দরকার- যেমন: (ক) নতুনভাবে যে সমাজে বসবাস করছে শুরুতেই স্থানীয় সমাজনেতা অথবা পাল-পুুরোহিতের সাথে যোগাযোগ করা, এতে করে সাক্রামেন্তিয় বিষয়সমূহ নিয়ে যেন সুন্দর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়; (খ) খ্রিস্টিয় জীবনযাপনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া, সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশগ্রহণ করা; (গ) বাড়িতে রেখে আসা আপনজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা;  (ঘ) কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয়ে সচেতন হওয়া, অর্থ অপচয় থেকে বিরত থাকা, আপৎকালীন তহবিল গঠন করা এবং প্রতারকদের নিকট থেকে দূরে থাকা; (ঙ) ক্রেডিট ইউনিয়নে হিসাব খোলা ও শুরু থেকে নিজে সঞ্চয় ও কিস্তি জমা দেওয়া, নিজের আপনজন ব্যতিত অর্থ লেনদেন থেকে বিরত থাকা; (চ) শ্রমিক বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ ব্যবসায়ে জড়িতরা সরকারি বিধি-নিষেধ ও প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা অনুযায়ী একটি পছন্দসই পেশায় স্থায়ী হওয়া; এবং (ছ) ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসী ভাইবোনদের সাথে সুন্দর সংলাপ ও সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলতে পারে।স্থায়ী বা অস্থায়ী বসতির ক্ষেত্রে নিজের বিবেক-বিবেচনা ব্যবহার করে এমনসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিজের জীবনযাপন সুখময় করতে পারে। 

আমাদের বিশ্বাস, আশা  দয়ার কাজের মাধ্যমে একই পিতার সন্তান হিসেবে সকলে পরস্পর ভাই-বোন হিসেবে জীবনযাপন করতে পারব ও একত্রে মিলে সমাজে আরও সক্রিয় হতে উঠতে পারবো। এতে যিশু খ্রিস্টের মতোই যারা পালাতে বাধ্য হয়েছে তাদের দুর্গতি কিছুটা কমাতে পারবো।


তথ্যসুত্র: অর্পা কুজুর- বাংলা অনুবাদ (MESSAGE OF HIS HOLINESS POPE FRANCIS FOR THE 106TH WORLD DAY OF MIGRANTS AND REFUGEES 2020)|




সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

 


ঢাকা/চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশ - বরিশাল/দিনাজপুর/খুলনা/ময়মনসিংহ/রাজশাহী/সিলেট ধর্মপ্রদেশ

বিষয়: "১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস" (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) উদযাপন  

             প্রসঙ্গে।

শ্রদ্ধেয় ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার ও খ্রিস্টিয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ,

ন্যায় ও শান্তি কমিশন-সিবিসিবি’র পক্ষ হতে শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন! পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস গৃহহারা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের যারা সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সংগঠিত করছেন তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন এবং আগামী রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, "১০৬তম বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস" উদযাপনের জন্য বিশ^বাসীর প্রতি আহ্বান রেখেছেন। 

পোপ মহোদয় এ বছর অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত জনগণের পালকীয় সেবাযতেœর উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং মূল প্রতিপাদ্য বিষয়  হিসেবে ঘোষণা করেছেন, "যিশু খ্রিস্টের মতোই পালাতে বাধ্য" (“Like Jesus Christ, Forced to flee”)। পোপ মহোদয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রার্থনা ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পালকীয় কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি অর্থপূর্ণ করতে পারি। ফলে অভিবাসী ভাইবোনেরা বিশেষভাবে করোনামহামারীর সময়ে গরিব, দুঃস্থ, অবহেলিত, নানাধরনের ঝুঁকি ও বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিতদের আশ্রয়, সুরক্ষা, উন্নয়ন ও স্থানীয় সমাজে (হোস্ট কমিউনিটি) একত্রে মর্যাদাসহ জীবনযাপন করতে পারবে। 

১. পুণ্যপিতা পোপ ফ্রান্সিস-এর সংক্ষিপ্ত বাণী নিজেরা পাঠ ও অনুধ্যান করে তাঁর মতো হৃদয় নিয়ে অভিবাসী ভাইবোনেরা যারা আমাদের জন্য কাজ করে অথবা বসবাস করে তাদের এবং আমাদের আশেপাশে বসবাসরত অভিবাসী ভাইবোনদের প্রতি আরও শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ মানবীয় আচরণ করতে পারি। আমাদের দেশ থেকে যারা বিভিন্ন দেশে কাজ, পড়াশুনা বা জীবনযাপনের জন্য অবস্থান করছে তাদেরও স্মরণ করতে পারি।

২. পোপ মহোদয়ের বাণীর আলোকে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী ও বাস্তুচ্যুত জনগণের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনে পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারি। অভিবাসী ভাই-বোনদের অবস্থা জানা, বোঝা ও অনুধাবনের জন্য আলোচনা, সংলাপ ও ক্ষুদ্র দলে বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক প্রতিবেশি’র বিশেষ সংখ্যা : বিশ্ব অভিবাসী ও শরণার্থী দিবস (২০-২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ) সংখ্যাটি থেকে সাহায্য নিতে পারি।

৩. বরিবারের খ্রিস্টযাগে (২৭ সেপ্টেম্বর) পুরোহিতগণ অনুধ্যান ও উপদেশে পোপ মহোদয়ের বাণী এবং মথি রচিত মঙ্গলসমাচার ২:১৩-২৩ পদ সহভাগিতা করতে পারেন। খ্রিস্টযাগের সময়, কনভেন্টের প্রার্থনায়, প্রতিষ্ঠানে অফিসের কার্যক্রম শুরুর আগে অভিবাসী ভাইবোনদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করতে পারি। ধর্মপল্লীর পালকীয় কাজে অভিবাসী ভাইবোনদের সম্পৃক্ত করতে ও তাদের প্রয়োজনে সাড়াদান করতে পারি। 

৪. স্থানীয় ও অভিবাসী ছেলেমেয়েদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করে একত্রে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও একত্রে বেড়ে উঠার পরিবেশ তৈরি করতে পারি। স্থানীয় সমাজের উন্নয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অবদান অনুধাবন করা, স্বীকৃতি দেয়া এবং তাদেরকে স্থানীয় সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কাঠামোতে সাধ্যমতো অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা যাতে তারা আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রেডিট ইউনিয়নে অভিবাসী ভাইবোনদের অংশগ্রহণ ও আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে পারি।

আমাদের প্রতিটি ধর্মপল্লীতেই অনেক অভিবাসী ভাইবোন আছে যারা প্রতিদিন আমাদের জীবন বাঁচাতে ও জীবন সাজাতে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে। যেমন- গৃহ পরিচারিকা, ড্রাইভার, দারোয়ান, দিন-মজুর, বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি রক্ষণাবেক্ষণকারী, সেলুন বা পার্লারে কর্মরত, রিকশাচালক আরও অনেকভাবে সহায়তা করছে। আমাদের জীবনে তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সাধ্যমতো চেষ্টা করি এবং বিপদ-আপদে সাধ্যমতো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে অঙ্গীকার করি।

আমাদের বিশ্বাস ও আশা, দয়ার কাজের মাধ্যমে একই পিতার সন্তান হিসেবে সকলে পরস্পর ভাই-বোন হিসেবে জীবনযাপন করতে পারব ও একত্রে মিলে সমাজে আরও সক্রিয় হতে উঠতে পারবো।

পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ডিডি, সভাপতি, সিবিসিবি ন্যায় ও শান্তি কমিশন, এর পক্ষে পত্রটি প্রেরণ করছি।

খ্রিস্টেতে,

ফা. লিটন হিউবার্ট গমেজ, সিএসসি জ্যোতি গমেজ

সচিব, ন্যায় ও শান্তি কমিশন, সিবিসিবি প্রধান সমন্বয়কারী, অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর




মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফাদার টিম এর মৃত্যুতে ডরপ এর গভীর শোক

 স্টাফ রিপোর্টার (ইউনাইটেড নিউজ ২৪.কম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ):  সুশাসন ও ন্যায্যতার জন্য, নারীর ক্ষমতায়ন ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ তথা সমাজ পরিবর্তনের পথিকৃৎ, আন্তর্জাতিক-জাতীয় থেকে উপদ্রুত এলাকার মাটি মানুষের সেতুবন্ধনের অন্যতম টিম লিডার ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম এর মৃত্যুতে বেসরকারি সংস্থা ডরপ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক শোক বার্তায় ডরপ পরিবার ফাদার টিমের আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন।

শোক বার্তায় বলা হয়, ১৯৭০ এর ১২ নভেম্বর উপকূলীয় অঞ্চলে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছাসের পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে মানুষের ‘সঙ্গে’ ও ‘জন্য’ থেকে নটর ডেম কলেজের প্রিন্সিপালের পদ ছেড়ে দিয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজ করেন ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম টিম। বৃহত্তর বরিশাল জেলার ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা ইউনিয়ন ও নোয়াখালীর রামগতিকে কেন্দ্র করে দুর্গতদের  মধ্যে আর্ত মানবতা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার কাজে নিয়োজিত হন। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত মনপুরার সবাই তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ও জানে। বাংলাদেশের প্রথম এনজিও ‘হেল্প’; মনপুরায় গুচ্ছগ্রাম ধারণা বাস্তবায়ন ও পরবর্তীতে রামগতির বিশ্বগ্রামের অংশী হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন।

ডরপ’র শোক বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলায় কথাবার্তা ও কৃষ্টি-কালচারসহ কাঁধে চটের ব্যাগ নিয়ে ফিফটি মটরসাইকেল চালিয়ে কাজে যাতায়াত করতেন তিনি। সরল নির্লোভ, আজীবন কুমার ৬৬ বছর বাংলাদেশে অবস্থান করেন। ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর বাঙ্গালীর উপর নৃশংস গণহত্যার বিরোধিতা করে দেশে-বিদেশে, যুক্তরাষ্ট্রে জনমত গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধত্তর এনজিও নেটওয়ার্ক ‘এডাব’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

শোক বার্তায় বলা হয়, ফাদার টিমের সাথে হাতিয়া-রামগতি-দৌলতখা নদীপথে স্টিমারে পরিচয় হওয়ার অনুপ্রেরণার সাথী, সিএ পড়া বাদ দিয়ে ‘ধ্বংস থেকে সৃস্টি’র উৎপাদন যোদ্ধা, উন্নয়ন সংগঠক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেসন অব দি রুরাল পুয়র- ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান। ফাদার টিম বাংলাদেশের বেসরকারি মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান ১৯৮৭ সালে ‌‘বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। বামাসপ বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, অনুষন্ধ্যান কাজের পত্তনি সংগঠন হিসাবে খ্যাত। উৎপাদন, উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচনে মা অধিকার সুরক্ষায় একই বছর ডরপ প্রতিষ্ঠা হয়। একই সালে বামাসপ এর সদস্য সংগঠন হয়ে ডরপ চরফ্যাসনে জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। বাংলাদেশের জন্য ফাদার টিমের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ছবিটি ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে তোলা।


উল্লেখ্য, ফাদার রিচার্ড উইলিয়াম বার্ধক্যজনিত ৯৭ বছর বয়সে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২০) যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম শহর ইন্ডিয়ানায় মৃত্যুবরণ করেন। (Collected)  Development Organisation of the Rural Poor-DORP, a national Non-Government Organization (NGO) established in 1987.